চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ায় গত তিন মাসে ১২০টি গরুর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোগটিতে ইতোমধ্যে কয়েকটি গরুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
অনেক খামারি যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসা দিতে না পেরে দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের দাবি, পশুগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে বাড়তি টাকাও গুনতে হচ্ছে। এ জন্য লাম্পি স্কিন প্রতিরোধে বিনামূল্যে ভ্যাকসিনের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানিয়েছে, গত ৩ মাসে গোমস্তাপুর উপজেলায় লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত ১২০টি গরুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন উপজেলায় কতগুলো গরু এই রোগে আক্রান্ত, এমন তথ্য জানাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
উপজেলার মিরাপুর গ্রামের খামারি সাব্বির হাসান বলেন, ‘খামারের একটি গরুর শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তার পরই দেখতে পাই গরুটির শরীরে গোটা-ফোলা দাগ। পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে জানতে পারি এটি ল্যাম্পি ভাইরাস। কিন্তু গরুটির চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক খামারি। আমাদের পুঁজি কম। এ অবস্থায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে বিনামূল্যে এ ভাইরাসের টিকা দেওয়া হলে উপকৃত হতাম।’
উপজেলার পাথরপূজা গ্রামের খামারি বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘এই রোগে শুধু গরু নয়, আমরা খামারিরাও ভেঙে পড়ছি। একদিকে চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে কাজ বন্ধ। সময়মতো টিকা দিতে পারলে অনেক ক্ষতি এড়ানো যেত।’
তেঁতুলতলা গ্রামের খামারি বাবু বলেন, ‘একটি গরুতে লাম্পি ভাইরাস ধরা পড়ার পর সব চেষ্টা করেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বরং অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে।’
চিকিৎসক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ল্যাম্পি ভাইরাসে আক্রান্ত গরুর আলাদা যত্ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং টিকা প্রয়োগ করলেই রোগটি থেকে আক্রান্ত পশুটি সারিয়ে তোলা সম্ভব।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ওয়াসিম আকরাম বলেন, ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। এটি মশা-মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। আতঙ্ক নয়, সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হলে পশুকে বাঁচানো সম্ভব হয়। আমাদের শরণাপন্ন হলেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত গরুকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন বিতরণের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ভ্যাকসিন সরবরাহ করলে আমরা বিনামূল্যে বিতরণ করব।’