জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে ১৪টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও জানান, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রক্টর জানান, গত মঙ্গলবার রাতের ঘটনার পর বিভিন্ন সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে জরুরি প্রশাসনিক সভায় ১৪টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেগুলো হলো-
১. নিরাপত্তা ঘাটতি মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হবে। টিমের সদস্যরা প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি করবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও ভাতা পাবেন।
২. নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য হটলাইন চালু করা হবে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পরিচয়পত্র বহন ও প্রদর্শন করতে হবে।
৪. সব প্রবেশপথে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বহিরাগতদের পরিচয়পত্র দেখাতে হবে এবং লগবুকে উদ্দেশ্য লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করা হবে।
৫. নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে পরিচয়পত্র দিতে হবে এবং তা বহন করতে হবে।
৬. ক্যাম্পাসের সব দোকান-কর্মচারীকে দোকানের মালিকের দেওয়া পরিচয়পত্র বহন করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ কপি এস্টেট শাখায় জমা দিতে হবে।
৭. চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ শ্রমিকদের তথ্য নিরাপত্তা শাখায় জমা দিতে হবে।
৮. ক্যাম্পাসের সব ভ্রাম্যমাণ দোকান তুলে দেওয়া হবে।
৯. হল ও এস্টেট শাখার দোকান-কর্মচারীদের তথ্য নিরাপত্তা শাখায় দিয়ে আইসিটি সেলের মাধ্যমে ডেটাবেজ তৈরি করা হবে।
১০. প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তারক্ষী বাড়ানো হবে। কেন্দ্রীয় মসজিদ গেট, প্রান্তিক গেট ও গেরুয়া গেটে দিনে কমপক্ষে তিনজন এবং রাতে কমপক্ষে দুইজন প্রহরী মোতায়েন করা হবে। আরও ১০০ জন আনসার সদস্য মোতায়েনের জন্য ইউজিসিতে অনুরোধ করা হবে।
১১. গেট ও সীমানা প্রাচীরের ত্রুটি দ্রুত মেরামত করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আলোর ব্যবস্থা করা হবে।
১২. ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
১৩. আলবেরুনী হলের টিনশেড এক্সটেনশন ভবন অবিলম্বে ভেঙে ফেলা হবে।
১৪. বুলিং, সাইবার বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধ নীতিমালা-২০২৩’ কার্যকর করতে স্থায়ী কমিটি গঠন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান, জনসংযোগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সহকারী প্রক্টরসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা করছে, এসব পদক্ষেপ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে অবস্থান নিশ্চিত করবে।
>> জাবিতে উপাচার্যকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলায় তীব্র প্রতিবাদ ও মানববন্ধন
>> জাবিতে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
>> ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় উত্তাল জাবি, প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
>> জাবিতে প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, তালা দিলেন শিক্ষার্থীরা
আমানউল্লাহ খান/অন্তরা




