ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টাইগারদের ওয়ানডে সিরিজ জয় যশোরে স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও নদী রক্ষায় ১০ হাজার কোটির বেশি টাকার মহাপরিকল্পনা আইসিটিতে লক্ষ্য জিডিপির ১০ শতাংশ, স্টার্টআপে বিশেষ গুরুত্ব ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্বকাপ উন্মাদনা যেন দুর্ঘটনার কারণ না হয় মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের বাস্তবতা প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত যাদের পাশে বসলে দুঃখ কমে, শান্তি বাড়ে বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি খরচ বাড়লে বিপাকে পড়বে সাধারণ জনগণ পরিবহন খাতের বরাদ্দে বড় কাটছাঁট, কমল ৪ বিভাগেরই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাঁশি হাতে থাকছেন ব্রাজিলের উইল্টন সাম্পাইও টেকনাফ সীমান্তে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক নিউ ইয়র্কে বিশেষ সম্মাননা পেলে ও অঁরিকে নোয়াখালীতে মাদকসেবীদের হামলায় যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ১ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি, অপসারণের নির্দেশ ডিসির ক্যানসার ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় কমছে মুক্তিযোদ্ধাসহ যাদের ভাতা বাড়বে বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে মাদরাসাশিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত আনচেলত্তির জন্মদিন আর ব্রাজিলের জন্মদিন, কিছুতেই নেই নেইমার আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর শেরপুরে ব্রাজিল সমর্থকদের মিলনমেলা ও আনন্দ র‍্যালি আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ৬০ নিত্যপণ্যে করছাড়
Nagad desktop

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা-মহানন্দা গিলছে জনপদ

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৫ এএম
আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:২৩ এএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা-মহানন্দা গিলছে জনপদ
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় এক মাস ধরে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলি ইউনিয়ন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ও পাকা ইউনিয়নে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে পৌরসভার কল্যাণপুর মহল্লায় মহানন্দা নদীতে অন্তত ১০টি ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে।

পদ্মা পাড়ের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই নদীর ভাঙা-গড়ার খেলা দেখছি। আগে নদী অনেক দূরে ছিল। ভাঙতে ভাঙতে এখন দরজায় এসে ঠেকেছে। গত বছর নদীভাঙনে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপ-সাইক্লোন কেন্দ্র বিলীন হয়ে গেছে।  নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি ভাঙনের মুখে সরানো হচ্ছে। তীব্র ভাঙনে আর দু-এক দিনের মধ্যে ইউপি ভবনের জায়গাটিও থাকবে না। অস্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে বছরের পর বছর টাকা খরচ না করে স্থায়ী বাঁধ দিলে রক্ষা পাওয়া যাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক ভাঙনে বিলীন হয়েছে সরকারি-বেসরকারিসহ ধর্মীয় স্থাপনা। সবচেয়ে বেশি নদীগর্ভে গেছে কৃষকের ফসলি জমি। বছরের পর বছর আগ্রাসী এই পদ্মার ভাঙনে বদলে গেছে জনপদের মানচিত্র। 

ভাঙনকবলিতরা জানাচ্ছেন, একসময় যেখানে জনবহুল গ্রাম ছিল, সেসব এলাকা এখন পদ্মা নদী। বর্ষা মৌসুমে পানি থই থই করলেও বছরের বাকি সময় ধু-ধু বালুচর। নদীভাঙন রোধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। 

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল বারি বলেন, ‘সরকারি লোকজন প্রতিবার মাপজোক ও ছবি তোলেন। কিন্তু কাজের অগ্রগতি নেই। পুরো গ্রাম ধীরে ধীরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

আলাতুলি ইউনিয়নের পোলাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মারফত আলী বলেন, ১২ বিঘা পৈতৃক জমি পদ্মায় বিলীন হয়েছে। শেষ সম্বল মাটির দেয়ালের বাড়িটিও ভাঙনের মুখে। আমার মতো অন্তত ৫০০ মানুষ ভাঙনের ঝুঁকিতে আছেন।
 
