পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্তে ১০ জনকে পুশইনের ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দু্ই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফ।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৬টা থেকে ওই নারী-পুরুষরা সবাই শূন্যরেখায় ভারতীয় অংশে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে ৩টি শিশু, দুজন নারী ও পুরুষ রয়েছেন ৫ জন।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে ভারতের শূন্যরেখায় দেখা যায়, শিশুসহ ১০ জন নারী-পুরুষ কৃষি জমির আইলে পানির মধ্যে বসে অপেক্ষা করছেন। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তে পুশইন করার চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় ভারতের শূন্যরেখায় আটকা পড়েন তারা।
এ দিকে শুক্রবার দুই দফায় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
তবে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেহেতু তারা ভারত থেকে এসেছে, ভারতীয় শূন্যরেখা অবস্থান করছে তাই তাদের বাংলাদেশের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বা গ্রহণ করা হবে না। তবে আজ শনিবার বিজিবি-বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
পুশইন হওয়া শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষের মানবেতর জীবনযাপন
শুক্রবার দিনভর প্রখর রৌদ্র ও রাতভর ঝর বৃষ্টিতে তারা সেখানেই অবস্থান করেছেন। তারা কৃষি জমিতে পানির মধ্যে না খেয়ে দিনরাত পার করছেন। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে শুকনো খাবার দেওয়া হলেও বিএসএফএর পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা করা হচ্ছে না। এদিকে পুশইন হওয়াদের দাবি, যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনার সুরাহা হয়।
এ বিষয়ে বড়বাড়ি সীমান্ত গ্রামের ইউসুফ আলী খবরের কাগজকে জানান, ‘গতকাল পুশইনের ঘটনার পরপরই আমরা তাদের বাঁধা দিই। তবে বিএসএফ যে কাজটি করেছে এটি ঠিক করেনি। শিশু, নারী ও পুরুষরা অনেক কষ্ট করতেছে। চারপাশে অথৈ পানি, মাঝখানে একটি আইলের মধ্যে তারা কোনোরকম বসে দিনরাত পার করছে। আমরা আশা করব বিএসএফ তাদের নিয়ে যাবে।’
হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ-ই নুরে আলম খবরের কাগজকে জানান, ‘বিএসএফ যে কাজটি করেছে এটি অমানবিক কাজ। আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে, নিয়ম রয়েছে তাই বলে এভাবে বিএসএফ ১০ জন মানুষকে পুশইন করতে পারে না। গতকাল থেকে মানুষগুলো অনেক কষ্টে আছে। তবে পুশইন ঠেকাতে আমরা স্থানীয় মানুষদের নিয়ে তৎপর রয়েছি।’
এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খবরের কাগজকে বলেন, 'বিজিবির বাঁধার ফলে পুশইন হওয়া ১০ জন ভারতের শূন্যরেখায় অবস্থান করেছে। অনুপ্রবেশ ও পুশইন রোধে আমাদের সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে।
রনি মিয়াজী/থিও/