ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পটুয়াখালীতে জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো সবুজ দেয়াল বিলীন! বিএনপির ১৩ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগ -যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২১ পুশইন ব্যর্থ, দুদিন পর হরিপুর সীমান্ত থেকে ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিল বিএসএফ বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াল এনবিআর ময়মনসিংহে ধসে পড়া বেইলি ব্রিজটি ১০ বছর ধরে ছিল ঝুঁকিপূর্ণ সাদুল্লাপুরে কাভার্ডভ্যানে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১ লেবানন থেকে ড্রোন হামলায় ফিরল দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ মতিঝিলে ব্যাংকের সামনে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে দুর্ধর্ষ ছিনতাই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক কালজানি ও দুধকুমারের কালো রূপ: বর্ষার আগেই নদীগর্ভে শতাধিক বাড়ি চাকরি না পেয়ে ইউটিউব দেখে আম চাষ, লক্ষাধিক টাকা আয় মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত সন্তানের বাবা-মায়ের শেষ ঠিকানা কেন বৃদ্ধাশ্রম? সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাড়তি কর চাপানো ঠিক হবে না ‘ঢলন’ প্রথায় শতকোটি টাকা হারাচ্ছেন রাজশাহীর আমচাষিরা ককরোচ পার্টির আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি, সরকারকে আলটিমেটাম হাসপাতালে ভর্তি সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মূল্যস্ফীতি বেড়েছে : চাপে সাধারণ মানুষ আনোয়ারা: দল বদলায়, রক্ষাকবচে অত্যাচার থামে না ৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প জয়ী হননি, বিশ্ব অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি ৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া জোটে’র বৈঠক আজ, বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ২৩ দল সবজির শত্রু কাঁঠালে পোকা আলোচিত না হলেই তদন্ত ও বিচারে ধীরগতি ৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন
Nagad desktop

গোপালগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৫, ০৫:৪৮ পিএম
গোপালগঞ্জে হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে নৈশপ্রহরী গৌতম গাইন (৩৫) হত্যার ঘটনায় মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর দাবি, গৌতমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতার এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

গৌতম গাইন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের কলিগ্রামের বিমল গাইনের ছেলে।

শনিবার (১২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে গৌতমের মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হলে নিজ এলাকায় নিয়ে আসা হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের জলিরপাড় জেকেএমবি উচ্চ বিদ্যালয় সামনে এ বিক্ষোভ
সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই এলাকার তিনশতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

এর আগে ওই এলাকার বঙ্গরত্ন মহাবিদ্যালয়ের সামনে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে উজানি- জলিরপাড় সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিলসহ মরদেহ নিয়ে জেকেএমবি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে যানয়। এ সময় তার গৌতম গাইনের
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ সমাবেশ বক্তব্য রাখেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নীলরতন বালা, রুপালতা মন্ডল, বিএনপি নেতা চিন্তাহরন মন্ডল।

নিহত গৌতম গাইনের ভাইজি সমর্পিতা গাইন বলেন, 'আমার কাকা একজন নিরীহ লোক ছিল। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাকে কেনো নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো? কি অপরাধ করেছিলো আমার কাকা? আমার জন্মের পর এমন হত্যাকাণ্ড দেখিনি। সরকারের কাছে
আবেদন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।'

নিহতের ভাইয়ের স্ত্রী স্বরসতি বৈরাগী বলেন, 'আজ ছোট দুটি সন্তান বাবা হারা হলো। অন্যের বাবারা যখন সন্তানদের আদর করবে তখন এ এতিম বাচ্চাদের কি জবাব দেবেন? আমরা চাই আর কোনো সন্তান যেন তার বাবাকে না হারায়, আর কোন ভাই যেন ভাই হারানো বেদনা নিয়ে চলতে না হয়।'

মুকসুদপুর থানার পরিদর্শক শীতল চন্দ্র পাল জানান, নিহতের স্ত্রী মিলি বৈরাগী বাদি হয়ে একটি অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে জেকেএমবি উচ্চ বিদ্যালয় যান গৌতম। সেখান থেকে নিখোঁজ হন তিনি। ওই রাতে কল দিলে মুঠোফোন বন্ধ পায় পরিবারের সদস্যরা। পরদিন বৃহস্পতিবার মুকসুদপুর থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয় (জিডি নং-
৫১৫)। এর পর শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর থানা পুলিশ কংশুর মধুমতি বিলরুট চ্যানেল থেকে গৌতমের মরদেহ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।

বাদল/মেহেদী/

পটুয়াখালীতে জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো সবুজ দেয়াল বিলীন!

