ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাত ও পায়ের গঠন কেমন ছিল? ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ২ চুরি, সিস্টেম লস ও ভর্তুকিতে ঘুরপাক পঞ্চগড়ে ব্যর্থ হয়ে চার দিন পর ১০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ রামিসা হত্যা মামলার রায় যেভাবে কার্যকর হবে রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা মুক্তাগাছায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু পটুয়াখালীতে জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো সবুজ দেয়াল বিলীন! আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর চলচ্চিত্র 'সাঁকোটা দুলছে' বিএনপির ১৩ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগ -যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২১ পুশইন ব্যর্থ, দুদিন পর হরিপুর সীমান্ত থেকে ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিল বিএসএফ বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াল এনবিআর ময়মনসিংহে ধসে পড়া বেইলি ব্রিজটি ১০ বছর ধরে ছিল ঝুঁকিপূর্ণ সাদুল্লাপুরে কাভার্ডভ্যানে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১ লেবানন থেকে ড্রোন হামলায় ফিরল দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ মতিঝিলে ব্যাংকের সামনে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে দুর্ধর্ষ ছিনতাই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক কালজানি ও দুধকুমারের কালো রূপ: বর্ষার আগেই নদীগর্ভে শতাধিক বাড়ি চাকরি না পেয়ে ইউটিউব দেখে আম চাষ, লক্ষাধিক টাকা আয় মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত সন্তানের বাবা-মায়ের শেষ ঠিকানা কেন বৃদ্ধাশ্রম? সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাড়তি কর চাপানো ঠিক হবে না ‘ঢলন’ প্রথায় শতকোটি টাকা হারাচ্ছেন রাজশাহীর আমচাষিরা ককরোচ পার্টির আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি, সরকারকে আলটিমেটাম হাসপাতালে ভর্তি সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মূল্যস্ফীতি বেড়েছে : চাপে সাধারণ মানুষ আনোয়ারা: দল বদলায়, রক্ষাকবচে অত্যাচার থামে না
Nagad desktop

ফেনীতে পরীক্ষায় নকল সরবরাহ, শিক্ষকের ২ বছর কারাদণ্ড

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২৮ পিএম
ফেনীতে পরীক্ষায় নকল সরবরাহ, শিক্ষকের ২ বছর কারাদণ্ড
ছবি: খবরের কাগজ

ফেনীতে দাখিল পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে হাতে লিখে প্রশ্নোত্তর সরবরাহের দায়ে ফেনী সদর উপজেলার মটুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইউনুসকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফেনী আলিয়া কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা নাসরিন কান্তা এ দণ্ডাদেশ দেন।

জানা গেছে, ফেনী আলিয়া কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে দাখিলের কুরআন মাজিদ ও তাজবিদের পরীক্ষা চলছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্র পরিদর্শনে যান ইউএনও। এ সময় শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থীকে হাতে লেখা প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করছিলেন মো. ইউনুস। পরে ওই শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র যাচাইয়েও নকল সরবরাহের সত্যতা পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থীকে হাতেলেখা প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করছিলেন। অভিযুক্ত শিক্ষক দোষ স্বীকার করেছেন। তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

নিলয়/সিফাত/

ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ২

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ২
দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের মরদেহ।ছবি: খবরের কাগজ।

পাবনার ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ দুই জন নিহত হয়েছে। 

রবিবার (৭ জুন) রাত ৮টার দিকে দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া মহাসড়কের কোলেরকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

দুর্ঘটনায় নিহত শিশুটির নাম মো. আলিফ হোসেন (১০)। সে পাবনার ভাড়ারা ইউনিয়নের কোলদি এলাকার জাহিদ হোসেনের ছেলে। নিহত অপরজন মোটরসাইকেল আরোহী বাকী বিল্লাহ (৩৫)। সে আতাইকুলা থানার শ্রীকোল গ্রামের বাশার শেখের ছেলে। বাকী বিল্লাহ মুরগী ব্যবসায়ী ছিলেন। 

পাকশী হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার স্টেশন সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রূপপুর, পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা ঘুরে আলিফ মায়ের সঙ্গে সিএনজিতে পাবনায় ফিরছিলো। দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া মহাসড়কের কোলেরকান্দি এলাকায় এলে একটি ট্রাক সিএনজিকে ধাক্কা দিলে শিশু আলিফ সড়কে ছিটকে পড়ে । এ সময় সড়ক অতিক্রম করার সময় মোটরসাইকেল আরোহী বাকী বিল্লাহ সড়কে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে গেলে অপর আরেকটি ট্রাকের চাকায় দুজনই পিষ্ট হয়। 

গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মাজেদুল ইসলাম জানান, রাত সোয়া ৮টার দিকে  খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যেয়ে শিশু ও মোটরসাইকেল আরোহীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উভয়ের মাথা থেঁতলে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় ছিল। 

তিনি আরও জানান, এ দুর্ঘটনায় শিশুটির মা আঁখি খাতুন আহত হন। তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। 

পাকশী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নান্নু খান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। দূর্ঘটনার পর ট্রাক, সিএনজি পালিয়ে যাওযায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা করা হবে। 

জাহাঙ্গীর হোসেন/অন্তরা 

পঞ্চগড়ে ব্যর্থ হয়ে চার দিন পর ১০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
পঞ্চগড়ে ব্যর্থ হয়ে চার দিন পর ১০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
ছবি: খবরের কাগজ

পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টায় আটকে পড়া শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষকে চারদিন পর ফেরত নিয়েছে বিএসএফ।

রবিবার (৭ জুন) রাতে ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে শিশুসহ ওই ১০জনকে সরিয়ে ভারতে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ৷

সরিয়ে নেয়ার পর আবারো সীমান্তের লাইট চালু করে বিএসএফ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক  লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম।

শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে (বিএসএফ) শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে শূন্যরেখায় আটকে থাকে। শূন্যরেখায় কৃষি জমির আইলের মধ্যে তারা টানা চারদিন অবস্থান করেন। পরে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এদিকে রবিবার দুপুর ১২ টার দিকে আবারও ভারতের অংশের শূন্যরেখা থেকে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরেখা থেকে পুশইনের চেষ্টায় আটকে থাকাদের বিএসএফ ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেও বিজিবির টহল ও অবস্থান অব্যহত রয়েছে। এছাড়া অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন সীমান্তে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি তাদের টহল জোরদার করেছে বিজিবি। 

রনি মিয়াজী/আমান

রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:০৯ এএম
রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা
ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফের ট্রাক। ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তের ওপারে বাংলা ভাষাভাষী নাগরিকদের ট্রাকে করে জড়ো করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ)।

রবিবার (৭ জুন) রাতে এসব নাগরিকদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে এলাকাবাসী ও বিজিবির তৎপরতায় বিএসএফের চেষ্টা সফল হয়নি।

রবিবার (৭ জুন) যাদুরচর ইউনিয়নের বাগবান্ধা সীমান্তের ১০৬৯ নম্বর মেইন পিলারের ৮ নম্বর সাব-পিলারের কাছে রাত সাড়ে ১১টায় পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় এলাকাবাসী সীমান্তে শক্ত অবস্থানে থাকায় বিএসএফ ব্যর্থ হয় বলে যাদুরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৬ জুন) রাত ১টার দিকে একই সীমান্তের 'সুদুরটিলা' ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা দুটি ট্রাকে করে বেশ কিছু মানুষকে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে নিয়ে আসে। উদ্দেশ্য ছিল রাতের অন্ধকারে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করা। ওই সময় সীমান্ত এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক শক্ত অবস্থান নেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে সীমান্তের সাধারণ মানুষও বিজিবির সমর্থনে লাঠিসোটা নিয়ে ছুটে আসেন এবং সীমান্তে অবস্থান নেন। বিজিবি ও এলাকাবাসীর এই অনড় অবস্থান দেখে বিএসএফ সদস্যরা তখন পিছু হটতে বাধ্য হয়।

সীমান্তে বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দারা খবরের কাগজকে জানান, ভারতের অভ্যন্তরে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন- ভারতের আসাম রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসলিম নারী, পুরুষ ও শিশুদের ধরে এনে সীমান্ত ক্যাম্পগুলোতে জড়ো করা হচ্ছে। তাদেরকে সুযোগ বুঝে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে বিএসএফ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘শনিবার রাতে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দিয়ে কিছু মানুষকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নামানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিজিবি ও এলাকাবাসীর যৌথ এবং শক্ত অবস্থানের মুখে তারা সফল হতে পারেনি। সোমবার রাতেও বিএসএফ প্রায় ৩০০ মানুষকে এনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবির পাশাপাশি গ্রামবাসীরাও সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান নেন।’

এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির খেওয়ারচর বিওপির ল্যান্স নায়েক সুমন আলী খবরের কাগজকে জানান, সীমান্তের ওপারে ক্যাম্পে লোকজন ধরে এনে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে বিএসএফ। গ্রামবাসীসহ আমরা শক্ত অবস্থানে রয়েছি। কোনোভাবেই অবৈধ পুশইন হতে দেওয়া হবে না। 

গোলাম মাওলা সিরাজ/থিও

মুক্তাগাছায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
মুক্তাগাছায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) বেলা দুইটার দিকে উপজেলার রঘুনাথপুর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শিশু দুটির নাম মো. হোসাইন (৬) ও মারিয়াম (৫)। তারা চাচাতো ভাই-বোন। হোসাইনের বাবার নাম আনোয়ার হোসেন ও মারিয়ামের বাবা মো. সাকিব। তারা রঘুনাথপুর মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নে রঘুনাথপুর মধ্যপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশে খেলা করার সময় অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে যায় হোসাইন ও মারিয়াম। পরে আত্মীয়স্বজনরা তাদের খোঁজাখুঁজি করেও পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে একটি শিশু ভেসে ওঠে। পরে পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে অন্য শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/খাদিজা রুমি/

পটুয়াখালীতে জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো সবুজ দেয়াল বিলীন!

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
পটুয়াখালীতে জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো সবুজ দেয়াল বিলীন!
সংরক্ষিত গঙ্গামতি বনাঞ্চলের পাশের খালসহ প্লাবনভূমিতে শোভা পাচ্ছে আবাসন কোম্পানির সাইনবোর্ড। গতকাল পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা এলাকায়। ছবি: খবরের কাগজ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গঙ্গামতিসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চল বহুমুখী সংকটে পতিত হয়েছে। এসব বনাঞ্চল এখন বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। একে তো সাগরের অব্যাহত ভাঙনে কুয়াকাটার লেম্বুরচর থেকে পর্যটনপল্লী গঙ্গামতি লেকপাড় পর্যন্ত সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অর্ধেকটা বিলীন হয়ে গেছে। তার ওপরে বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির দখলে চলে গেছে বেড়িবাঁধের বাইরের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চলসহ খালবিল প্লাবনভূমি।

প্রভাবশালী মহল ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল থাকা এই প্লাবনভূমি, খাল, সরকারি খাসজমি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আশপাশের এরিয়া আবাসন কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করায় এমন সংকট তৈরি হয়েছে। এরা প্রথমে বেড়িবাঁধের বাইরের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল কেটে বিরানভূমি করেছে। তারপরে পানির প্রবাহ বহমান খাল বন্ধ করে বাউন্ডারি রিংবেড়িবাঁধ দিয়ে আটকে দিয়েছে। এসব প্লাবনভূমিতে এখন আবাসন কোম্পানির শত শত সাইনবোর্ড শোভা পাচ্ছে।

তাদের অস্থায়ী অফিসঘর তোলা হয়েছে। ফলে সাগরপারের সবুজ দেয়ালখ্যাত ম্যানগ্রোভ ঘেরা সংরক্ষিত বনাঞ্চল হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই এসব জমি হস্তান্তরে গোটা উপকূলের পরিবেশগত হুমকি ক্রমশ বাড়ছে। ফলে প্রবল ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাণঘাতী দুর্যোগে জলোচ্ছ্বাসের প্রাথমিক ঝাপটা থেকে রক্ষাকবচ সবুজ দেয়ালখ্যাত বনাঞ্চল নিশ্চিহ্নের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।  

