পরিবারের ছোট সন্তান শাহ মোহাম্মদ রাইয়ান পড়াশোনা করেছেন বাংলা মাধ্যমে। কিন্তু বিশ্বমানের শিক্ষা অর্জন আর নিজেকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার এক সুপ্ত ইচ্ছা ছিল তার মধ্যে। ঠাকুরগাঁওয়ের ছোট্ট এক শহরতলি থেকে সেই উদ্দেশ্যে প্রচেষ্টা শুরু। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে একসময়ের রবীন্দ্রসংগীতে পদকজয়ী, স্কাউট ইউনিফর্ম পরা এক কিশোর এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বাটলার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছেন। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া রাইয়ান এখন বাংলাদেশি তরুণদের অনুপ্রেরণার নাম।
২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক স্কাউট ক্যাম্পে অংশ নিতে গিয়েছিলেন রাইয়ান। সেখানকার মানুষের আন্তরিকতা এবং বৈচিত্র্যপ্রীতি তাকে ভীষণভাবে ভাবায়। সেই সময়ই রাইয়ান বুঝে ফেলেন, শুধু বাংলাদেশের গণ্ডিতেই নয়- বিশ্বগণ্ডিতে তার কিছু করার আছে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় বিদেশে পড়ার আকাঙ্ক্ষা। রাইয়ান বলেন, ‘স্কাউটিং আমার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছিল। আমার চিন্তাধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছিল সেখান থেকে আসার পর।’ বিদেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ এসেছিল রাইয়ানের সামনে। কিন্তু বাটলার ইউনিভার্সিটিকেই বেছে নিয়েছেন রাইয়ান। কারণ হিসেবে তিনি জানান, শুধু অ্যাকাডেমিক মান নয়, বরং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। তিনি সেখানে পড়ছেন ডেটা সায়েন্স নিয়ে।
রাইয়ানের প্রথমে গ্লোবাল এমার্জিং অ্যাওয়ার্ড হিসেবে পেয়েছিলেন ৩৮ হাজার ডলারের বৃত্তি। পরে তিনি মর্টন ফিনি ডাইভার্স স্কলার্স প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করেন। এরপর মাত্র ২০ মিনিটের সাক্ষাৎকার নেয় কর্তৃপক্ষ। ঠিক এর সাত দিন পর ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জনের খবর জানিয়ে ইমেইল পাঠায় তারা। আনন্দে আত্মহারা হন রাইয়ান। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য এটি ছিল চাঁদে পৌঁছানোর মতো আনন্দের মুহূর্ত।’ রাইয়ান ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ এবং এইচএসসিতে ৪.৭৫ পেয়েছিলেন। বাংলা মাধ্যম থেকে পড়াশোনা করেও আইইএলটিএসে ৮.০ এবং স্যাটে ১৫৮০ স্কোর করে তার যোগ্যতার প্রমাণ দেন।
রাইয়ান কেবল পড়াশোনাতেই নয়, দেশে থাকতে সংস্কৃতি ও সমাজসেবাতেও সক্রিয় ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে পেয়েছেন সঙ্গীতে স্বর্ণ, রূপা ও ব্রোঞ্জ পদক। প্রেসিডেন্ট’স স্কাউট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ২০১৯ সালে। তিনি ‘পেট সিকিউর’ সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রাণী উদ্ধার ও দত্তক কার্যক্রম চালিয়েছেন। বন্যা ত্রাণ, গাছরোপণ এমন নানা কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
রাইয়ান আজ যেখানেই থাকুক, তার শিকড় যে বাংলাদেশের মাটিতে, তা তিনি ভোলেননি। বিদেশে উচ্চ শিক্ষা নিতে আগ্রহী তরুণদের উদ্দেশে পরামর্শ হলো- ‘কখনো আশা হারাবেন না। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখুন। দুশ্চিন্তা বা হতাশা যেন আপনার গল্প শেষ করে না দেয়। আর সব সময় চেষ্টা চালিয়ে যান আপনার লক্ষ্য সামনে রেখে। আর বড় ভাইবোনদের পরামর্শ নিবেন, সঙ্গে ভালো খাওয়া-দাওয়া এবং ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করে যাবেন।’
/রিয়াজ


