ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী গৃহকর্মী রোবট! দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন বাজি রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রামিসার মৃত্যু, অপরাধীর শাস্তি এবং সমাজের দায় বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন জাতিসংঘ: উন্নয়ন অংশীদার নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২ প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র নর্ডিক দেশসমূহ: প্রকৃতি, সমৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া টুঙ্গিপাড়ায় বিদ্যালয়ের ফ্যান, জানালা, বই-খাতা বিক্রির অভিযোগ শাবনূরকে নিয়ে যা বললেন পূর্ণিমা হাম-উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু নওগাঁয় পানিতে ডুবে ১৩ মাসের শিশুর মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ পুশইন বন্ধে ভারতকে ১০-১২টি চিঠি দিয়েছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফলাফলের তারিখ ঘোষণা সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু ভাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা, এলাকাবাসীর তৎপরতায় রক্ষা বিল-ঝিলে পদ্ম ও শাপলার মায়াবী রূপ শরীয়তপুরে মাটি গরম হয়ে ধোঁয়া ওঠা স্থানে গ্যাস নেই: বাপেক্স শার্শায় আওয়ামী লীগ নেতা টিংকু গ্রেপ্তার
Nagad desktop

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৫, ১১:৪৯ এএম
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু
ছবি: খবরের কাগজ

কোরবানি ঈদ বা ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ১০ দিন বন্ধ থাকার পর আজ রবিবার (১৫ জুন) সকাল থেকে পঞ্চগড়ের চতুর্দেশীয় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পারাপার স্বাভাবিক ছিল।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক রেজাউল করিম শাহীন জানান, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গত ৫ জুন (বৃহস্পতিবার) থেকে ১৪ জুন (শনিবার) পর্যন্ত বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। রবিবার থেকে আবারও স্বাভাবিক নিয়মে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে, ফলে বন্দরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

এ বিষয়ে বাংলা বাংলাবান্ধা কাস্টমস-আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের সংশ্লিষ্ট কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টদের চিঠির মাধ্যমে আগেই জানানো হয়েছিল।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেডের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই ১০ দিন স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। আজ থেকে চার দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবীর জানান, বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পারাপারে কোনো সমস্যা হয়নি। ঈদের ছুটিতেও তাদের যাতায়াত ছিল স্বাভাবিক।

রনি/মেহেদী/

নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কয়েকটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিতে মৃত ব্যক্তিদের সদস্য হিসেবে বহাল রাখা, একই ব্যক্তির একাধিক সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটিতে পদধারণ এবং সদস্য তালিকায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত, বিশেষ নিরীক্ষা (স্পেশাল অডিট) এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

আবেদনকারী মো. এমতাজ উদ্দিন সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধকের কাছে এ আবেদন করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নাচোল উপজেলার ঘিওন মৎস্যজীবী সমিতি লিমিটেড, সোনালী জাল মৎস্যজীবী সমিতি লিমিটেড, শিবপুর-শিয়ালা মৎস্যজীবী সমিতি লিমিটেড, হুলাশপুর মৎস্যজীবী সমিতি লিমিটেড এবং কাতলাকান্দর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য তালিকা ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতলাকান্দর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য তালিকায় এমন একজন ব্যক্তির নাম এখনও বহাল রয়েছে, যিনি ২০২১ সালে মৃত্যুবরণ করেছেন। একইভাবে ঘিওন মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য তালিকাতেও ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণকারী এক ব্যক্তির নাম সদস্য হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অভিযোগকারীর দাবি, মৃত ব্যক্তিদের সদস্য হিসেবে বহাল রাখার ঘটনা শুধু প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনাই নয়, বরং সমবায় কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এ ছাড়া একই ব্যক্তি একাধিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সদস্য বা পদাধিকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (সংশোধিত)-এর পরিপন্থী বলে আবেদনকারী দাবি করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রতি অর্থবছরে বাধ্যতামূলক অডিট সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও মৃত সদস্যদের নাম তালিকায় বহাল থাকার ঘটনা অডিট কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ের কিছু অসাধু চক্রের সহায়তায় ভুয়া বা প্রশ্নবিদ্ধ সমিতি গঠন ও নিবন্ধন দেওয়ার মাধ্যমে সমবায় ব্যবস্থাকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সমবায়ের মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলোর নিবন্ধন বাতিল, অবৈধ ব্যবস্থাপনা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা, নতুন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নিবন্ধন কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত, বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনা এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মৃত ব্যক্তির নাম সদস্য তালিকায় থাকা এবং সমিতিগুলোর বিষয়ে নাচোল উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান হোসেন আকন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সদস্য তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের নাম রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তবে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতেই নিবন্ধন প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে যদি কোনো ধরনের জালিয়াতি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সমিতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে সমিতির নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

