চট্টগ্রামে সেনাসদস্যরা চার ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন। থানার পুলিশ সঙ্গে নিয়ে সড়কে তল্লাশিসহ যৌথ অভিযানে যাচ্ছেন সেনাসদস্যরা। এতে পুলিশের হারানো শক্তি আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন পুলিশ সদস্যরা।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে কয়েক সপ্তাহ ধরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। দেশের অন্যান্য জায়গার মতো চট্টগ্রাম মহানগরেও বেড়ে যায় ছিনতাই, ডাকাতি, গুলি ও খুন। এমনকি ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশনার পর থেকে চট্টগ্রামে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে টহল টিমের সংখ্যা। নগরীর ১৬টি থানা এলাকায় প্রায় ১০০ টহল টিম দায়িত্ব পালন করছে। ৯৯৯ হয়ে আসা সংবাদসহ জরুরি পরিস্থিতিতে বাড়তি জোগান দেওয়ার জন্য স্ট্যান্ডবাই টিম রাখা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর চট্টগ্রামের ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মেজর রিজোয়ান খবরের কাগজকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে ৪টি জোনে ভাগ হয়ে সেনাবাহিনী কাজ করছে। চট্টগ্রাম মহানগর বা মেট্রোপলিটন এলাকায় দুটি জোন, দক্ষিণ ও উত্তর জেলাগুলোতে দুটি জোন হিসেবে কাজ করছে সেনাবাহিনী। পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন অভিযানে যাচ্ছেন সেনাসদস্যরা। এ ছাড়া সড়কের ছিনতাই, ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, তল্লাশি চালাচ্ছে। যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা কিছুটা উন্নয়ন হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অপরাধীরা গা ঢাকা দিয়েছে।’
এদিকে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকায় সড়কে বিভিন্ন মানুষ, যানবাহন ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের তল্লাশি করতে দেখা যায় সেনাবাহিনীকে। সড়কে সেনাবাহিনীকে দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এখন সড়কে একা হাঁটতে ভয় লাগে। যেখানে সেখানে ছিনতাই হচ্ছে। মানুষ এখন পুলিশকে ভয় পায় না, অপরাধীরা ভয় পাবে কোথা থেকে? আর পুলিশও আগের মতো কাজ করছে না। এতে নানা অপরাধ বেড়ে গেছে। এবার সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাজ শুরু করায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।’