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন জানান, ইউনিয়নের ৩, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীতে চলে গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, শিবগঞ্জের মনোহরপুর ও আইয়ুবের ঘাট এলাকায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটারজুড়ে পদ্মার বাম তীরে ভাঙন চলছে। জরুরিভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সদর উপজেলার পোলাডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্প এলাকাতেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কল্যাণপুরের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যশোরে স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
যশোরে স্ত্রীকে বেঁধে রেখে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় জুয়েল আহমেদ রানা (৩৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ মোড়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত জুয়েল রানা মুক্তদাহ গ্রামের ওয়াদুদ খন্দকারের ছেলে। তিনি দিনমজুরি ও গ্রামে গ্রামে কসমেটিক্স বিক্রি করে সংসার চালাতেন বলে জানিয়েছেন জুয়েল রানার স্ত্রী মায়া বেগম। 

স্থানীয়রা জানান, রাজনৈতিক কথা-বার্তা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মুক্তদাহ গ্রামের ইউসুফ, কাশেম, বাবু, সুমনসহ ৫/৬ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জুয়েলের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে জুয়েলের দুই পা ভেঙে দেয়। 

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা জুয়েলকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোবাশ্বের হোসেন জুয়েল রানাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

স্থানীয়রা জানান, নিহত জুয়েল আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিলেন। তবে জুয়েলের স্ত্রী মায়া বেগম দাবি করেন, তার স্বামী কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কর্মকাণ্ড দেখে ফেলার কারণেই তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। 

মায়া বেগম জানান, বাড়ির পাশে মুক্তাদাহ মোড়ে একটি চায়ের দোকানে তার স্বামী ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এসময় মায়া বেগম তাদের বাঁধা দিতে গেলে তাকে চায়ের দোকানের পিলারের সাথে বেঁধে রেখে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। 

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোবাশ্বের হোসেন বলেন, দুপুর ১২টার দিকে জুয়েল আহমেদ রানাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডেজ করা ছিল। ইসিজি করার পর নিশ্চিত হয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। 

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশিদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হত্যাকারীদের ধরতে অভিযান চালানো হবে। 

এইচ আর তুহিন/এসএন

টেকনাফ সীমান্তে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
টেকনাফ সীমান্তে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য সন্দেহে দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লাখ ইয়াবা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে র‌্যাব-১৫ এর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

আটকরা হলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুচিডং জেলার মংডু থানার হায়েংখালী গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদ সায়েদের ছেলে মো. সাজেদ (৩২) এবং একই এলাকার মো. আব্দুল হামিদের ছেলে এনামুল হাসান (৩৩)।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নাফ নদীর মন্ডলপাড়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের গোপন তথ্য পায় র্যাব। তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে নাফ নদীর শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারের দিক থেকে আসা ৭ থেকে ৮ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির জমিতে অবস্থান করতে দেখা যায়। র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়। তবে অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বস্তার ভেতর থেকে ৫ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকা।

র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক আরও জানান, আটক দুইজন এবং পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সবাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক এবং একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য। সীমান্তের এপারে মাদকের বড় চালান পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল কাজ। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

তারেকুর রহমান/এসএন 

নোয়াখালীতে মাদকসেবীদের হামলায় যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
নোয়াখালীতে মাদকসেবীদের হামলায় যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ১
আরাফাত হোসেন ফাহিম। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর সেনবাগে গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদকসেবীদের হামলায় আরাফাত হোসেন ফাহিম (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) রাত ১০টার দিকে নবীপুর ইউনিয়নের সোমবারিয়া বাজার সংলগ্ন বেলাল মাস্টারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম নবীপুর ইউনিয়নের দেবী সিংহপুর গ্রামের শাহজাহান সাজুর ছেলে।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী হারুন মিয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে দেবী সিংহপুর গ্রামের হারুন মিয়া (২৬), আমিনুল্লাহর ছেলে মমিন (২২) এবং মমিন উল্লাহর ছেলে জাহাঙ্গীর (২৪) একত্রিত হয়ে বেলাল মাস্টারের বাড়ির সামনে গাঁজা সেবন করছিলেন।

