মাগুরায় সদর উপজেলা নির্বাচন-পরবর্তী দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল রবিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা থেকে সোমবার (১ জুলাই) সকাল পর্যন্ত শত্রুজিৎপুর ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে বিজয়ী চেয়ারম্যান ও পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কালুখালী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, সদ্য সমাপ্ত সদর উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রানা আমির ওসমান। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শেখ রেজাউল ইসলাম।
আহতরা জানান, নির্বাচনের পর থেকেই উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। রবিবার শত্রুজিৎপুর বাজারে গ্রাম্য মাতববর জামাল মোল্যার দোকানে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শেখ রেজাউলের সমর্থক কামাল শেখকে ইট দিয়ে আঘাত করে তার ভাগনে আব্দুর রশিদ। আব্দুর রশিদ উপজেলা চেয়ারম্যান আমির ওসমানের সমর্থক। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ফারুক মোল্যা, জামাল মোল্যা, ওদুল শেখসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে কামাল শেখ ও ওদুল শেখকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনার জেরে আমির ওসমানের সমর্থকরা গতকাল সকাল ৬টা থেকে ওদুল, ধলু, কালাম ও আজাদের বাড়ি ভাঙচুর করেন। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজনকে শান্ত করতে গিয়ে ধলু শেখের স্ত্রী আলেয়া বেগম (৫০) ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পরিচালক মনির হুজুর ও পলাশ মুন্সী আহত হন।
এ ব্যাপারে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী রাসেল বলেন, ‘কালুখালী গ্রামে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমাদের পুলিশ বাহিনী প্রতিটি এলাকায় টহল অব্যাহত রেখেছে।’