নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের ইফতার আয়োজনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা না রাখায় বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি আবাসিক হল পৃথক নোটিশে আগামী ১ মার্চ ইফতার মাহফিলের ঘোষণা দেয়। তবে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ২ হাজার ৩০০ জন আবাসিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। বাকি অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা এ আয়োজনের বাইরে থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ কেউ ইফতার বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন, আবার কেউ টোকেন ছিঁড়ে ফেলার কথাও জানিয়েছেন।
অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশেষ দিনগুলোতে আবাসিক-অনাবাসিক বিভাজন প্রশাসনের দ্বিমুখী আচরণের ইঙ্গিত দেয়।
তাদের দাবি, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক ও অনাবাসিক সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ইফতার আয়োজন করা হয়। সে তুলনায় নোবিপ্রবির এ উদ্যোগ আংশিক ও হতাশাজনক।
এসিসিই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাকিল বলেন, “শুধু আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতারের আয়োজন বৈষম্যমূলক। সকল শিক্ষার্থী সমান অধিকার ও সম্মানের দাবিদার। তাই এ বৈষম্যের প্রতিবাদে আমি হল কমিটির ইফতার বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিয়া জাহান বলেন, “অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত না করলে আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ইফতার কর্মসূচিতে অংশ নেব না। আমরা চাই সবাই মিলে একসঙ্গে ইফতার উদ্যাপন হোক।”
একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মোজাম্মেল হোসেন রিমনও একই ধরনের অবস্থান জানান। তিনি বলেন, “অনাবাসিকদের বাদ দিয়ে আয়োজন হলে আমরা অংশগ্রহণ করব না। সবাই মিলে চাইলে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমাদ চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “অনাবাসিকদের ভোজে যুক্ত না করলে পরীক্ষার সময় হলের সিল নেওয়ার নিয়মও বাদ দেওয়া উচিত।”
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ইস্যুতে বিভিন্ন মিম ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক বলে মন্তব্য করেছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, “আমরা সকল শিক্ষার্থীর জন্য আয়োজন করতে পারলে খুশি হতাম। কিন্তু প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আয়োজন করার মতো ফান্ড নেই। সদিচ্ছার অভাব নেই, সীমাবদ্ধতার কারণেই তা সম্ভব হচ্ছে না।”
কাউসার/অমিয়/

