সাতক্ষীরার আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীর ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢোকা বন্ধ হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঠিকাদারের লোকজন ও সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় বিকল্প রিং বাঁধ স্থাপনের মাধ্যমে পানি প্রবাহ বন্ধ করা হয়। গত শুক্রবার ভাটার সময় এ কাজ সম্পন্ন হয়। এতে ওই অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পাউবো কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রিং বাঁধ নির্মাণের সব কাজ শেষ হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে মূল বেড়িবাঁধ তৈরির কাজ শুরু হবে।
জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজন এবং সেনাবাহিনীর দুটি টিম কয়েক দিন ধরে কাজ করে জিও টিউবের মধ্যে বালি ভরে সেখানে বিকল্প রিং বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন। অবশেষে শুক্রবার তারা রিং বাঁধটি দিতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে শুক্রবার দুপুর থেকে ভাঙনকবলিত স্থান দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ হয়।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো-২) নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাত-দিন কাজ করে জিও টিউব ব্যাগের মধ্যে বালি ভরে বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে প্রাথমিকভাবে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। আরও কিছু জিও টিউব সেখানে দেওয়া হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রিং বাঁধ নির্মাণের সব কাজ শেষ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে মূল বেড়িবাঁধ তৈরির কাজ শুরু হবে।
এর আগে ঈদুল ফিতরের দিন ৩১ মার্চ সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ থেকে খোলপেটুয়া নদীর ২০০ ফুট এলাকাজুড়ে বেড়িবাঁধ হঠাৎ করে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয় গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভাঙন পয়েন্টে বিকল্প রিং বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
তখন বাঁধ ভেঙে আশাশুনি উপজেলার বিছট, বল্লবপুর, নয়াখালী, বাসুদেবপুর, আনুলিয়া, কাকবাসিয়া, মির্জাপুরসহ ১৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এসব এলাকার ৩০-৩৫ হাজার মানুষ তখন পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তলিয়ে যায় ৫০০ বিঘা জমির ধান, পাঁচ হাজার বিঘার বেশি চিংড়ির ঘের। পানির নিচে ডুবে যায় প্রায় এক হাজার বসতবাড়ি। ধসে পড়ে শত শত কাঁচা ঘরবাড়ি।