নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রশাসনের বিরুদ্ধে গত দেড় বছরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক ‘জামায়াতিকরণের’ অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ভাতা বণ্টনে ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনিয়মেরও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের শিক্ষক নেতারা নোয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ-সংক্রান্ত ‘অনিয়মের শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নোবিপ্রবির সাদা দলের সভাপতি ও ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৩৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়। তার মধ্যে ৩১ জনই চিহ্নিত জামায়াতের নেতা-কর্মী। অন্যদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত তিন নারী শিক্ষকের মধ্যে একজন জামায়াতপন্থি শিক্ষকের স্ত্রী। উল্লিখিত সময়ে মুসলিম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মাবলম্বী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।’
শ্বেতপত্রে দাবি করা হয়, ‘নিয়োগ দেওয়া ২১ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৯ জনই জামায়াতপন্থি। এর মধ্যে সাতজন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের পদধারী নেতা। এ ছাড়া ৬৯ কর্মচারীর মধ্যে ৫৫ জনই জামায়াতের নেতা-কর্মী। জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের তদবিরে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
এতে আরও বলা হয়, ‘আইন বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ড. শফিউল্যাহ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থি কোষাধ্যক্ষ এবং নোবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের এক সদস্যের আপন ছোট ভাই। এ নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও নীতিমালা ভঙ্গ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাকিদের নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘ভর্তি পরীক্ষার সম্মানী বণ্টনে ব্যাপক বৈষম্য করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষকদের যেখানে বরাদ্দ ছিল ২৬ হাজার টাকা, সেখানে উপাচার্য ২ লাখ ১৫ হাজার, উপ-উপাচার্য ২ লাখ ১০ হাজার ও কোষাধ্যক্ষ ২ লাখ ৮ হাজার টাকা নিয়েছেন।’
সাদা দেলের নেতারা আরও জানান, ভর্তিসংক্রান্ত আইটি বিভাগের খরচ বাবত ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকার চেক ইস্যু করে প্রতিষ্ঠানের মালিককে মাত্র ১ লাখ টাকা দিয়ে বাকি টাকা প্রশাসনের লোকজন আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের বেশ কিছু অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনের লিখিত শ্বেতপত্রে।
সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক ও ফিমস (মৎস্য ও সমুদ্রবিজ্ঞান) বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিকারে অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।’
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। তিনি বলেন, ‘হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সাদা দলের নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন।’
উপাচার্য প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলন করা সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগসংক্রান্ত রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য। নিয়োগের সময় তারা কোনো প্রশ্ন তোলেননি। কিন্তু এখন কেন এমন প্রশ্ন তুলে বিভ্রান্তি ছাড়াচ্ছেন।’ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি দপ্তর অত্যন্ত সুচারুরূপে পরিচালিত হচ্ছে। যে কেউ এসে তার প্রমাণাদি স্বচক্ষে দেখতে পারেন।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষকদের বিভিন্ন পাওনা সরকারি নিয়মে বণ্টন করা হয়। বরং সংবাদ সম্মেলন করা অনেকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কাজে নেওয়া লাখ লাখ টাকার কোনো হিসাব দেননি। এসব বিষয়ে মামলাও চলমান।’
সংবাদ সম্মেলনে, সাদা দলের সভাপতি ও ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও ফিমস বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, সদস্য ড. আবিদুর রহমান, জামাল উদ্দিন, আব্দুল বারেক, মিনহাজুল আবেদীন, জনি মিয়া, মোকাররম হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, মোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




