রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের হাসিবুল ইসলাম হাসিব নামে এক নেতার বিরুদ্ধে বহিরাগত নিয়ে শেখ মোহাম্মদ আবুল হাসান নামে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী শেখ মোহাম্মদ আবুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে অভিযুক্ত হাসিবুল ইসলাম হাসিব বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী ও প্রক্টরিয়াল বডি সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে হাসানের এক বড় ভাই তার বান্ধবীকে নিয়ে ক্যাম্পাসের চারুকলা এলাকায় বসে ছিলেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত এক প্রহরী তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কিছু বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ওই শিক্ষার্থীরা ধারণা করেন, প্রহরী নিজ উদ্যোগে নয়, কারও নির্দেশে তাদের হয়রানি করেছেন এবং এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে চাঁদাবাজির বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে।
পরে সন্ধ্যায় হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে কেন এমন করা হয়েছে জানতে চারুকলায় যান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবারই ঘটনাটির সমাধান করা হয়। তবে ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাতে ছাত্রদল নেতা হাসিবের নেতৃত্বে বহিরাগত নিয়ে এসে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে দুটি সেলাই দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী আক্তার বলেন, ‘আমরা জুসের দোকানে বসে ছিলাম। এমন সময় দেখতে পেলাম হাসিব উত্তেজিত হয়ে দৌঁড়ে আসছে। দেখলাম তারা কথাবার্তা বলছে, পরে একজন উঠে যাওয়ার সময় গলা ধাক্কা দিয়ে মারামারি শুরু করে।’
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবুল হাসান জানান, ‘ছাত্রদল নেতা হাসিব মঙ্গলবার থেকেই বিভিন্নভাবে ফোনে হুমকি-দামকি দিচ্ছিল। আজ রাতে আমি একটা চায়ের দোকানে বড় ভাই ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে ছিলাম। পরে হাসিব বেশ কয়েকজন বহিরাগত নিয়ে আমাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। আমার সঙ্গে যারা ছিল তাদেরকেও আঘাত করে।’
তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিব।
তিনি বলেন, ‘আমি খুবই অসুস্থ। সেই পহেলা বৈশাখের পর থেকেই অসুস্থ। আজ একটা পরীক্ষা ছিল সেটা দিয়ে বাসায় চলে আসি। আমি বাসা থেকে ক্যাম্পাসেই যাইনি আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখলাম আমি নাকি কোন শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করছি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি মঙ্গলবারই সমাধান হয়েছে। কিন্তু ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ রকম ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আহত শিক্ষার্থীরা চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। এ ছাড়া তারা যদি প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’
শাকিবুল/রিফাত/