ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কল্যাণে পৃথক অধিদপ্তর গঠনের আশ্বাস দিলেন মির্জা ফখরুল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা হরিণাকুন্ডুতে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য বিপদ: এরদোয়ান সিলেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে প্রশাসনের অভিযান মুকসুদপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিল অব এন্ট্রি ও বিল অব এক্সপোর্ট কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকছে প্রথমবার মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়াল ব্যক্তিগতভাবে আমি মৃত্যুদণ্ড বিরোধী: আইনমন্ত্রী বাংলা কিউআর: ক্যাশলেস বাংলাদেশের পথে নতুন বিপ্লব ভ্যানচালকের আর্জেন্টিনা প্রেম মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা: আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় প্রশংসা সৌদি হজমন্ত্রীর অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাবনা বাড়ছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ সংস্থা বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি? পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিচুক্তি অনিশ্চিত কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার ব্যবস্থা করলেন টাঙ্গাইলের ডিসি বরাদ্দ অর্থের ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে চার স্তরে মজুত, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নারী ও শিশুর সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ভোটের দায়িত্বে মারা গেলে ১০ লাখ টাকা পাবে পরিবার মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পোশাক শিল্পের জন্য অশনি সংকেত: ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে আলোচনা বিলম্ব করার ‘মূল্য দিতে হবে’: ট্রাম্প আড়াইহাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার পাবনায় সন্তানের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩ গাজীপুরে বাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষার্থী আহত সিংগাইরে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যু: ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা চার দিনের সংগীত উৎসবে মেতে উঠছে ঢাকা সরকারি ভাতা বিতরণে নগদের প্রতি আস্থা অব্যাহত
Nagad desktop

জাকসু নির্বাচনে এখনও ভোট গণনা চলছে

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৭ এএম
জাকসু নির্বাচনে এখনও ভোট গণনা চলছে
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর (জাবি) বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে এখনও ভোট গণনা চলছে। জানা গেছে, জাকসু ফলাফল প্রকাশ করতে আজ বিকেল চারটা বেজে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত তিন হলের ভোট গণনা শেষ হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে ভোট গণনা শুরু হয়। এর আগে বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে চলে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

সকাল ৯টায় জাকসু ও হল সংসদের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলকে কেন্দ্র করা হয়। ২১ কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৮৯৭। এর মধ্যে ছাত্র ছয় হাজার ১১৫ এবং ছাত্রী পাঁচ হাজার ৭২৮ জন।

ভোটগ্রহণের শুরুতেই হোঁচট খেতে দেখা জাকসুর নির্বাচন কমিশনকে। কোথাও ব্যালট পেপার না পৌঁছানোয় দেরিতে ভোট শুরু করতে হয়। আবার কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। একটি কেন্দ্রে ছিল না আঙুলে দেয়া অমোচনীয় কালিও।

এর আগে শিবির সমর্থিত প্যানেল বাদে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নতুন তফসিলের মাধ্যমে পুনর্নির্বাচনের চূড়ান্ত দাবি জানিয়ে জাকসু নির্বাচন বয়কট করেছে অন্যান্য প্যানেল।

সুমন/

জাকসু ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ: পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন সংকট

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
জাকসু ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব শেষ: পদে বহাল থাকা নিয়ে নতুন সংকট
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলামের নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর তাদের পদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অধ্যাদেশ অনুসারে তাদের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান আর বহাল নেই। তবে তারা এখনও জাকসুর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রি অর্ডিন্যান্সের ৬.১ ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ব্যর্থ হলে বা উত্তীর্ণ না হলে কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য হবেন না। বিভাগীয় সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে একবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিয়মিত ছাত্রত্ব থাকে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা জানান, নিয়মিত মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়তে হয়। এরপর তারা আর নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচিত হন না। প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি ও বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবেদা সুলতানাও একই কথা বলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নিয়মিত মাস্টার্স ২০২২-এ একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুসারে নিয়মিত মাস্টার্সে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বৈধ ভোটার হিসেবে বিবেচিত হন। কিন্তু নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচে) এর মাস্টার্স পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রত্বের বৈধতা হারিয়েছে জাকসু ভিপি জিতুর।

ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, “ইনস্টিটিউটের নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচ) পরীক্ষা শেষ হয়েছে। জিতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাকে বিধি অনুসারে বিশেষ পরীক্ষা দিতে হবে।”

অন্যদিকে জিএস মাজহারুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের থিসিস গ্রুপের শিক্ষার্থী। তবে তিনি একবছর ড্রপ দেওয়ায় গত মাসে অর্থাৎ মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে ছাত্রত্ব শেষ করেন জাকসু জিএস মাজহার। বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, জাকসুর জিএস মাজহার তার একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করেছে। এখন ফলাফল প্রকাশ করা বাকি রয়েছে।

জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “জাকসুর সদস্য হওয়ার নীতিমালা সুস্পষ্ট থাকলেও নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষে পদ ছাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। তবে আমি নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী কার্যনির্বাহী সভায় নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর পদত্যাগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব আনা হবে।”

ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “জাকসুর কারা প্রার্থী হতে পারবে তা উল্লেখ থাকলেও কারো ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলে তখন কী হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। যেহেতু গঠনতন্ত্রে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ নেই, তাই পদে থাকা না থাকা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।”

নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩ এ জিতু পরীক্ষায় অংশ নেননি জানিয়ে বলেন, তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থী না হলেও অনিয়মিত হিসেবে এখনো শিক্ষাজীবন আছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।”

উল্লেখ্য যে, জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো কারণে জাকসুর ভিপি ও জিএস এর পদ শূন্য হলে জ্যেষ্ঠ কার্যনির্বাহী সদস্য ও জ্যৈষ্ঠ সহসাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে ভারপ্রাপ্ত ভিপি ও ভারপ্রাপ্ত জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন  

আমানউল্লাহ খান/এসএন

 

প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই রাবি শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই রাবি শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস
নিহত শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি ছাত্রাবাস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

​নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলা অবস্থায়ই গলায় ফাঁস নেয় সে।

​মাহফুজের সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুরের সঙ্গে কিছুদিন ধরে তার এক বান্ধবীর সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। আজ দুপুরে আনুমানিক দুইটার দিকে তাদের মধ্যে ভিডিও কলে কথা হচ্ছিল। কথা বলার একপর্যায়ে ওই বান্ধবী মেস ম্যানেজারের মুঠোফোনে কল দিয়ে মাহফুজের কক্ষে দ্রুত যেতে বলেন। মেস ম্যানেজার ও সেখানে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা গিয়ে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এরপর একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর কক্ষের দরজা খুলে গেলে মাহফুজকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মাহফুজুরের সহপাঠী মোবাল্লেক জানান,  মাহফুজুরের প্রায় ৪-৫ বছর ওই মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল। মাঝে কিছুদিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে কিন্তু সেটার সমাধান হয়েছিল। ঈদের বন্ধে সবাই বাড়িতে চলে যাওয়ায় আর মাঝে যোগাযোগ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি বলেন, মাহফুজুরের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। মরদেহটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ফ্রিজিং ভ্যানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চাচ্ছি ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বলেন, আমরা মরদেহের সুরতহাল পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

​তিনি আরও বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নিহতের পরিবার, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা না চাইলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

শাকিবুল হাসান/এসএন

 

জেডআরএফ‘র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব জোবাইদা রহমানের

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব জোবাইদা রহমানের
বক্তব্য রাখছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) সহসভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বর্তমান পৃথিবীকে আরো সুন্দর বাসযোগ্য ও সবুজ করে রেখে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) সহসভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। এজন্য বৃক্ষরোপণকে এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর, স্কুল পাঠ্যক্রমে সবুজ স্বেচ্ছাসেবা এবং গ্রীন ভলেন্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠনের উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জেডআরএফ- এর উদ্যোগে ‘মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ’ এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তা উঠে আসে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বর্তমান পৃথিবীকে আরো সুন্দর বাসযোগ্য ও সবুজ করে রেখে যাবো। সুন্দর নিবিড় সৌন্দর্যে নির্মল হবে এদেশের প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি শহর। বৃক্ষরোপণকে শুধু গতানুগতিক কর্মসূচির মধ্যে না রেখে বরং জনগণের অংশগ্রহণে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের এক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর করতে হবে। গ্রীন ভলেন্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশ স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা যায়। শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করতে স্কুল পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা যায় সবুজ স্বেচ্ছাসেবা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানাবো বিজ্ঞানের অভিনব ইনোভেশনের মাধ্যমে আমাদের অনগ্রসর দেশটাকে নিশ্চয়ই সাহায্য করা যায়।’

