ছয় দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মত কর্মবিরতি পালন করছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
সোমবার (৮ জুন) কর্মবিতরতির পাশাপাশি তারা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ নকর্মসূচিও পালন করেন।
এদিকে, তাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সোমবার সকাল থেকে বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকরাও কর্মবিরতি শুরু করেছেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক ইরফানুর রহমান বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
তবে দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। আলোচনার পর কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।
এদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে তারা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। স্বাভাবিক সময়ে তারা অন্তত ডিউটি ডকটরস রুমে গিয়ে চিকিৎসককে রোগীর তাৎক্ষণিক সমস্যার কথা বলতে পারতেন। তারা দ্রুত এসে সমাধান দিতেন কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই।
রোগীদের সেবায় বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে ইরফানুর রহমান বলেন, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ এবং ওয়ার্ডগুলোতে সেবা চালু আছে। যেহেতু আমরা কর্মবিরতিতে আছি তাই সেবায় বিঘ্ন ঘটাই স্বাভাবিক।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছয় দফাসমূহ হলো, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের গত ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো প্রণয়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর, ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিএমডিসি ও বাংলাদেশ
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা।
এসব দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
ইন্টার্ন ডাক্তারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
এতে বলা হয়, গত ১৯ মে মন্ত্রণালয় থেকে নীতিমালা জারির পর সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিসিপিএস কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনার ভিত্তিতে উপজেলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের শর্ত বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এফসিপিএস প্রথম পর্বে উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীরা এখন থেকে বিসিপিএস স্বীকৃত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নিলে প্রশিক্ষণ ভাতার আওতাভুক্ত হবেন। বাকি দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাঈম/