চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেডে পরকীয়ার সন্দেহের জেরে এক বন্ধুর হাতে আরেক বন্ধু খুন হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাতে নগরের ইপিজেড থানাধীন দক্ষিণ হালিশহরের সিডিএ বালুর মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আইয়ুব নবী ওরফে সাগর (২৬) একটি রেস্তোরাঁর কর্মী বলে জানা গেছে। খুনের পরিকল্পনাকারী নিহতের বন্ধু সাইমন পলাতক রয়েছেন। তবে এ ঘটনায় জড়িত মো. সিজান (২৫) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিহত আইয়ুবের বাবা তিনজনের নাম উল্লেখ করে ইপিজেড থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
আটক মো. সিজান ইপিজেড থানার সিমেন্ট ক্রসিংয়ের রানী ভবনের গলির টেন্ডলের বাড়িতে বাস করেন। আর নিহত মোহাম্মদ আইয়ুব নবীর বাড়ি জেলার বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি গ্রামে হলেও তিনি নগরের আকমল আলী সড়কে ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, পলাতক সাইমনের স্ত্রীর সঙ্গে নিহত মোহাম্মদ আইয়ুব নবীর পরকীয়ার সম্পর্ক আছে দীর্ঘদিন ধরে এমন সন্দেহ করে আসছিলেন সাইমন। সেই সন্দেহ থেকেই আইয়ুব নবীকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে আটক সিজানসহ কয়েকজন অংশ নেয়। পরে নবীর মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে নগর পুলিশের বন্দর জোনের সহকারী কমিশনার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। এরপর জানতে পারি ভিকটিমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এরপর আমরা নিহতের পরিচয় জানতে পারি। ঘটনার তিন ঘণ্টার মধ্যেই আমরা সিজানকে আটক করি। ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চারটি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।’
কমিশনার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘সিজানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সাইমনের স্ত্রীর সঙ্গে ভিকটিম নবীর পরকীয়ার সম্পর্ক আছে, এমন সন্দেহের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে ভিকটিমের স্ত্রীর দাবি, তার স্বামী পরকীয়ায় জড়িত নয়। তবুও এটি আমরা তদন্ত করে দেখব।’
কমিশনার আরও বলেন, ‘তারা উভয়ে নেশাগ্রস্ত। এলাকায় ঘুরে ঘুরে আড্ডা দিত। প্রত্যেকের স্ত্রী পোশাক কারখানায় কাজ করে। সেই রোজগারেই তাদের সংসার চলত।’
সুমন/