ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আইসিটিতে লক্ষ্য জিডিপির ১০ শতাংশ, স্টার্টআপে বিশেষ গুরুত্ব ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্বকাপ উন্মাদনা যেন দুর্ঘটনার কারণ না হয় মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের বাস্তবতা প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত যাদের পাশে বসলে দুঃখ কমে, শান্তি বাড়ে বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি খরচ বাড়লে বিপাকে পড়বে সাধারণ জনগণ পরিবহন খাতের বরাদ্দে বড় কাটছাঁট, কমল ৪ বিভাগেরই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাঁশি হাতে থাকছেন ব্রাজিলের উইল্টন সাম্পাইও টেকনাফ সীমান্তে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক নিউ ইয়র্কে বিশেষ সম্মাননা পেলে ও অঁরিকে নোয়াখালীতে মাদকসেবীদের হামলায় যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ১ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি, অপসারণের নির্দেশ ডিসির ক্যানসার ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় কমছে মুক্তিযোদ্ধাসহ যাদের ভাতা বাড়বে বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে মাদরাসাশিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত আনচেলত্তির জন্মদিন আর ব্রাজিলের জন্মদিন, কিছুতেই নেই নেইমার আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর শেরপুরে ব্রাজিল সমর্থকদের মিলনমেলা ও আনন্দ র‍্যালি আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ৬০ নিত্যপণ্যে করছাড় অতিরিক্ত এআই-নির্ভরতা মানবসভ্যতার জন্য বড় ঝুঁকি স্পিলবার্গের নতুন সিনেমা স্টার সিনেপ্লেক্সে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা
Nagad desktop

টাঙ্গাইলে বিলুপ্তির পথে শাপলা ও ঢ্যাপ

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০৯:২৩ এএম
টাঙ্গাইলে বিলুপ্তির পথে শাপলা ও ঢ্যাপ
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলে একসময় নদী-নালা, খাল-বিলে শাপলা ফুলের সমারোহ ছিল। বর্ষা থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত জলাভূমি ভরে যেত শাপলা ও ঢ্যাপের ফলনে। বর্তমানে অতিরিক্ত পুকুর খনন, কৃষিজমিতে স্থাপনা, কীটনাশক ব্যবহার ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এগুলো দ্রুত হারাচ্ছে। শাপলা ও ঢ্যাপ শুধু সৌন্দর্যের নয়, গ্রামীণ জীবনে খাদ্য ও ওষুধ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। টাঙ্গাইল কৃষি বিভাগের মতে, রক্ষার পদক্ষেপ নিলে এখনো পুনরুদ্ধার সম্ভব। না হলে আগামী প্রজন্ম কেবল বইয়ে ছবি দেখবে।

শাপলা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, গ্রামীণ জীবনে ছিল এক বড় খাদ্য ও ওষুধের উৎসও। শাপলার ডাঁটা দিয়ে রান্না করা তরকারি এক সময় ছিল গ্রামীণ মানুষের নিয়মিত খাদ্য। আর ‘ঢ্যাপ’ খাওয়ারও ছিল বহুমুখী ব্যবহার। গ্রামে প্রচলিত বিশ্বাস, এটি আমাশয়, বদহজম ও রক্ত আমাশয়ের ওষুধ হিসেবে কার্যকর। এক সময় টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে ‘ঢ্যাপ’ সহজেই বিক্রি হতে দেখা যেত। এখন তা দুর্লভ হয়ে উঠেছে।

ঢ্যাপের ভেতরে থাকে অসংখ্য ছোট ছোট বীজদানা। সেগুলো রোদে শুকিয়ে চাল তৈরি করা হয়। এই চাল দিয়ে গ্রামবাংলার মানুষ বানাতেন খই ও নাড়ু। ঢ্যাপের খই ছিল শিশু ও বয়স্ক সবার পছন্দের খাবার। কৃষক পরিবারের অভাবের সময়ে ঢ্যাপ ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভরসা। কৃষক জব্বার আলী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘যখন অভাব দেখা দিত তখন আমরা শাপলার ঢ্যাপ দিয়ে ভাত ও খই বানিয়ে খেতাম। এখন তো এগুলো চোখেই পড়ে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে বাড়তি জনসংখ্যার কারণে আবাদি জমি ভরাট করে ঘরবাড়ি, পুকুর ও মাছের ঘের তৈরি হচ্ছে। এতে খাল-বিলের পরিমাণ কমছে। শাপলার জন্মানোর জায়গা দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। সে কারণেই জাতীয় ফুল শাপলা ও ঢ্যাপ হারিয়ে যাচ্ছে।’