​এ সময় একই গ্রামের শাহজাহান সাজুর ছেলে আরাফাত হোসেন ফাহিম (২২), দুলালের ছেলে রিফাত (২৩) এবং শাহাবুদ্দিনের ছেলে শাকিব (২১) তাদের গাঁজা সেবনে বাধা দেন। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এতে গাঁজা সেবনকারী হারুন এবং বাধা প্রদানকারী আরাফাত হোসেন ফাহিম ও শাকিবসহ উভয় পক্ষের চারজন গুরুতর আহত হন।

তাদেরকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১১টায় ফাহিমের মৃত্যু হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


ইকবাল হোসেন মজনু /এসএন

রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি, অপসারণের নির্দেশ ডিসির

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি, অপসারণের নির্দেশ ডিসির
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একটি ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের গাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে লেখা বই সংরক্ষিত থাকার অভিযোগে গাড়িটি আটকের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১১ জুন) দুপুরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গাড়িটি আটকের পর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট বইগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার প্রকল্পের একটি গাড়ি বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিল। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে থাকা কিছু বই নিয়ে আপত্তি তোলেন। পরে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমনের নেতৃত্বে গাড়িটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার পর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট বইগুলো দ্রুত অপসারণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এসব বই পাঠকদের জন্য প্রদর্শন বা বিতরণ করা হবে না। পাশাপাশি ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে, রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন বলেন, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে লেখা বই পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এসব বই পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব বই নিষিদ্ধ কি না, সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেবে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বই সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলেও রাজশাহীতে তা হয়নি। একই সঙ্গে এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির বলেন, '৫ আগস্টের পরও রাজশাহী কলেজে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে ফ্যাসিবাদের আমলের বই সংরক্ষিত থাকার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। সেখানে এমন অনেক বই ছিল, যেগুলো ফ্যাসিস্ট শাসনের সময়কার মিথ্যা বয়ান বহন করে। গ্রন্থাগারটির প্রায় ৮০ শতাংশ বই ওই সময়ের বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। অন্য জায়গা থেকে এসব বই সরিয়ে নেওয়া হলেও এখানে রাখা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের বিস্মিত করেছে।'

অন্যদিকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'বইগুলো আগে থেকেই ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে ছিল। প্রায় এক বছর প্রকল্পটি বন্ধ ছিল এবং গাড়িটি প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করছিল। ৫ আগস্টের পর বইগুলো আমরা ব্যবহার থেকে প্রত্যাহার করেছিলাম। তবে সংরক্ষণের জন্য আলাদা কোনো জায়গা না থাকায় সেগুলো গাড়ির ভেতরে আড়াল করে রাখা হয়েছিল, যাতে পাঠকেরা দেখতে না পান। পরে কিছু পাঠক খুঁজে বের করে বইগুলো এলোমেলো করে রাখেন।'

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিষয়টি তাদের নজরে এনেছেন এবং তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

এনায়েত করিম/এসএন

বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে মাদরাসাশিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে মাদরাসাশিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত
অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ লোকমান হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জে বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে মাদ্রাসারশিক্ষার্থীকে গলায় উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাদরাসারশিক্ষকের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক হাফেজ মোঃ লোকমান হোসেন পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়,অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক হাফেজ মোঃ লোকমান হোসেন বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে জোর পূর্বক বলাৎকারের চেষ্টা করে। এ সময় শিক্ষার্থী আপত্তি জানালে মাদরাসাশিক্ষক হাফেজ মোঃ লোকমান হোসেন ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থীর গলায় ও হাতে উপুর্যুপরি আঘাত করে। এতে শিক্ষার্থীর ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মাদরাসাশিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামিম জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত হাফেজ মোঃ লোকমান হোসেন ভোলা জেলার চর-ফ্যাশন এলাকার ইসলাম আলীর ছেলে। সে টঙ্গীবাড়ী সোনারং পুরাতন জামে মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি টঙ্গীবাড়ী খিলপাড়া সুন্নাতুল মদিনা মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন।


এসএন/