সবচেয়ে ক্ষতিকর পেরেক মেরেছে জরিপ অধিদপ্তর। সর্বশেষ বিএস জরিপে গঙ্গামতির বিশালকায় দেড় হাজার একরের গেজেটভুক্ত বনাঞ্চলকে সরকারি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন একশ্রেণির ভূমিদস্যু আবাসন কোম্পানিসহ বিভিন্ন ভূমিখেকোদের হায়ার করে ওই বনাঞ্চলসহ জমিজমার মালিকানার কাগজপত্র তৈরি করার কাজে নেমেছে। এরা সবসময় মহিপুর ভূমি অফিসে ঘুরঘুর করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, ২০০১ সালেও কুয়াকাটা সৈকতের দুই দিকে ধুলাসার, গঙ্গামতি, কাউয়ারচর এবং পশ্চিমদিকে খাজুরা ও লেম্বুরচর বনাঞ্চলে ছিল সবুজের আস্তরণ। পরিপূর্ণ ছিল ম্যানগ্রোভ-ননম্যানগ্রোভ প্রজাতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল। অন্তত পাঁচ হাজার একরজুড়ে এই সংরক্ষিত বনাঞ্চল ছিল। ২০১০ সালের তথ্যানুসারে বন বিভাগ মহীপুর রেঞ্জের অধীন সংরক্ষিত কুয়াকাটা বিট, কুয়াকাটা ক্যাম্প, গঙ্গামতি, খাজুরা ও ধুলাসার ক্যাম্পের অধীনে বনভূমির পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৯৭৮ দশমিক ৩৩ একর। এর মধ্যে কুয়াকাটা সৈকতের কুয়াকাটা বিটের ১৯৩ একর এবং কুয়াকাটা ক্যাম্পের অধীন বনভূমির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮১৮ দশমিক ৯৩ একর। গঙ্গামতি ক্যাম্পের আয়তন কাগজে-কলমে ১১২৮ একর। কিন্তু বাস্তবে এখন এসব সংরক্ষিত বনের এক-তৃতীয়াংশ নেই। ধুলাসার ক্যাম্পের ৪৬১ একরের নেই ৫০ একরও। সব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সংরক্ষিত বিশাল এই বনাঞ্চলগুলোর অর্ধেকের বেশি ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা থেকে শুরু হয়ে সাগরের অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে মানুষের দখল-দূষণেও মারা পড়ছে হাজার হাজার গাছ। গত ১০ বছর ধরেই আশপাশের বনের জমিসহ প্লাবনভূমি দখল করে নেওয়া হচ্ছে। 

একই সঙ্গে কৃষি ও মাছ ধরা দুটো পেশায় জড়িত আলম প্যাদা গঙ্গামতি বনের পাশে গরুকে ঘাস খাওয়াচ্ছিলেন। তিনি জানালেন, সিডরের পরেও বেড়িবাঁধের স্লোপ থেকে বাইরে সাগরের তীর পর্যন্ত গভীর বনাঞ্চল ছিল। বনের মধ্যে চলাচলে ভয় লাগত। বন্যপশুরা বসবাস করত। এখন সব উজাড় হয়ে গেছে। এভাবে চললে কয়েক বছরে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিলীনের শঙ্কা রয়েছে। 

তিনি জানালেন, গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনসহ বেড়িবাঁধের বাইরের এরিয়া সব বনাঞ্চলে ঘেরা ছিল। এখন নেই।  জেলেরা এর ভেতরের খাল দিয়ে সাগরে যাওয়া আসা করত। এখন ওই খালসহ জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকা সব জমি হিসেবে কোম্পানির (আবাসন) কাছে বিক্রি করা হয়েছে। আছে শুধু তাদের সাইনবোর্ড। কুয়াকাটা ও তৎসংলগ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল হচ্ছে গঙ্গামতি। কিন্তু এটির এখন প্রধান সমস্যা সাগরে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি গাছ কাটা, মাটি কাটা, দখল ও অবৈধ নির্মাণ প্রক্রিয়া।

একই দৃশ্য খাজুরা ও লেম্বুরচর বনাঞ্চলের। কাগজে-কলমে এ বনভূমির আয়তন ছিল ৩৪৬ দশমিক ৮৭ একর। এখন  বাস্তবে অর্ধেকও নেই। এখন সাগর পারে চলছে ঢেউয়ের আগ্রাসন। এর সঙ্গে চলছে প্রতিটি বনের গাছপালা নিধনের তাণ্ডব। যে যেভাবে পারছে বন ধ্বংস করছে।

বাংলাদেশের আইনে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, খাল-নদীর প্রবাহমান এলাকা, প্লাবনভূমি ও খাস জমি-এসব জায়গা সাধারণভাবে বেসরকারি হাউজিং কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের জন্য উন্মুক্ত নয়। বরং এসব এলাকার ওপর বিশেষ সুরক্ষা ও ব্যবহার-নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

নিয়ম রয়েছে, বনভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে সরকারি পর্যায়ের অনুমতি নেওয়া। পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো আবাসন প্রকল্প অনুমোদনযোগ্য নয়। খাল ভরাট, জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা বা বন উজাড় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রাকৃতিক পানির প্রবাহ বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ বেআইনি। 

