বস্তুনিষ্ঠ পেশাদারিত্ব ও গৌরবময় পথচলার ৪০ বছর পেরিয়ে ৪১-এ পদার্পণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সাংবাদিক সমিতি। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সাংবাদিক সমিতির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ক্যাফেটেরিয়ার সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয় এবং এর আগে কেক কাটা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, ‘বিতর্কের ঊর্ধ্বে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা সহজ নয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা সেই কঠিন কাজটি দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করছেন। তাদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংগতি ও ইতিবাচক কার্যক্রম সমানভাবে প্রতিফলিত হয়। অনেক সময় সাংবাদিকদের তথ্য প্রশাসনকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।’
ভবিষ্যতে সাংবাদিক সমিতির সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে উপ-উপাচার্য গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর এবং অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের যুক্ত করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ আয়োজন করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা আমাদের ভুল ধরিয়ে দেয়, পরামর্শ দেয় এবং সমালোচনার মাধ্যমে পথ দেখায়। তাই আমরা সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে চাই, যাতে তারা আরও দক্ষতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।’
ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘বাংলাদেশকে পথ দেখায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পথ দেখায় সাংবাদিক সমিতি। আমরা নেতা নই, শিক্ষার্থীদের সেবক। ফ্যাসিবাদী সময়ে যখন শিক্ষার্থীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তখন সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা পাশে দাঁড়িয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এবং ৯ দফা দাবিপত্র সংবাদমাধ্যমে পৌঁছে দিয়েছিল।’
আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য খাইরুজ্জামান কামাল স্মৃতিচারণ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে সংগঠনটি নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। আশা করি, আগামী দিনেও এই সংগঠনটি একইভাবে ভূমিকা পালন করবে।’
সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি বলেন, ‘আমাদের এই পথচলায় অনেক চ্যালেঞ্জ এসেছে, কিন্তু সেগুলো আমাদের টলাতে পারেনি। আমরা বিশ্বাস করি, সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠতা ও সাহসী ভূমিকা ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজকে পথ দেখাবে।’
ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসানের সঞ্চালনায় ডাকসুর বিভিন্ন পদের নবনির্বাচিত প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা এতে অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, ‘তথ্যে তারুণ্যে নিত্য সত্যে’ এই স্লোগান ধারণ করে ১৩ জন ক্যাম্পাস প্রতিনিধিকে নিয়ে ১৯৮৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। সংগঠনটি চার দশক ধরে সাংবাদিকতা জগতে পেশাদারিত্ব ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
আরিফ জাওয়াদ/সুমন/