জুলাই-আগস্টের গণহত্যায় নিহত শহিদ শাহাদাত হোসেন শাওনের পরিবার মামলার আসামিদের হুমকিতে প্রাণভয়ে কর্মস্থল ঢাকার যাত্রাবাড়ী ছেড়ে পালিয়ে নোয়াখালীতে আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বড় ভাই মো. হানিফ।
রবিবার ( নোয়াখালী জেলা পরিষদ আয়োজিত শহিদ পরিবারকে অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানের বক্তব্যে জেলা প্রশাসকের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. হানিফ বলেন, ‘মা-বাবাসহ আমরা পাঁচ ভাইবোন ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় বসবাস ও হালিমের দোকান করে সংসার চালাতাম। ৫ আগস্ট হেলিকপ্টার থেকে করা গুলিতে যাত্রাবাড়ী মেয়র হানিফ উড়াল সেতুতে আমার ছোট ভাই শাওন শহিদ হয়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করলে আসামি ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা প্রতিনিয়ত আমাদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। নিরুপায় হয়ে প্রাণে বাঁচতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে গত ২৮ এপ্রিল নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে চলে এসেছি।’
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদকে উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, ‘আমার ভাইকে হারিয়েছি। আমি নিজেও গুলিবিদ্ধ আহত। ভাই হত্যার মামলায় কোনো আসামি তো গ্রেপ্তার হয়নি। বরং আসামিরা আমার বাবাসহ পরিবারের সবাইকে হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে আমরা প্রাণভয়ে বাড়িতে চলে এসেছি। এখন আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা চাই।’
শহিদ সাহাদাত হোসেন শাওনের মা সামছুন্নাহার ছেলের কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আদরের ছোট সন্তানকে হারিয়েছি। মামলা দিয়ে এখন আওয়ামী লীগের ভয়ে পুরো পরিবার পালিয়ে বেড়ানোর মতো অবস্থা। যাত্রাবাড়ীতে একটা ছোট্ট হালিমের দোকান ছিল। তাও প্রভাবশালীরা তুলে দিয়েছে। আমরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কাজী রমজান ওমর খবরের কাগজকে বলেন, ‘হুমকির বিষয়টি কেউ আমাদের অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি।’
অনুষ্ঠানে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, সদস্যসচিব বনি ইয়ামিন, মুখ্য সংগঠক ফরহাদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।