জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের ৩৬ পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান ও ঈদ সামগ্রী দিয়েছে জেলা সমাজকল্যাণ কমিটি ও 'ওয়ারিয়র্স অব জুলাই, পঞ্চগড়'।
মঙ্গলবার (৩ মে) পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সহায়তা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সাবেত আলী, প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সামসি আরা জামান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়, জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইন, যুবদলের সদস্য সচিব নুরুজ্জামান বাবু, ওয়ারিয়র্স অব জুলাই, পঞ্চগড়ের আহ্বায়ক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ রানা ও সদস্যসচিব এ.কে.এম সাজ্জাদুর রহমান আকাশ।
আন্দলনে চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা রবিউল ইসলাম বলেন, 'আমার এক চোখের আলো অনেকটাই নিভে গেছে, কিন্তু এখনো আশায় বাঁচি। আজকের এ সহানুভূতি আমাদের বাঁচার সাহস জোগায়।'
একই কথা বলেন আব্দুর রশিদ, যিনি পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছিলেন, তিনি বলেন, 'ভুলে যাওয়া সহজ, কিন্তু মনে রাখা অনেক কঠিন। আজকের এ আয়োজন আমাদের জানান দেয়, কেউ একজন এখনো মনে রেখেছে।'
আব্দুল হামিদ নামে এক নিহতের বাবা বলেন, 'ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। কিন্তু এমন দিনে কেউ পাশে এসে দাঁড়ালে মনে হয়, সে শুধু আমার ছেলে নয়, জাতির সন্তান ছিল।'
জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সামসি আরা জামান বলেন, 'এরা শুধু সংখ্যায় কিছু পরিবার নয় এরা আমাদের বিবেকের স্মারক। আমরা চাই, কেউ যেন ভুলে না যায় কাদের রক্তে লেখা হয়েছে পঞ্চগড়ের ইতিহাস।'
জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী বলেন, 'জুলাই আগষ্টে যারা শহিদ হয়েছেন তাদের ত্যাগ আমাদের গর্ব ও অনুপ্রেরণার উৎস। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন সবসময় এ পরিবারগুলোর পাশে থাকবে মানবিক দায়িত্ব থেকে, দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে। এ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি এবং সেই শ্রদ্ধা সবসময় থাকবে। যারা আহত হয়েছেন তাদের পাশেও আমরা রয়েছি ৷'
তিনি আরও বলেন, এ আয়োজন শুধু অনুদান বিতরণ নয়, ছিল একান্ত মানবিক দায়বদ্ধতার প্রকাশ। পঞ্চগড়ের মাটি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, শোকের মধ্যেও সম্মান থাকতে পারে, বেদনার মধ্যেও দায়িত্ববোধ জাগ্রত থাকতে পারে।
রনি /রিফাত/মেহেদী/