রাজধানীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীরের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি ও সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান এক যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগ জানিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করা হয়।
বর্বর, পরিকল্পিত ও সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এতে বলা হয়, ডুজা মনে করে, গণমাধ্যমের অফিসে হামলা ও একজন প্রবীণ সম্পাদককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের জানার অধিকারের ওপর সরাসরি ও সুস্পষ্ট আঘাত। সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে এ ধরনের হামলা চালানো প্রমাণ করে, হামলাকারীরা গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘোরতর শত্রু।
এতে আরও বলা হয়, ডুজা দৃঢ়ভাবে মনে করে, সংবাদপত্রের অফিস কোনোভাবেই হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না। সাংবাদিক ও সম্পাদকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। ভিন্নমত দমন, সমালোচনামূলক সাংবাদিকতা বন্ধ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে মিডিয়া হাউস ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা একটি অশনিসংকেত, যা পুরো সমাজ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘গণতন্ত্রের কথা বলে যদি কেউ সংবাদমাধ্যমে আগুন দেয়, অফিস ভাঙচুর করে বা সম্পাদকদের ওপর হাত তোলে, তবে তারা গণতন্ত্রের ন্যূনতম চেতনারও ধারক নয়। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, সাংবাদিক সমাজ কখনোই ভয় পেয়ে নীরব হবে না।’
এছাড়া অবিলম্বে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার অফিসে হামলা এবং নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীরের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি সাংবাদিক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু পর ভারতীয় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ তুলে ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয় ও ডেইলি স্টারে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।
এদিকে ডেইলি স্টারে ঢোকার মুখে হেনস্তার শিকার হন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি, নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং এলাকায় নিয়োজিত সেনা সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।
জাওয়াদ/মাহফুজ