কুমিল্লার নিমসার বাজারে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে এ বাজারে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছিল প্রভাবশালী মহল। এতে প্রায়ই যানজট লেগে থাকত। জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথের যৌথ উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে গতকাল শুক্রবার নিমসার বাজারে সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
অভিযানে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মঈন উদ্দিন ও সড়ক ও জনপথের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম নেতৃত্ব দেন। অভিযোগ রয়েছে, মহাসড়কের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে ভাড়া আদায় করছিল একটি অসাধু চক্র। এ ছাড়া প্রতিবার দখলদার উচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওই চক্রটি আবারও স্থাপনা তৈরি করত।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে নিমসার কাঁচা সবজির বাজারে অবৈধভাবে দোকানপাট তৈরি করে মহাসড়কের জায়গা দখল করা হয়েছিল। এ ছাড়া অস্থায়ীভাবে দোকানপাট করে মহাসড়কের ডিভাইডার ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ কারণে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত এই এলাকায় যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তাই সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মহাসড়কের পাশে সার্ভিস লেনের জায়গা দখল করে রাজনৈতিক প্রভাবে বেশ কয়েকটি দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। সেসব দোকান থেকে অবৈধভাবে টাকা তোলা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশনা ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তে দেশের এই বাজার থেকে খাজনা আদায়ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সিনিয়র সহকারী কমিশনার মঈন উদ্দিন বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতেই এই দখলদার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এক দিনে সম্ভব না হলে আমরা আবারও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালাব।’
সড়ক ও জনপথের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে নিমসার বাজারকে কেন্দ্র করে অবৈধভাবে দোকানপাট তৈরি করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। সড়ক বিভাগ কিংবা প্রশাসন কারও অনুমতি নেই। এ ছাড়া অনেকে রোড ডিভাইডার ব্যবহার করেও ব্যবসা করছেন। যে কারণে রাতে ও ভোরবেলায় মহাসড়কে যানজট তৈরি হয়। আমরা মহাসড়কে যান চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করার জন্য এই অভিযান চালিয়েছি।’