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
পটুয়াখালীতে জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো সবুজ দেয়াল বিলীন!
সংরক্ষিত গঙ্গামতি বনাঞ্চলের পাশের খালসহ প্লাবনভূমিতে শোভা পাচ্ছে আবাসন কোম্পানির সাইনবোর্ড। গতকাল পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা এলাকায়। ছবি: খবরের কাগজ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গঙ্গামতিসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চল বহুমুখী সংকটে পতিত হয়েছে। এসব বনাঞ্চল এখন বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। একে তো সাগরের অব্যাহত ভাঙনে কুয়াকাটার লেম্বুরচর থেকে পর্যটনপল্লী গঙ্গামতি লেকপাড় পর্যন্ত সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অর্ধেকটা বিলীন হয়ে গেছে। তার ওপরে বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির দখলে চলে গেছে বেড়িবাঁধের বাইরের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চলসহ খালবিল প্লাবনভূমি।

প্রভাবশালী মহল ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল থাকা এই প্লাবনভূমি, খাল, সরকারি খাসজমি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আশপাশের এরিয়া আবাসন কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করায় এমন সংকট তৈরি হয়েছে। এরা প্রথমে বেড়িবাঁধের বাইরের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল কেটে বিরানভূমি করেছে। তারপরে পানির প্রবাহ বহমান খাল বন্ধ করে বাউন্ডারি রিংবেড়িবাঁধ দিয়ে আটকে দিয়েছে। এসব প্লাবনভূমিতে এখন আবাসন কোম্পানির শত শত সাইনবোর্ড শোভা পাচ্ছে।

তাদের অস্থায়ী অফিসঘর তোলা হয়েছে। ফলে সাগরপারের সবুজ দেয়ালখ্যাত ম্যানগ্রোভ ঘেরা সংরক্ষিত বনাঞ্চল হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই এসব জমি হস্তান্তরে গোটা উপকূলের পরিবেশগত হুমকি ক্রমশ বাড়ছে। ফলে প্রবল ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাণঘাতী দুর্যোগে জলোচ্ছ্বাসের প্রাথমিক ঝাপটা থেকে রক্ষাকবচ সবুজ দেয়ালখ্যাত বনাঞ্চল নিশ্চিহ্নের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।  

