খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ বাছিরুল আলমের বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা সদরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে নথিপত্র তল্লাশি ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের রাঙামাটি সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আহমদ ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
এর আগে গত ১ আগস্ট খবরের কাগজে ‘এক কৃষি কর্মকর্তার হাতে জিম্মি লাখো দরিদ্র কৃষক’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ বাছিরুল আলমের বিরুদ্ধে সবজিবীজ বিতরণে ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পেঁয়াজ ও অড়হড় বীজ বিতরণে নয়ছয়, কৃষি কর্মকর্তাদের তিন দিনের ট্যুর এক দিনে শেষ করে অর্থ আত্মসাৎ এবং ৪০ লাখ টাকা মূল্যের রাইস হার্ভেস্টার যন্ত্র বিক্রি করে অর্থ লোপাটসহ নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের বিবরণ তুলে ধরা হয়।
খবরের কাগজে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে, দুদকের তিন সদস্যের দল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আসে। প্রথমেই তারা বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক নথি, ক্রয়সংক্রান্ত ফাইল, বীজ বিতরণ কর্মসূচির খরচপত্র এবং মাস্টাররোল দেখতে চান। এরপর একে একে দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আলাদা কক্ষে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তারা। পরে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের প্রতিনিধিদলটি।
অভিযানের সময় অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দুদককে জানান, বীজ বিতরণ, কৃষিযন্ত্র কেনা, মোটিভেশনাল ট্যুরসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তবে বেশির ভাগ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি হননি।
দুদকের রাঙামাটি সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আহমদ ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘অভিযানে নথিপত্র যাচাই ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে। আমরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেব। অভিযোগের সত্যতা মিললে পরবর্তী ধাপে বাছিরুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযুক্ত খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক বাছিরুল আলম অবশ্য দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুদক নিয়মিত অভিযান চালিয়েছে। আমি সাধ্যমতো তাদের সহযোগিতা করেছি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার কোনোটিরই ভিত্তি নেই। অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা আমার ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে মিথ্যা প্রচার করেছে।’