বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পেরিয়ে হাওর। সেখানে চরানোর কৌশলে চোরাচালানিরা ভারতীয় মহিষ এপারে নিয়ে এসেছিল। খবর পেয়ে মধ্যরাতে অভিযান চালায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়ন। অভিযানে ৩২টি ভারতীয় মহিষ আটক করা হয়।
বুধবার দিনগত রাত প্রায় আড়াইটার দিকে সিলেটের সীমান্ত উপজেলা জৈন্তাপুরে এভাবেই ধরা পড়েছে চোরাই পথে আনা ভারতীয় মহিষের চালান।
সিলেট ব্যাটালিয়নের ৪৮ বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অভিযানের বিষয়টি জানিয়েছে।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে ব্যাটালিয়ন সদরের একটি বিশেষ টহল দল সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার মিনাটিলা বিওপির নিকটবর্তী বিরাইমারা হাওরের সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে চোরাচালানের সময় ভারত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর ৩২টি ভারতীয় মহিষ আটক করা হয়। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী আটক ৩২টি মহিষের মূল্য প্রায় ৫৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় দিনে ও রাতে চোরাচালানিরা চোরাই পণ্যের সঙ্গে নানা কৌশলে মহিষের চালান এপারে নিয়ে আসছে। গত প্রায় মাসব্যাপী বিজিবির প্রতিটি অভিযানে মহিষ ধরা পড়ছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে একই কৌশলে ৪৮ বিজিবির হাতে ধরা পড়েছে ১৬টি মহিষ। সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী তেরাপুর নামক স্থান থেকে ১৬টি ভারতীয় মহিষসহ আট হাজার কেজি বাংলাদেশি সুপারি, ৪২০ কেজি বাংলাদেশি রসুনসহ মোট এক কোটি ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮২ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করা হয়েছিল।
বিজিবির ঊর্ধ্বতন সদরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে আভিযানিক কার্যক্রম এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ভারতীয় মহিষের চালানটি জব্দ করে কাস্টমসে জমা দিয়ে নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।