সবচেয়ে ক্ষতিকর পেরেক মেরেছে জরিপ অধিদপ্তর। সর্বশেষ বিএস জরিপে গঙ্গামতির বিশালকায় দেড় হাজার একরের গেজেটভুক্ত বনাঞ্চলকে সরকারি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন একশ্রেণির ভূমিদস্যু আবাসন কোম্পানিসহ বিভিন্ন ভূমিখেকোদের হায়ার করে ওই বনাঞ্চলসহ জমিজমার মালিকানার কাগজপত্র তৈরি করার কাজে নেমেছে। এরা সবসময় মহিপুর ভূমি অফিসে ঘুরঘুর করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, ২০০১ সালেও কুয়াকাটা সৈকতের দুই দিকে ধুলাসার, গঙ্গামতি, কাউয়ারচর এবং পশ্চিমদিকে খাজুরা ও লেম্বুরচর বনাঞ্চলে ছিল সবুজের আস্তরণ। পরিপূর্ণ ছিল ম্যানগ্রোভ-ননম্যানগ্রোভ প্রজাতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল। অন্তত পাঁচ হাজার একরজুড়ে এই সংরক্ষিত বনাঞ্চল ছিল। ২০১০ সালের তথ্যানুসারে বন বিভাগ মহীপুর রেঞ্জের অধীন সংরক্ষিত কুয়াকাটা বিট, কুয়াকাটা ক্যাম্প, গঙ্গামতি, খাজুরা ও ধুলাসার ক্যাম্পের অধীনে বনভূমির পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৯৭৮ দশমিক ৩৩ একর। এর মধ্যে কুয়াকাটা সৈকতের কুয়াকাটা বিটের ১৯৩ একর এবং কুয়াকাটা ক্যাম্পের অধীন বনভূমির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮১৮ দশমিক ৯৩ একর। গঙ্গামতি ক্যাম্পের আয়তন কাগজে-কলমে ১১২৮ একর। কিন্তু বাস্তবে এখন এসব সংরক্ষিত বনের এক-তৃতীয়াংশ নেই। ধুলাসার ক্যাম্পের ৪৬১ একরের নেই ৫০ একরও। সব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সংরক্ষিত বিশাল এই বনাঞ্চলগুলোর অর্ধেকের বেশি ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা থেকে শুরু হয়ে সাগরের অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে মানুষের দখল-দূষণেও মারা পড়ছে হাজার হাজার গাছ। গত ১০ বছর ধরেই আশপাশের বনের জমিসহ প্লাবনভূমি দখল করে নেওয়া হচ্ছে। 

একই সঙ্গে কৃষি ও মাছ ধরা দুটো পেশায় জড়িত আলম প্যাদা গঙ্গামতি বনের পাশে গরুকে ঘাস খাওয়াচ্ছিলেন। তিনি জানালেন, সিডরের পরেও বেড়িবাঁধের স্লোপ থেকে বাইরে সাগরের তীর পর্যন্ত গভীর বনাঞ্চল ছিল। বনের মধ্যে চলাচলে ভয় লাগত। বন্যপশুরা বসবাস করত। এখন সব উজাড় হয়ে গেছে। এভাবে চললে কয়েক বছরে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিলীনের শঙ্কা রয়েছে। 

তিনি জানালেন, গঙ্গামতির সংরক্ষিত বনসহ বেড়িবাঁধের বাইরের এরিয়া সব বনাঞ্চলে ঘেরা ছিল। এখন নেই।  জেলেরা এর ভেতরের খাল দিয়ে সাগরে যাওয়া আসা করত। এখন ওই খালসহ জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকা সব জমি হিসেবে কোম্পানির (আবাসন) কাছে বিক্রি করা হয়েছে। আছে শুধু তাদের সাইনবোর্ড। কুয়াকাটা ও তৎসংলগ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনাঞ্চল হচ্ছে গঙ্গামতি। কিন্তু এটির এখন প্রধান সমস্যা সাগরে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি গাছ কাটা, মাটি কাটা, দখল ও অবৈধ নির্মাণ প্রক্রিয়া।

একই দৃশ্য খাজুরা ও লেম্বুরচর বনাঞ্চলের। কাগজে-কলমে এ বনভূমির আয়তন ছিল ৩৪৬ দশমিক ৮৭ একর। এখন  বাস্তবে অর্ধেকও নেই। এখন সাগর পারে চলছে ঢেউয়ের আগ্রাসন। এর সঙ্গে চলছে প্রতিটি বনের গাছপালা নিধনের তাণ্ডব। যে যেভাবে পারছে বন ধ্বংস করছে।

বাংলাদেশের আইনে সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, খাল-নদীর প্রবাহমান এলাকা, প্লাবনভূমি ও খাস জমি-এসব জায়গা সাধারণভাবে বেসরকারি হাউজিং কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের জন্য উন্মুক্ত নয়। বরং এসব এলাকার ওপর বিশেষ সুরক্ষা ও ব্যবহার-নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

নিয়ম রয়েছে, বনভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে সরকারি পর্যায়ের অনুমতি নেওয়া। পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো আবাসন প্রকল্প অনুমোদনযোগ্য নয়। খাল ভরাট, জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা বা বন উজাড় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রাকৃতিক পানির প্রবাহ বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ বেআইনি। 

