স্বপ্ন ছিলো জজ হওয়ার, ছিলো অদম্য প্রত্যয়। স্নাতক পর্যায়ে মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থান অর্জন এবং স্নাতকোত্তর শেষ করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন নিজের লক্ষ্যপানে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নিতে পারলো না—মৃত্যুর কাছে অধরাই রয়ে গেল নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেনের জীবন-আকাঙ্ক্ষা।
সোমবার (১৮ মে) দুপুর ২টা ২৭ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বিরল রোগ ক্রোনস ডিজিজ ও হিস্টোপ্লাজমোসিসের সঙ্গে লড়াই করছিলেন সাখাওয়াত। তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ পুরো শিক্ষাঙ্গণে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
সাখাওয়াত হোসেনকে ঘিরে সহপাঠী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে রয়ে গেছে এক পরিশ্রমী, শান্ত ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষার্থীর প্রতিচ্ছবি। সদ্য এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করা এ যুবক হয়ত জীবনকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন ও পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। কিন্তু অনিশ্চিত জীবনের নির্মম পরিণতিতে থেমে গেল সব স্বপ্ন। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সহপাঠীরা দোয়া ও আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন।
আইন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “সাখাওয়াত ভাই মালেক হলের ৫০৪ নম্বর রুমে থাকতেন। মাঝে মাঝে তাদের কক্ষে যাওয়া হতো। খুব বেশি কথা না হলেও তিনি সবসময় পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন। টেবিল ভর্তি বই নিয়ে চুপচাপ প্রস্তুতি নিতেন।”
তিনি আরও লেখেন, “দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকলেও এমন মৃত্যুর সংবাদে সবাই গভীরভাবে মর্মাহত। জীবন যে কতটা অনিশ্চিত, এ ঘটনা তা আবারও মনে করিয়ে দেয়। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন, আমিন।”
সাখাওয়াতের সহপাঠী, ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, “বন্ধু সাখাওয়াত আর নেই! নোবিপ্রবি আইন বিভাগের মেধাবী একজন ছাত্র ছিলো। একটা কথা শুনেছিলাম, সৃষ্টিকর্তা তার প্রিয় বান্দাদের খুব দ্রুতই তার কাছে টেনে নেন। হয়ত সাখাওয়াত তাদেরই কেউ একজন। আল্লাহ তাকে খুব যত্নে রাখুক। জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।”
আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদুল করিম বলেন, “জীবনযুদ্ধে হার মেনে অবশেষে পরপারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলেন আমাদের আইন বিভাগের প্রথম ব্যাচের প্রিয় ছাত্র মো. সাখাওয়াত হোসেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”
তিনি আরও বলেন, “অত্যন্ত বিনয়ী, শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের একজন মানুষ ছিল সে। ক্লাসে সবসময় নীরব ও মনোযোগী ছিল। মহান আল্লাহ তার সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করুন।”
সাখাওয়াতের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
কাউসার/নাঈম