ইরানে মার্কিন হামলা এবং চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ঔপনিবেশিক শাসনের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ।
এসময় তিনি জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং মহাসচিবসহ জাতিসংঘ সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগের দাবি তোলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উন্মাদ ও দস্যু বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে তুলনা করেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা উঠে আসে।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যে দখলযজ্ঞ এটি ঔপনিবেশিকতার শাসনের ধারাবাহিকতা। ব্রিটিশ, ফরাসি, স্পেন, পর্তুগালের মতো যারা শাসক ছিল, তারা কিভাবে সারা পৃথিবীতে ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করেছিল, সেটা আমরা সবাই জানি! সেই ঔপনিবেশিক শাসনের ধারাবাহিকতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার ধারাবাহিকতা যুক্তরাষ্ট্র ইরান আক্রমণের মধ্য দিয়ে ভয়ঙ্কর এবং অবিশ্বাস্য মাত্রা লাভ করেছে। রোসা লুক্সেমবুর্গ (পোলিশ মার্কসবাদী দার্শনিক) বলতেন, যদি পুঁজিবাদ টিকে থাকে এবং পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে যদি আমরা মুক্ত না হতে পারি তাহলে বর্বরতার মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। কারণ পুঁজিবাদ যত টিকে থাকবে তত বেশি এটা ধ্বংসমুখী হবে তত বেশি।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উন্মাদ ও দস্যুবাহিনীর প্রধান হিসেবে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, ‘যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ছিল, তার সময়ে ইরাকসহ সারা মধ্যপ্রাচ্যে যেভাবে আগুন জ্বালালেন এবং তার যে কথাবার্তা ছিল, তাতে অনেকেই বলতেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচাইতে খারাপ প্রেসিডেন্ট হচ্ছে এই জর্জ বুশ। আমরা চিন্তা করতে পারিনি, তার চেয়ে বেশি উন্মাদ এবং মানসিকভাবে অসুস্থ এবং একটা গুন্ডা কিংবা দস্যু বাহিনীর প্রধান যেমন হয় তেমন একজন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হবে। অথচ তিনি কিন্তু মানুষজনের ভোটে কিন্তু নির্বাচিত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ট্রাম্প যেভাবে যা করছে, তা রাজা-বাদশার মতো। একটা দেশের প্রেসিডেন্টকে উঠিয়ে নিয়ে আসছে এবং কি রকম ঔদ্ধত্য থাকলে হেসে-হেসে বলতে পারে, একটি সভ্যতাকে আজকে রাতের মধ্যে শেষ করে দিয়ে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেবো। এটা যে বলতে পারছে, তাতেই বোঝা যায় বিশ্ব কিভাবে চলছে! কোথায় এই জাতিসংঘ; তারা কি কারণেই আছে? এখন জাতিসংঘের যে পরিস্থিতি তাতে জাতিসংঘের মহাসচিবসহ সবার পদত্যাগ করা উচিত।’
অপরাধের ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে জেলে থাকার কথা জানিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্ট যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ঘোষণা করেছে। ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি; তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে আর্থিক দুর্নীতিসহ অনেক মামলা আছে। তার এখন জেলে থাকার কথা, নেতানিয়াহুরও জেলার থাকার কথা। অথচ এই ট্রাম্প প্রশাসন এক ধরনের ঔদ্ধত্য নিয়ে শুধু ইরানকে আক্রমণ না, সারা বিশ্বকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে এবং সারা বিশ্বের অর্থনীতি-রাজনীতি সমস্ত রকম প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। জাতিসংঘ, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট, মানবাধিকার সংগঠনগুলো অকার্যকর হয়ে আছে।’
এসময় আনু মুহাম্মদ ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং দেশে দেশে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ, বাণিজ্যিক গোপন চুক্তি ও দস্যুতার বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বনেতাদের প্রতি বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভে অন্যদের মধ্যে সমাবেশে ভাসানী পরিষদের সভাপতি এ. এস. এম. কামালউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. হারুন-অর-রশিদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্নাসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।
আরিফ জাওয়াদ/এসএন