ফরেস্ট অ্যাক্ট ১৯২৭ মূলত সংরক্ষিত বন ও বনজ সম্পদ রক্ষার মূল আইন। সংরক্ষিত বনভূমিতে সরকারের অনুমতি ছাড়া দখল, পরিবর্তন বা বাণিজ্যিক ব্যবহার সীমাবদ্ধ। ন্যাশনাল ল্যান্ড ইউজ পলিসি, ২০০১ মূলত জলাভূমি বনভূমি, কৃষিজমি ও প্লাবনভূমি রক্ষার নীতি নির্ধারণ করে। এতে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে ভূমি ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেনেন্সি আ্যাক্ট, ১৯৫০ এবং অন্যান্য ভূমি আইন মূলত খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা সম্পর্কিত বিধান নির্ধারণ করে। কিন্তু এসব আইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেমন স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বনবিভাগ কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তর নির্বিকার।

এসব প্রতিপালনে সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল, খালবিল জলাশয়, প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষায় বাংলাদেশ বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ভূমি মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সব সময় চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়ে আসছে। এসব বিভাগের রয়েছে চরম সমন্বয়হীনতা। সব বিভাগের সমন্বয়ে পরিবেশ প্রতিবেশ জীববৈচিত্র, বনাঞ্চল, প্লাবনভূমি রক্ষায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বন উজাড় বন্ধ, প্লাবনভূমি সংরক্ষণ, জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার, পুনঃবনায়ন কার্যক্রম ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র সংরক্ষণ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সবাই ব্যস্ত শুধু চাকরি নামের সময় অতিক্রান্ত করতে। দায়বোধের জায়গা থেকে কেউ আন্তরিক নন-এমন মন্তব্য পরিবেশ সংগঠক কেএম বাচ্চুর।

বনবিভাগ মহীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গেজেটভুক্ত এলাকা সর্বশেষ জরিপে গঙ্গামতিকে খাস করা হয়েছে। দাগ খতিয়ান উল্লেখ নেই। শুধু চৌহদ্দি দেওয়া হয়েছে। অথচ একই জরিপে ধুলাসার বিটের ৪৯৮ দশমিক ০৬ একর বন বিভাগের নামে রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে গঙ্গামতির দেড় সহস্রাধিক একরজুড়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল এ কারণে সংকটে পড়েছে। আর বনাঞ্চলসহ ম্যানগ্রোভ-ননম্যানগ্রোভ বন রয়েছে  কিংবা আশপাশের প্লাবনভূমি হস্তান্তরে কখনো বন বিভাগের মতামত নেওয়া হয় না। এমন সব বাস্তবমুখী সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি প্রয়োজন বলে মনে করছেন এই বন কর্মকর্তা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, বেড়িবাঁধের বাইরের অধিগ্রহণকৃত স্লোপসহ সামনের জায়গাকে বড়পিঠ বলা হয়। এসব জায়গায় একসময় প্রচুর ছইলা-কেওড়া বাগান ছিল। তা উজাড় করা হয়েছে। এখন বাঁধ থাকছে জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে। বেড়িবাঁধের বাইরে যেন কোনো ধরনের স্থাপনা তোলা না হয় এমন পরামর্শ তিনি সীবিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির একটি সভায় বলেছেন। কিন্তু এসব মানা হয় না। ফলে পর্যটন এলাকার সবুজ প্রকৃতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর বাঁধের আশপাশের জমি হস্তান্তরে তাদের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কুয়াকাটা সি বিচ ম্যাজেমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব কাউছার হামিদ জানান, সরকারের অনুমোদনবিহীন সংরক্ষিত বনাঞ্চল এরিয়া ও পর্যটন এলাকার কোনো জমি আবাসন কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে সরকারি নিয়মনীতি অনুসারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাঁধ দিয়ে উপকূল, উপকূলীয় মানুষের জীবন ও সম্পদ দুর্যোগের কবল থেকে রক্ষা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বেড়িবাঁধের বাইরের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল প্রকৃত ‘প্রথম প্রতিরক্ষা দেয়াল’। এই প্রতিরক্ষা দেয়াল ঢেউয়ের শক্তি কমায়, জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা হ্রাস করে, মাটির ক্ষয় কমায় ও বাঁধের আয়ু বাড়ায়। মূলত বন ধ্বংস হলে বাঁধের ওপর চাপ বাড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই সর্বাগ্রে ম্যানগ্রোভ, ননম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।