ফরেস্ট অ্যাক্ট ১৯২৭ মূলত সংরক্ষিত বন ও বনজ সম্পদ রক্ষার মূল আইন। সংরক্ষিত বনভূমিতে সরকারের অনুমতি ছাড়া দখল, পরিবর্তন বা বাণিজ্যিক ব্যবহার সীমাবদ্ধ। ন্যাশনাল ল্যান্ড ইউজ পলিসি, ২০০১ মূলত জলাভূমি বনভূমি, কৃষিজমি ও প্লাবনভূমি রক্ষার নীতি নির্ধারণ করে। এতে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে ভূমি ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেনেন্সি আ্যাক্ট, ১৯৫০ এবং অন্যান্য ভূমি আইন মূলত খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা সম্পর্কিত বিধান নির্ধারণ করে। কিন্তু এসব আইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেমন স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বনবিভাগ কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তর নির্বিকার।

এসব প্রতিপালনে সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল, খালবিল জলাশয়, প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষায় বাংলাদেশ বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ভূমি মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সব সময় চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে আসছে। এসব বিভাগের রয়েছে চরম সমন্বয়হীনতা। সব বিভাগের সমন্বয়ে পরিবেশ প্রতিবেশ জীববৈচিত্র, বনাঞ্চল, প্লাবনভূমি রক্ষায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বন উজাড় বন্ধ, প্লাবনভূমি সংরক্ষণ, জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার, পুনঃবনায়ন কার্যক্রম ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র সংরক্ষণ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সবাই ব্যস্ত শুধু চাকরি নামের সময় অতিক্রান্ত করতে। দায়বোধের জায়গা থেকে কেউ আন্তরিক নন-এমন মন্তব্য পরিবেশ সংগঠক কেএম বাচ্চুর।

বনবিভাগ মহীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গেজেটভুক্ত এলাকা সর্বশেষ জরিপে গঙ্গামতিকে খাস করা হয়েছে। দাগ খতিয়ান উল্লেখ নেই। শুধু চৌহদ্দি দেওয়া হয়েছে। অথচ একই জরিপে ধুলাসার বিটের ৪৯৮ দশমিক ০৬ একর বন বিভাগের নামে রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে গঙ্গামতির দেড় সহস্রাধিক একরজুড়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল এ কারণে সংকটে পড়েছে। আর বনাঞ্চলসহ ম্যানগ্রোভ-ননম্যানগ্রোভ বন রয়েছে  কিংবা আশপাশের প্লাবনভূমি হস্তান্তরে কখনো বন বিভাগের মতামত নেওয়া হয় না। এমন সব বাস্তবমুখী সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি প্রয়োজন বলে মনে করছেন এই বন কর্মকর্তা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, বেড়িবাঁধের বাইরের অধিগ্রহণকৃত স্লোপসহ সামনের জায়গাকে বড়পিঠ বলা হয়। এসব জায়গায় একসময় প্রচুর ছইলা-কেওড়া বাগান ছিল। তা উজাড় করা হয়েছে। এখন বাঁধ থাকছে জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে। বেড়িবাঁধের বাইরে যেন কোনো ধরনের স্থাপনা তোলা না হয় এমন পরামর্শ তিনি সীবিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির একটি সভায় বলেছেন। কিন্তু এসব মানা হয় না। ফলে পর্যটন এলাকার সবুজ প্রকৃতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর বাঁধের আশপাশের জমি হস্তান্তরে তাদের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কুয়াকাটা সি বিচ ম্যাজেমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব কাউছার হামিদ জানান, সরকারের অনুমোদনবিহীন সংরক্ষিত বনাঞ্চল এরিয়া ও পর্যটন এলাকার কোনো জমি আবাসন কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে সরকারি নিয়মনীতি অনুসারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাঁধ দিয়ে উপকূল, উপকূলীয় মানুষের জীবন ও সম্পদ দুর্যোগের কবল থেকে রক্ষা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বেড়িবাঁধের বাইরের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল প্রকৃত ‘প্রথম প্রতিরক্ষা দেয়াল’। এই প্রতিরক্ষা দেয়াল ঢেউয়ের শক্তি কমায়, জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা হ্রাস করে, মাটির ক্ষয় কমায় ও বাঁধের আয়ু বাড়ায়। মূলত বন ধ্বংস হলে বাঁধের ওপর চাপ বাড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই সর্বাগ্রে ম্যানগ্রোভ, ননম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।