নোয়াখালী-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর অংশ খানাখন্দে ভরে গেছে। এ কারণে এই অংশে জনভোগান্তির পাশাপাশি বেড়েছে দুর্ঘটনা। এর ফলে সড়কটির টেকসই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলেও উল্টোপথে হাঁটছে লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগ।
তারা সড়কটির বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং তুলে সেখানে ইট-সলিংয়ের কাজ করছে। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মাঝে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা জানান, নোয়াখালী-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর জেলার ৩৬ কিলোমিটার অংশের বেশির ভাগ এলাকা খানাখন্দে ভরে গেছে। এর ফলে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এ সড়ক।
এ অবস্থায় এই সড়কের নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা থেকে লক্ষ্মীপুরের ঝুমুর সিনেমা হল পর্যন্ত ৫০ মিনিটের পথ পার হতে যানবাহনগুলোর দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। এতে চালক ও যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ ছাড়া খানাখন্দের কারণে প্রায় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক মহাসড়কটি পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। উল্টো ইটের খোয়া ও বালি ফেলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগ।
সংস্থাটি কয়েক মাস ধরে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এ সড়কের নোয়াখালী অংশ পুনর্নির্মাণ করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে লক্ষ্মীপুর অংশে সম্প্রতি ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং তুলে সেখানে ইট-সলিংয়ের কাজ শুরু করে সড়ক বিভাগ। এর মধ্যে সড়কের লক্ষ্মীপুর শহরের ইসলাম মার্কেটের সামনে ও মান্দারী বাজারের পশ্চিম পাশের কার্পেটিং তুলে নিয়ে ইট-সলিং করে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, এক সপ্তাহ আগে জকসিন বাজার এলাকায় ইট-সলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে যানবাহন চলাচলের কারণে ইটগুলোর বেশির ভাগ গুঁড়ো হয়ে গেছে। আর ইটের গুঁড়ার কারণে পুরো এলাকা ধুলোয় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। এর ফলে মোটরসাইকেলসহ খোলা যানবাহন নিয়ে এই মহাসড়কে যাতায়াত করা দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে।
চাঁদপুর-নোয়াখালী যাতায়াতকারী আনন্দ পরিবহনের চালক মোহাম্মদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, আঞ্চলিক মহাসড়কটি দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন খুলনা-চট্টগ্রাম, ভোলা-চট্টগ্রাম, কুমিল্লা-ঢাকা রুটে কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। চাঁদপুর ও নোয়াখালী সড়ক বিভাগ এ মহাসড়ক মেরামত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনলেও লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগ ইট-সলিং করে তামাশা করছে।
মো. স্বপন নামের সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালক খবরের কাগজকে বলেন, ‘খানাখন্দের কারণে এই সড়কে গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সড়ক বিভাগ সড়কটি মেরামত না করে ইট-সলিংয়ের নামে সরকারের টাকা লোপাট করছে।
সোনালী ব্যাংক লক্ষ্মীপুর শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি যাতায়াত করি। খানাখন্দ ও ধুলোবালির কারণে আমি প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি।’
লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘সড়ক বিভাগ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সড়কটি মেরামত করে যাচ্ছে। ফলে সড়কটিতে বর্তমানে খানাখন্দ নেই। সড়কটির কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির পানি জমে যায়। সেসব স্থানে ইট-সলিং করা হচ্ছে।’
তবে কত কিলোমিটার সড়ক ইট-সলিং করা হবে এবং এ জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানাতে পারেননি।