পুশইন ব্যর্থ, দুদিন পর হরিপুর সীমান্ত থেকে ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিল বিএসএফ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
পুশইন ব্যর্থ, দুদিন পর হরিপুর সীমান্ত থেকে ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিল বিএসএফ
সীমান্তে প্রহরায় বিজিবি সদস্য। ছবি: খবরের কাগজ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর জিরো লাইনে অবস্থানরত ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মশালগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ১১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান ও তৎপরতার কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতে থাকেন।

জিরো লাইনে অবস্থানরতদের মধ্যে ৩জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং চারটি শিশু ছিল। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তারা রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে মানবিক দুর্ভোগের মুখে পড়ে। তাদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারীও ছিলেন বলে জানা গেছে।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)  খবরের কাগজকে জানায়, সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক ৩টার পর বিএসএফ ওই ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছে না।

৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান খবরের কাগজকে জানান, সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা পুশইনের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এ দিকে দুদিন ধরে জিরো লাইনে অবস্থানের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নবীন হাসান/থিও/

ময়মনসিংহে ধসে পড়া বেইলি ব্রিজটি ১০ বছর ধরে ছিল ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
ময়মনসিংহে ধসে পড়া বেইলি ব্রিজটি ১০ বছর ধরে ছিল ঝুঁকিপূর্ণ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি বালুবাহী একটি ট্রাকসহ ধসে পড়েছে

অবশেষে যা হওয়ার ছিল, তাই হলো। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা এলাকার কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। গতকাল রবিববার ভোরে বালুবাহী একটি ট্রাকসহ সেতুটি নদীতে ধসে পড়ে। এতে শুধু একটি সেতুই নয়, ধোবাউড়াসহ আশপাশের এলাকার কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসাও মুহূর্তে ভেঙে পড়ে।

ভোর ৪টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ধোবাউড়ার সঙ্গে ময়মনসিংহ জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে আহত হয়েছেন ট্রাকের চালক ও হেলপার। স্থানীয়দের মতে, এটি কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা অবহেলা, উদাসীনতা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ব্যর্থতারই পরিণতি।

তারা বলছেন, প্রায় এক দশক আগে থেকেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। বিভিন্ন সময়ে বাঁশ, কাঠ ও অস্থায়ী উপকরণ দিয়ে মেরামত করে যান চলাচল সচল রাখা হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। নির্বাচনের আগে নতুন সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি মিলেছে বারবার। কিন্তু প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেয়নি। ফলে প্রতিদিন বহু মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ব্রিজটি ধসে পড়ায় ধোবাউড়া, গোয়াতলা, তারাকান্দা এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। কর্মজীবীরা সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনও বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি অনেকাংশে সড়ক যোগাযোগনির্ভর হওয়ায় দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে দীর্ঘদিন বহু মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করেছেন। ভোরে ময়মনসিংহগামী বালুভর্তি ট্রাকের চাপে সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এতে তারকান্দাসহ ময়মনসিংহ সদরের সঙ্গে ধোবাউড়ার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘এখন জানা যাচ্ছে এই স্থানে নতুন সেতু নির্মাণ হবে। অথচ সেতুটি প্রায় ১০ বছর ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তা হলে এই উদ্যোগ আগে নেওয়া হলো না কেন? ঝুঁকির সময়েই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজকের এই ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।’

