ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদে নির্মাণাধীন কেওয়াটখালী আর্চ স্টিল ব্রিজ প্রকল্পে একনেক অনুমোদিত নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, প্রকল্পটিতে পরিবেশ, প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতির পাশাপাশি বিপুল অর্থ অপচয় করে অতিরিক্ত দুই কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। একটি মানববন্ধন থেকে এসব অভিযোগ তোলা হয়। গতকাল সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ শহরের শশী লজের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট আবুল কালাম আল আজাদের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একনেকের নকশার বাইরে ৩২ একর বাড়তি ভূমি অধিগ্রহণের কারণে স্কুল, মাদ্রাসা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বসতভিটা উচ্ছেদসহ প্রচুর কৃষিজমি, খাল, জলাশয় ভরাট হবে। তৈরি হবে জলাবদ্ধতা। বন্ধ হবে জনচলাচলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ফলে বিপন্ন হবে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। এগুলো কার স্বার্থে?
বক্তারা বলেন, প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা কিছু প্রভাবশালীর চক্রান্তের শিকার হয়েছে। অপরিকল্পিত সংযোগ সড়ক নির্মাণের কারণে (দুটি সেতুর সংযোগ সড়ক একই স্থানে মিলিত হওয়ায়) দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও যানজট বাড়ার প্রচণ্ড আশঙ্কা রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এর জন্য রাষ্ট্রের বাড়তি ব্যয় হবে কমপক্ষে ২ হাজার কোটি টাকা। তেমনটি হলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি, জনদুর্ভোগ, পরিবেশ ও প্রকৌশলগত বিপর্যয় ঘটতে পারে। কাজেই নকশাবহির্ভূত নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ না করলে প্রয়োজনে ময়মনসিংহ নগরী অচল করে দেওয়া হবে।
সদা জাগ্রত ময়মনসিংহ, সম্মিলিত আন্দোলন ও ন্যায্যতার পক্ষে ময়মনসিংহের আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল, মানবাধিকারকর্মী ও অ্যাডভোকেট এ টি এম মাহবুব আলম, শিল্পী হোসাইন ফারুক, সংস্কৃতিকর্মী ইমতিয়াজ আহমেদ, সাংবাদিক কামরুল হাসান, কবি আরাফাত রিলকে, বিপ্লব নিব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আশিকুর রহমান, ফয়সাল ফারনিম, ওয়ালিউল্লাহ, আরিফ হাসান তমাল, শরীফুল ইসলাম, রুমা আক্তার পিংকী প্রমুখ।
এর আগে গত ১৪ জুন বেলা ১১টায় ‘ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলন’ নামের নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। এ সময় বহুল প্রতীক্ষিত কেওয়াটখালী আর্চ স্টিল ব্রিজ প্রকল্পে অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন করে নির্মাণকাজ পরিচালনা, ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়ম এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগ তোলা হয়। নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একনেক অনুমোদিত নকশায় সংযোগ সড়ক বাস্তবায়নসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।
বক্তব্য জানতে চাইলে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক দিদারুল আলম তরফদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘একনেক অনুমোদিত মূল নকশা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। মূল নকশা পরিবর্তন করার অভিযোগটি সত্য না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।’