উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসনিক শাটডাউনের পরে পাঠদান বন্ধসহ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ মে) দুপুরে আন্দোলনকারীরা অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শাটডাউন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাউন্ড ফ্লোরে অবস্থান কর্মসূচি থেকে মঙ্গলবার (১৩ মে) দুপুর ২টার মধ্যে ভিসি পদত্যাগ কিংবা অপসারণ করা না হলে দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। তবে ইয়ার ফাইনাল ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা, পরিবহণ সেবা, লাইব্রেরি ও মেডিকেলসহ অন্যান্য জরুরি সেবা এর আওতামুক্ত থাকবে বলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান।
এর আগে রবিবার (১১ মে) দুপুরে শিক্ষক সমাজের উদ্দেশে পাঠানো এক খোলা চিঠিতে তারা বিষয়টি জানিয়েছিল। ওই দিন রাতে ভিসির পদত্যাগের দাবিতে তারা একটি মশাল মিছিল করে। এর আগে গত ৬ মে উপাচার্যর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের তালা ঝুলিয়ে শাটডাউন করা হয়। ।
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বৃহত্তর একটি অংশ। পরে আন্দোলনকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় গ্রাউন্ড
ফ্লোরে এসে শেষ হয়।
এর ফলে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২৫টি বিভাগের পরীক্ষা চললেও ক্লাস করতে দেখা যায়নি কোন শিক্ষার্থীকে। শাটডাউন থাকায় শিক্ষক কর্মকর্তাদের এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। বেশিরভাগ ক্লাসরুমই শূন্য। কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছেন। বিভাগের সামনে শিক্ষার্থীদের ভিড়ও দেখা যায়নি। তবে লাইব্রেরির রিডিং রুম ও মেডিকেল সেবা এবং পরিবহনসেবা সচল থাকতে দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, দীর্ঘ সময়ে প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের মারাত্মক ক্ষতির মুখে পরার পাশাপাশি
সেশনজটের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করে শিক্ষার্থীরাও ক্ষতির হাত থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মঞ্জুরি কমিশনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারি দাবি জানান শিক্ষকরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, 'উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আজ ২৮তম দিনে এসে ব্লকেড কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি। রাষ্ট্রপক্ষকে বারবার জানিয়েছি তারা আমাদের দিকে কোনো নজর দিচ্ছেন না। তারা যদি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চায় তাহলে আমাদের কিছু করার নাই। আগামীকাল দুপুর দুইটার মধ্যে উপাচার্য শুচিতা শরমিনকে সরানো না হলে দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেওয়া হবে।'
শিক্ষার্থী সুজয় বিশ্বাস সুভ বলেন, 'আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনকে মেনে নিয়ে উপাচার্য সরিয়ে দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলাম কিন্তু তারা আমাদের কথায় কোনো কর্ণপাত করেননি। আগামীকাল ২টার মধ্যে যদি উপাচার্য পদত্যাগ না করেন। তাহলে আমরা দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি। দাবি আদায়ের জন্য বরিশাল-কুয়াকাট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।'
আরেক শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, 'আন্দোলনের ২৮তম দিনে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীরা একসঙ্গে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আগামীকাল থেকে ব্লকেড কর্মসূচিতে যাচ্ছি।'
কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উপাচার্যের স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী কেউই ভালো নেই। এই ফ্যাসিস্ট মনোভাবের স্বৈরাচারী ভিসি যদি থাকে তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংস হয়ে যাবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার স্বার্থে আমরা শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আন্দোলন একাত্মতা প্রকাশ করে তাদের পাশে আছি।
সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সব যৌক্তিক আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি। অ্যাকাডেমিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে শিক্ষার্থীদের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মঞ্জুরি কমিশনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারি দাবি জানাচ্ছি।
মঈনুল/মেহেদী/