আজিজুল ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, ‘ব্রিজটি ধসে যাওয়ার পর গাড়ি চলাচলের সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এখনো বহু পুরোনো বেইলি ব্রিজ ব্যবহৃত হচ্ছে। সাময়িক সমাধান হিসেবে নির্মিত এসব সেতুর অনেকটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। সেগুলোর পরিবর্তে স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ এগোয়নি। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিও রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। গোয়াতলার কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটির ধস সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের সমন্নয়কারী ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, ‘কোনো অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা হওয়ার পরও বছরের পর বছর সেটি ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া পরিকল্পনা ও নজরদারির দুর্বলতার পরিচায়ক। অস্থায়ী মেরামত নয়, কংস নদীর ওপর দ্রুত একটি আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করে জনদুর্ভোগ কমাতে হবে।’

তিনি বলেন, গোয়াতলা বেইলি ব্রিজের ধস আবারও মনে করিয়ে দিল, অবকাঠামোর ক্ষেত্রে অবহেলা শুধু উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে না, এক সময় জনজীবনকেও বিপর্যস্ত করে। এ ঘটনার পর কি সত্যিই স্থায়ী সমাধান হবে, নাকি মানুষকে আরেকটি দুর্ঘটনার অপেক্ষায় থাকতে হবে–সেটাই এখন প্রশ্ন। 

এ বিষয়ে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, সেতু ধসের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা চালু এবং সেতু মেরামত বা নতুন সেতু নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সাদুল্লাপুরে কাভার্ডভ্যানে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম
সাদুল্লাপুরে কাভার্ডভ্যানে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১
ছবি: প্রতীকী

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় জাতীয় মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় রফিক (৩৮) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন।

রবিবার (৭ জুন) ভোরে উপজেলার ধাপেরহাট এলাকার একবারপুর গ্রামের হাজী মাল্টিমিডিয়া কোল্ড স্টোরেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত চালক রফিক মিয়া (৩৫) টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার তালিমা গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে।

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন রবিবার বিকেলে খবরের কাগজকে জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রাকটি রংপুরের দিকে যাচ্ছিল। একই দিকে একটি কাভার্ডভ্যানও যাচ্ছিল। পথে ধাপেরহাট এলাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ডভ্যানের পেছনে ধাক্কা দিলে ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।  

মিলন খন্দকার/তামান্না রুপা/

লেবানন থেকে ড্রোন হামলায় ফিরল দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
লেবানন থেকে ড্রোন হামলায় ফিরল দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ
নাহিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

লাশবাহী গাড়ির দরজাগুলো খোলার সঙ্গে সঙ্গেই স্তব্ধ হয়ে গেল সাতক্ষীরার দুটি গ্রাম। চিরচেনা উঠানে যখন দুটি কফিন নামানো হলো, তখন আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে শুরু হলো স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে সাতক্ষীরা থেকে হাজার মাইল দূরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কিন্তু গত ১১ মে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সেই দুই রেমিট্যান্সযোদ্ধা–শফিকুল ও নাহিদুলের নিথর দেহ অবশেষে কফিনবন্দি হয়ে ফিরল তাদের প্রিয় জন্মভিটায়।

গত শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কফিন দুটি এসে পৌঁছায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল রবিবার সকালে মরদেহ দুটি সাতক্ষীরায় আনা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ধারদেনা আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে চাওয়া দুই তরুণের কফিন ছুঁয়ে স্বজনদের এই অন্তহীন মাতম উপস্থিত যে কাউকেই স্থির করে দেয়।

​সাতক্ষীরা সদরের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম একসময়ে থাকতেন সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হলেও অভাব পিছু ছাড়েনি। ধারদেনা শোধের অদম্য ইচ্ছা আর সন্তানদের একটু ভালো রাখার আশায় মাত্র কয়েক মাস আগে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি। লেবাননে গিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে প্রথম উপার্জনের টাকা পাঠিয়ে স্ত্রী রুমা খাতুন আর দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন বুনছিলেন। কিন্তু স্বামীর সেই নিথর কফিন আগলে রেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন রুমা। আর দুই অবুঝ শিশুকন্যা স্তব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল বাবার কফিনের দিকে, যেন তারা বুঝতেই পারছে না তাদের মাথার ওপর থেকে ছায়া চিরতরে সরে গেছে।

