শৈশব থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিল সামছু উদ্দিনের। স্কুল-কলেজে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। তবে ম্যারাথনের প্রতি আগ্রহ জন্ম নেয় কর্মজীবনে এসে। এক সহকর্মীর হাতে পাওয়া একটি ম্যারাথন মেডেলই যেন বদলে দেয় তার ভাবনার দিক। সেই মেডেল দেখে মনে হয়েছিল— ‘উনি যদি পারেন, আমি পারব না কেন?’ সেই থেকে শুরু হয় তার ম্যারাথন যাত্রা।
২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথনে ১০ কিলোমিটার দৌড় ছিল সামছু উদ্দিনের প্রথম ম্যারাথন। প্রথম অংশগ্রহণ হলেও সেই অভিজ্ঞতা তাকে এতটাই আনন্দিত করে যে, এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০টির মতো ম্যারাথন ও দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন সামছু উদ্দিন।
ম্যারাথনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে সামছু উদ্দিন ধাপে ধাপে অনুশীলনের ওপর জোর দেন। হঠাৎ করে বেশি দৌড় নয়— ধীরে ধীরে ট্রেনিং শুরু, নিয়মিত অনুশীলন, শরীরের শক্তি বাড়ানো, খাবার ও পানির দিকে নজর, পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম— সবকিছুই তার প্রস্তুতির অংশ। পাশাপাশি সঠিক জুতা ও পোশাক ব্যবহার এবং মানসিক প্রস্তুতিকে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তার মতে, ম্যারাথন যতটা না শারীরিক, তার চেয়েও বেশি মানসিক খেলা।
এই দীর্ঘ দৌড়জীবনে তিনি অর্জন করেছেন ৩০টিরও বেশি পুরস্কার— মেডেল, সার্টিফিকেট এবং বিভিন্ন ধরনের সম্মাননা। প্রতিটি পুরস্কার তার কাছে শুধু সাফল্যের চিহ্ন নয়, বরং আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা। তবে তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথন ২০২৫-এর সেই প্রথম ১০ কিলোমিটার দৌড়। সেই রানের আনন্দই তাকে পরবর্তী প্রতিযোগিতাগুলোতে আরও উৎসাহ নিয়ে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করেছে।
ম্যারাথনের পথে আনন্দের পাশাপাশি কষ্টও আছে। সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তটি আসে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছানোর সময়— দীর্ঘ ক্লান্তি, ব্যথা আর পরিশ্রমের পর সেই শেষ রেখা ছুঁয়ে ফেলার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অন্যদিকে সবচেয়ে দুঃখের মুহূর্ত ছিল, একটি রেস শেষ কয়েক কিলোমিটারে পায়ের মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা শুরু হওয়া। সেদিন প্রত্যাশামতো দৌড় শেষ করতে না পারলেও সেই অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য আর মানসিক শক্তির মূল্য। ম্যারাথনে অংশ নিতে গিয়ে শারীরিক ক্লান্তি, ব্যথা, মানসিক চাপ, আবহাওয়ার প্রতিকূলতা— সবই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এসব বাধাই একজন রানারকে আরও শক্ত করে তোলে।