বিজ্ঞান মনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানের অভিনব উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি ও জাতীয় উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এলক্ষ্যে সরকার আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা কর্মসূচি পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও বিজ্ঞান মনস্ক জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’

এসময় জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবাষিকী পালন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় জেডআরএফ- এর নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। 

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল চত্বরে নিম গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডা. জোবাইদা রহমান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ প্রক্টর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই দিনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ১০:২২ এএম
শাবিপ্রবিতে ৩২৫ গবেষকের অংশগ্রহণে ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সিম্পোজিয়াম
ছবি: খবরের কাগজ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি বিভাগ দুই দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করতে যাচ্ছে।

আগামী ১৭-১৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য 'ইন্টারন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম অন কোস্ট, ক্লাইমেট অ্যান্ড কমিউনিটি' শীর্ষক এই সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মোট ৩২৫ জন গবেষক অংশ নেবেন এবং ১১৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে।

সিম্পোজিয়ামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক, এবং উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

সোমবার (৯ জুন) শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিভাগের শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের সূত্রে জানা যায়, সিম্পোজিয়ামে একটি প্লেনারি সেশন, পাঁচটি টেকনিক্যাল সেশন, একটি পোস্টার সেশন এবং একটি ওয়ার্কশপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্লেনারি সেশনের প্লেনারি স্পিকার হিসেবে থাকবেন আয়ারল্যান্ডের 'ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিন'-এর অধ্যাপক ড. ক্যারেন উইল্টশায়ার, যিনি জার্মানির বিশ্বখ্যাত আলফ্রেড ওয়েগেনার ইনস্টিটিউটের সাবেক ভাইস ডিরেক্টর।

এ ছাড়াও থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তানের গবেষকরা এই সেশনে আলোচক হিসেবে অংশ নেবেন।

টেকনিক্যাল সেশনগুলোতে সুনীল অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠির জীবনযাত্রা ও বিকল্প জীবিকা, সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান, মেরিকালচার, সামুদ্রিক ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক দূষণ বিষয়ে মোট ১১৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হবে- যার মধ্যে ৮০ টি ওরাল প্রেজেন্টেশন (মৌখিক উপস্থাপনা) ও বাকি ৩৫ টি পোস্টার আকারে উপস্থাপিত হবে।

ওয়ার্কশপে শাবিপ্রবির ওশেনোগ্রাফি বিভাগ কর্তৃক ডেভেলপকৃত লো-কস্ট ওশান মনিটরিং ডিভাইসটি প্রদর্শন ও বিতরণ করা হবে।

এই সেশনে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

সিম্পোজিয়ামের পার্টনার হিসেবে রয়েছেন নিপ্পন ফাউন্ডেশন এবং পার্টনারশিপ ফর অবজার্ভেশন অব গ্লোবাল ওশান (পোগো) ও তাদের অর্থায়নে পরিচালিত স্যাজিটা প্রজেক্ট।

এ ছাড়াও পার্টনার হিসেবে রয়েছেন জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজি, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডায়ালগ (সিপিআরডি) এবং ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)।

ইসফাক আলী/খাদিজা রুমি/

একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
একদিনেই বদলে গেল চবির দুই উপ-উপাচার্য
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদে একদিনেই বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সরকারের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন দুই অধ্যাপককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ জুন) বিকেলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে পূর্বে দায়িত্বে থাকা দুই উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অধ্যাপক মো. আল-আমিনকে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) এবং অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলামকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগের দুই উপ-উপাচার্যকে অব্যাহতি দিয়ে তাদের স্থলে নতুন দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনগুলো সত্য।’ 

নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মো. আল-আমিন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসে (আইএফইএসসিইউ) শিক্ষকতা করছেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও বন অভিযোজন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ গবেষক। তার ৩৪ বছরের শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হল প্রভোস্ট এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেছেন।

অন্যদিকে, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। তিনি সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে যোগ দিচ্ছেন। তিনি চীন ও ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করব।’  তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই আকস্মিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নাঈম/রিফাত/