শফিকুলের বোন জাহানারা খাতুন ভাইয়ের কফিন ধরে বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ভাইটা তো কোনো পাপ করেনি। শুধু আমাদের মুখে একটু ডাল-ভাত তুলে দেওয়ার জন্য, ধারদেনার বোঝা থেকে মুক্তি পেতে সে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল। প্রথম মাসের টাকা পাঠিয়ে বলেছিল, আপা, এবার আমাদের দুঃখ ঘুচবে। সেই ভাই আজ লাশ হয়ে ফিরল! আমরা এখন কার দিকে তাকাব?’

ছেলের শোকে পাথর হয়ে গেছেন মা আজেয়া খাতুন। বিলাপ করার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। এক দৃষ্টিতে কফিনের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কলিজার টুকরো এভাবে কফিনে বন্ধ হয়ে ফিরবে, আমি কোনোদিন ভাবিনি। ও যাওয়ার সময় বলেছিল, মা আর কষ্ট করা লাগবে না। ওর সেই কথা কি এভাবেই সত্যি হলো? ও আল্লাহ, তুমি আমার ছেলের বদলে আমাকে কেন নিয়ে গেলে না!’

এদিকে এতিম দুই শিশুর দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন মিঠু বলেন, ‘পরিবারটি একেবারেই নিঃস্ব। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু ছাড়া আর কিছুই নেই। এই ছোট ছোট মেয়ে দুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরিবারটির কারও কর্মসংস্থান জরুরি। নইলে এই এতিম শিশুরা পথে বসে যাবে।’

একই দিন লাশের খাটিয়া পৌঁছেছে আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামের যুবক নাহিদুলের বাড়িতে। নোনা পানির এই অবহেলিত জনপদে নিজের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাহিদুল। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া সন্তানকে আজ কফিনবন্দি দেখে পাগলপ্রায় বৃদ্ধ বাবা-মা।

ছেলের কফিনে মাথা কুটে কাঁদছিলেন বৃদ্ধ বাবা আব্দুল কাদের। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘জমিজমা যা ছিল সব বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ও আমাদের এই বুড়ো বয়সের লাঠি হবে, সংসারের অভাব দূর করবে। কিন্তু যুদ্ধ আমার সব শেষ করে দিল।’

​এদিকে ছেলেকে হারিয়ে মা নুরুন্নাহার খাতুন এখন শয্যাশায়ী। ছেলের মৃত্যুর খবর আসার পর থেকেই তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। কফিন বাড়িতে আসার পর তাকে ধরে উঠানে আনা হলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। চেতনা ফিরতেই বিলাপ করে বলেন, ‘আমার নাহিদুল কই? ও তো আমাকে বলেছিল ভালো জায়গায় আছে, ভালো আছে। আমার সোনার টুকরো কেন কথা বলে না? তোমরা ওর কফিনটা খোলো, আমি একবার আমার বাছারে (সন্তানকে) বুকে জড়ায় (জড়িয়ে) ধরব।’

তবে এই চরম সংকটের মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটির পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। খুলনা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) খালেদুর রহমান জানান, দুই নিহতের পরিবারকে সহায়তার জন্য তাৎক্ষণিক কিছু দাপ্তরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে এই দুই রেমিট্যান্সযোদ্ধার পরিবার যাতে দ্রুত সব ধরনের আর্থিক সুরক্ষা ও অনুদান পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।

গতকাল রবিবার দুপুরের দিকে শফিকুল ও নাহিদুলের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়। দুই পরিবার অন্তত সন্তানের শেষ স্মৃতিটুকু ছুঁয়ে বিদায় জানানোর সুযোগ পেলেও একই দিনে পৃথক হামলায় নিহত জেলার কলারোয়া উপজেলার শুভ কুমার দাসের হতভাগ্য পরিবারের ভাগ্যে সেই সান্ত্বনাটুকুও জোটেনি। লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় ড্রোন হামলার সেই ভয়াবহ আঘাতে শুভর শরীরটি এতটাই ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে যে, তার মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।