জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আওয়ামী লীগপন্থী চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া, আন্দোলনে যেতে বাধা ও হুমকি প্রদান, ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের তথ্য প্রদানসহ নানা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা প্রাথমিক তদন্ত কমিটি (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি)। তা খতিয়ে দেখতে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটি অভিযোগের প্রমাণ পেলে সরাসরি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সুপারিশ নেওয়া হবে। এছাড়া শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা পাঁচটি আবাসিক ভবনের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সিন্ডিকেটে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
সভা সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চার আওয়ামীপন্থী শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন বহিষ্কার করা হবে না এই মর্মে শোকজের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট।
বহিষ্কারের সুপারিশ প্রাপ্ত এ শিক্ষকেরা হলেন- সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে সিন্ডিকেট। এক সপ্তাহের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এরপর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
শেখ পরিবারের নামে থাকা ৫ স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সুপারিশ
এদিকে শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা পাঁচ স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট।
জানা গেছে, শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে দুটি আবাসিক হল, একটি হোস্টেল এবং দুটি স্টাফ কোয়ার্টার। এগুলো হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং সুলতানা কামাল হোস্টেল।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে এসব নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সিনেটের সভায়। ফলে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তটি এখন সেখানে পাঠানো হবে এবং সিনেটের সভায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে এসব নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সিনেটের সভায়। কেননা সিন্ডিকেটের সেটি করার এখতিয়ার নেই। তাই বিষয়টি সিনেটের সভায় প্রেরণ করা হবে এবং সেখানেই নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের দাবিতে গত ২১ ডিসেম্বর উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতারা। সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের পর ডাকসু নেতারা উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাইমা হক বিদিশার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
বিক্ষোভকারীরা শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম ‘বীরপ্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ করার প্রস্তাব করেন। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে বিরোধিতাকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
জাওয়াদ/মাহফুজ