অন্যদিকে, জেলা সমবায় কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মো. মুকলেসুর রহমান অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে প্রায় দুই মাস আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল। সে সময় জানানো হয়েছিল যে মৃত ব্যক্তিদের নাম সদস্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে যদি তা না হয়ে থাকে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সমিতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে অভিযোগকারী ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, নিবন্ধন প্রদানের সময় যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হলে মৃত ব্যক্তি বা অযোগ্য সদস্যদের নামে সমিতি পরিচালনার সুযোগ থাকার কথা নয়। তাদের অভিযোগ, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সমবায় কর্মকর্তাদের দায়িত্বে গাফিলতি কিংবা যোগসাজশের কারণেই এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে বহাল রয়েছে। এমনকি কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নবিদ্ধ সমিতির নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সমিতির দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আব্দুল আজিজ/রিফাত/

নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
নদী-খাল কিছু নেই তবুও নির্মাণ হচ্ছে ব্রিজ
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কালীখোলা নামক স্থানে কোনো নদী-খাল-বিল কিছু নেই এমনই এক জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হচ্ছে মস্ত বড় এক ব্রিজ। যাতে ব্যায় হচ্ছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। ব্রিজটি বাস্তবায়ন করছে ফরিদপুর সড়ক বিভাগ।

ব্রিজ নির্মাণ নিয়ে স্থানীয়দের ভাষ্য, এখানে এত টাকা খরচ করে অযথা ব্রিজ নির্মাণ করা মানে সরকারি টাকার অপচয়। এ যেন ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুরের গোয়ালন্দ-তাড়াইল আঞ্চলিক সড়কের নগরকান্দা উপজেলার কালীখোলা নামক স্থানে নির্মিত হচ্ছে সেতুটি। এক সময় এখানে থাকা একটি খালের ওপর একটি সেতু ছিল। কিন্তু এখন ওই এলাকায় অনেক আগেই বাড়ি-ঘর তৈরি হয়েছে। ফলে নদী-খালের কোনো অস্তিত্ব নেই। এক পাশে ছোট্ট একটি ডোবার মতো রয়েছে। তার ওপর মস্ত বড় সেতু নির্মাণ যেন এক আজব কল্পনা। স্থানীয়রা স্থানটিতে এতো টাকা ব্যায়ে কোনো সেতু নির্মাণ প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন না। তারপরও অপরিকল্পিতভাবে সড়ক বিভাগ কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করে চলছেন মস্ত বড় সেতুটি। 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের গোয়ালন্দ-তাড়াইল আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে একসময় ছোট বড় অনেক সেতু থাকলেও সড়কটির বেশিরভাগ জায়গাতেই এখন কোনো সেতু নেই। প্রয়োজন না থাকায় সেতুগুলো উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বড় অংকের টাকা খরচ করে একটি সেতুটির নির্মাণ নজর কেড়েছে। নদী ছাড়া, খাল ছাড়া পুরাতন ব্রিজ ভেঙে নতুন সেতু নির্মানের বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের পাশাপাশি তাদের রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে। ব্রিজটি নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে অবরন ট্রেডার্স লিমিটেড। যার স্বত্বাধিকারী মো. মাজেদ শেখ। ব্রিজটির প্রয়োজন এক সময় থাকলেও এখন আর এর প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফজলুল রহমান বলেন, এখানে না আছে নদী-খাল, না আছে নালা। না আছে বড় কোনো জলাশয়। এ ছাড়া দু পাশেই রয়েছে বাড়ি-ঘর। এখানে এতো বড় ব্রিজের কোনো প্রয়োজন ছিল না। এতে সরকারের বড় অংকের টাকা অযথা নষ্ট হচ্ছে। 

আরেক বাসিন্দা মো. তারা প্রামাণিক জানান, দুই পাশে বাড়ি-ঘর গড়ে ওঠার কারণে এখন আর এখানে ব্রিজের কোনো প্রয়োজন ছিল না। এখানে এক সময় ব্রিজের খুব দরকার ছিল। কিন্তু সে ব্রিজ কালের বিবর্তনে এখন আর প্রয়োজন নেই। কারণ এখানে দুপাশে পানি প্রবাহের কোনো ব্যবস্থা নেই।

সেতুটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অবরন ট্রেডার্স লিমিটেডের দায়িত্বে থাকা সাইট ইঞ্জিনিয়ার বাবু হোসেন বলেন, সেতুটির দৈর্ঘ্যে ৪৪ মিটার। দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। এখন সেতুর নিচের পাইলিংয়ের কাজ চলছে। তবে প্রয়োজন নেই তারপরও কি কারণে এখানে এতো বড় সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

