বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করা হয়েছে। তবে এই বীরশ্রেষ্ঠর জন্মভূমি নড়াইলে তার নামে স্থাপিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আজও জাতীয়করণ হয়নি। এতে বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ বিদ্যালয় ও কলেজটি জাতীয়করণের দাবি করেছেন শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়টির নবম শ্রেণির ছাত্র মেহেদি হাসান বলে, ‘সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকলেও আমাদের তেমন কোনো সুযোগ সুবিধা নেই। আমাদের বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা দরকার।’
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবদুল মজিদ সরদার বলেন, ‘১৯৯৯ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে এখানে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের নামে দেশে যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে সবগুলো জাতীয়করণ করা হয়েছে। অথচ তার জন্মভূমিতে তার নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়নি। আমাদের বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের দাবি জানাচ্ছি।’
বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রিম্পা সাহা বলে, ‘আমাদের কলেজটিতে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। সরকারি কলেজগুলোতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকে, কিন্তু আমরা সেসব থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তাই আমাদের কলেজটিকে জাতীয়করণের দাবি জানাচ্ছি।’
কলেজটির অধ্যক্ষ প্রণব কান্তি অধিকারী বলেন, ‘২০০৫ সালে কলেজটি স্থাপিত হয়। বর্তমানে এখানে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। সারা দেশে তার নামে স্থাপিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ হলেও আমরা বঞ্চিত হয়েছি। বর্তমান সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে জোর দাবি, আমাদের কলেজটি অবিলম্বে জাতীয়করণ করা হোক।’
জেলা প্রশাসক ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্ট্রের সভাপতি শারমিন আক্তার জাহান বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে আমাদের কোনো হাত নেই। তবে মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য চেয়ে আমাদের চিঠি দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটির অদূরে ছুটিপুর ঘাঁটি টহল দেওয়ার সময় পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হলেও হাতে এলএমজি এবং আহত নান্নুকে কাঁধে নিয়ে শত্রু পক্ষের দিকে গুলি ছুড়তে থাকেন নূর মোহাম্মদ।
হঠাৎ পাকিস্তানি বাহিনীর মর্টারের আঘাতে আহত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নূর মোহাম্মদ শেখ। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত হন তিনি।