রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ এবং সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদে ভিপি (সহসভাপতি) পদে ২০টি এবং জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ১৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। মোট ৩২২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে রাকসুতে ২৬০টি এবং সিনেটে ৬২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। হল সংসদ নির্বাচনে ১৫টি পদে ১৭টি হলে মোট ৬০৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত রবিবার সন্ধ্যায় রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এসব তথ্য জানান।
অন্যান্য পদের মধ্যে সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ১৬, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক পদে ৯, সহকারী ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক পদে ৬, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক পদে ১১, সহকারী সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক পদে ৯, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক পদে ৭, সহকারী মহিলাবিষয়ক সম্পাদক পদে ৮, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক পদে ১৩ এবং সহকারী তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মিডিয়া ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক পদে ১০, সহকারী মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ১০, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদে ৯, সহকারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদে ৮, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক পদে ৯, সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক পদে ৬, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক পদে ১২, সহকারী পরিবেশ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক পদে ১৮ এবং নির্বাহী সদস্যপদে ৫৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
১৭ হলে প্রার্থী ৬০৩
রাকসুতে প্রতিটি হলে ১৫টি পদে হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৭টি হলে নির্বাচনে অংশ নিতে মোট ৬০৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। শেরেবাংলা ফজলুল হক হলে ৪১, শাহ মখদুম হলে ৪৩, নবাব আব্দুল লতিফ হলে ৩০, সৈয়দ আমীর আলী হলে ৪০, শহিদ শামসুজ্জোহা হলে ৩৮, হবিবুর রহমান হলে ৪৯, মতিহার হলে ৪৮, মাদার বখশ হলে ৪২, হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী হলে ৫১, শহিদ জিয়াউর রহমান হলে ৪৬ এবং বিজয়-২৪ হলে ৩৫ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
ছাত্রীদের মন্নুজান হলে ২৬, রোকেয়া হলে ২২, তাপসী রাবেয়া হলে ২৪, বেগম খালেদা জিয়া হলে ২০, রহমতুন্নেসা হলে ২১ এবং জুলাই-৩৬ হলে ২৭ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে।’
সর্বশেষ সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রার্থিতার তালিকায় আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, ১৩ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার এবং ১৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনে ভোট গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশিত হবে।
‘রাকসু ফর রেডিক্যাল চেঞ্জ’ নামে প্যানেল ঘোষণা
রাকসু নির্বাচনে ‘রাকসু ফর রেডিক্যাল চেঞ্জ’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্যানেলে ভিপি এবং জিএস পদে নির্বাচন করবেন পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউমেন রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মারুফ এবং উর্দু বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আফরিন জাহান। গতকাল সোমবার বেলা ৩টায় রাকসু ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল ঘোষণা করেন রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সদস্যসচিব আমানুল্লাহ খান।
মেহেদী হাসান মারুফ শাখা ছাত্র অধিকারের সভাপতি এবং আফরিন জাহান বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরণ লেখক ও পাঠক সূতিকাগারের সাবেক সভাপতি। প্যানেলের অন্যরা হলেন, এজিএস পদপ্রার্থী আল শাহরিয়া শুভ, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মেহেদী হাসান মাসুম, সহ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. রিদুয়ানুল হক ইমন, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রাতুল মাহমুদ, সহ-সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মুবতাসিন ফুয়াদ ধ্রুব, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আবিদা আক্তার লাবণী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক গাজী ফারহান লাবিব, সহ-মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক জুহাইম তামিম, সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এফ এম যুবায়ের হাসান, বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক রমজানুল মোবারক, সহ-বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক নাজমুল ইসলাম, পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্যপদে লড়বেন সজীব হোসাইন, ওয়াজিদ শিশির, মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং আব্দুল হামিদ লড়াই করবেন।