এ বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. জাহাঙ্গীর জানান, পূর্ব থেকেই এখানে ব্রিজ ছিল। যার কারণে আমরা প্রতিবেদন আকারে ঢাকায় পাঠানোর পর এটি পাস হয়ে এসেছে। যেহেতু এখানে ব্রিজ ছিল সেহেতু এখানে ব্রিজ তুলে ধরেই প্রতিবেদন পাঠাতে হবে আমাদের। ওই স্থানে ব্রিজ প্রয়োজন নাই এটা আমরা লিখতে পারিনা। 

নয়ন/নাঈম

শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কেটে নিলেন পৌর বিএনপির নেতা
বিএনপি নেতা শেখ বেলায়েত হোসেন (সেলিম)। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে শাহরাস্তি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেনের (সেলিম) বিরুদ্ধে। তিনি পৌরসভার সাহাপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনের সড়কের দুই পাশের ১০টি সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটির সুযোগে গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। পরে ওই কাঠ স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী সেকান্দারের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়।

গাছ ক্রয়ের বিষয়ে ফার্নিচার ব্যবসায়ী সেকান্দর বলেন, সরকারি রাস্তার পাশের গাছ হওয়ায় আমি কিনতে চাইনি। আমাকে গাছ ক্রয় করার জন্য বলা হলে আমি বলি, ঝামেলায় জড়াতে চাই না। তখন সেলিম ভাই, ইমাম মাস্টারসহ আরও চার-পাঁচজন বলেন, ‘তুমি গাছ কিনে নাও, সব ধরনের ঝামেলা আমরা সমাধান করব।’

এদিকে, সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো সড়কের গাছগুলো কাটার বিষয়ে পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন কিংবা বন বিভাগের কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহরাস্তি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন (সেলিম) বলেন, সড়কটি আমি পৌরসভা থেকে লিজ নিয়েছি। আমি সেখানে প্রায় ৩০টি গাছের চারা রোপণ করেছি। গাছগুলো মসজিদে দান করা হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ গাছগুলো কেটে নিয়েছে।  

তিনি দাবি করেন, বিষয়টি সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অবহিত করা হয়েছে।

শাহরাস্তি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা বন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম জানান, গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন। কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনো গাছ কাটা যায় না। তবে উক্ত সড়কের গাছ কাটার বিষয়ে কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। ব্যক্তি উদ্যোগে সড়কে গাছ লাগানো হলেও যথাযথ অনুমতি ছাড়া কেউ তা কাটতে পারবেন না। বিষয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মনিরা খাতুন বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি অবগত হয়েছি। বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফয়েজ/রিফাত/

বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
বানিয়াচংয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, আহত ৫০
ছবি: খবরের কাগজ

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বড়িউড়ি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলে এই সংঘর্ষ। টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও দুই ঘণ্টার চেষ্টার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপারেশন ডেভিল হান্ট চলাকালে বড়িউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমদ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা কফিল উদ্দিন।

সম্প্রতি ফরিদ আহমদ জামিনে মুক্তি পেয়ে পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে চান। কিন্তু তিনি নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করে প্রভাব কাটিয়ে দায়িত্ব নিতে চাইলে কফিল উদ্দিন আপত্তি জানান। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও বিরোধ তৈরি হয়।

সোমবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ফরিদ আহমদ ও কফিল উদ্দিনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) প্রবাস কুমার সিংহ বলেন, ‘চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের মধ্যকার পূর্ববিরোধের জেরেই মূলত এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

কাজল সরকার/সালমান/

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ২
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুরু মিয়া (৬৫) ও সানাউল্লাহ (১৮) নামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন- নেয়ামতপুর গ্রামের জমির হোসেনের ছেলে নুরু মিয়া (৬৫) এবং মর্জু মিয়ার ছেলে সানাউল্লাহ (১৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেয়ামতপুর গ্রামের মৃত মতি সরকারের স্ত্রীর মরদেহ দাফনের জন্য কবরস্থানে কবর খুঁড়তে যান স্থানীয় কয়েকজন। এ সময় কবর ঢাকার জন্য ব্যবহৃত স্টিলের একটি শিল্ড সরানোর সময় কবরস্থানের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তারা। এতে ঘটনাস্থলেই সানাউল্লাহর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নুরু মিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আতিক আকরাম জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত একজনকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। অপরজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আজিজুল সঞ্চয়/রিফাত/