শুধু খাল-বিল ভরাট নয়, জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের ফলেও ঢ্যাপের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এতে আরও যোগ হয়েছে। প্রাকৃতিক জলাভূমি ধ্বংস হওয়ায় শাপলা-ঢ্যাপ উৎপাদন কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে।

টাঙ্গাইল কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, ‘আমাদের অনেক কিছু এখন বিলুপ্তির পথে। তবে সরকার চাইলে কৃষি অফিস থেকে আমরা শাপলা-ঢ্যাপ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’

শাপলা দেশের জাতীয় ফুল। অথচ আজ তা টিকিয়ে রাখা নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। প্রকৃতির এই সম্পদ হারিয়ে গেলে শুধু একটি ফুলই বিলীন হবে না, বিলীন হবে এক টুকরো গ্রামীণ ঐতিহ্য, হারিয়ে যাবে একসময়ের বহুল ব্যবহৃত পুষ্টিকর খাদ্য এবং চিকিৎসার সহজ উপাদান।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলাভূমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই। না হলে আগামী প্রজন্মের কাছে শাপলা-ঢ্যাপ শুধুই বইয়ের পাতার ছবি হয়ে থাকবে।

টেকনাফ সীমান্তে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
টেকনাফ সীমান্তে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য সন্দেহে দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লাখ ইয়াবা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে র‌্যাব-১৫ এর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

আটকরা হলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুচিডং জেলার মংডু থানার হায়েংখালী গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদ সায়েদের ছেলে মো. সাজেদ (৩২) এবং একই এলাকার মো. আব্দুল হামিদের ছেলে এনামুল হাসান (৩৩)।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের নাফ নদীর মন্ডলপাড়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের গোপন তথ্য পায় র্যাব। তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে নাফ নদীর শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারের দিক থেকে আসা ৭ থেকে ৮ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির জমিতে অবস্থান করতে দেখা যায়। র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়। তবে অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বস্তার ভেতর থেকে ৫ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকা।

র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক আরও জানান, আটক দুইজন এবং পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা সবাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক এবং একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্রের সদস্য। সীমান্তের এপারে মাদকের বড় চালান পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল কাজ। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে টেকনাফ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

তারেকুর রহমান/এসএন 

নোয়াখালীতে মাদকসেবীদের হামলায় যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
নোয়াখালীতে মাদকসেবীদের হামলায় যুবক নিহত, গ্রেপ্তার ১
আরাফাত হোসেন ফাহিম। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর সেনবাগে গাঁজা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদকসেবীদের হামলায় আরাফাত হোসেন ফাহিম (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) রাত ১০টার দিকে নবীপুর ইউনিয়নের সোমবারিয়া বাজার সংলগ্ন বেলাল মাস্টারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম নবীপুর ইউনিয়নের দেবী সিংহপুর গ্রামের শাহজাহান সাজুর ছেলে।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী হারুন মিয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে দেবী সিংহপুর গ্রামের হারুন মিয়া (২৬), আমিনুল্লাহর ছেলে মমিন (২২) এবং মমিন উল্লাহর ছেলে জাহাঙ্গীর (২৪) একত্রিত হয়ে বেলাল মাস্টারের বাড়ির সামনে গাঁজা সেবন করছিলেন।

​এ সময় একই গ্রামের শাহজাহান সাজুর ছেলে আরাফাত হোসেন ফাহিম (২২), দুলালের ছেলে রিফাত (২৩) এবং শাহাবুদ্দিনের ছেলে শাকিব (২১) তাদের গাঁজা সেবনে বাধা দেন। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এতে গাঁজা সেবনকারী হারুন এবং বাধা প্রদানকারী আরাফাত হোসেন ফাহিম ও শাকিবসহ উভয় পক্ষের চারজন গুরুতর আহত হন।

তাদেরকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১১টায় ফাহিমের মৃত্যু হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


ইকবাল হোসেন মজনু /এসএন

রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি, অপসারণের নির্দেশ ডিসির

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তি, অপসারণের নির্দেশ ডিসির
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একটি ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের গাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে লেখা বই সংরক্ষিত থাকার অভিযোগে গাড়িটি আটকের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১১ জুন) দুপুরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গাড়িটি আটকের পর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট বইগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার প্রকল্পের একটি গাড়ি বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিল। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে থাকা কিছু বই নিয়ে আপত্তি তোলেন। পরে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমনের নেতৃত্বে গাড়িটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার পর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট বইগুলো দ্রুত অপসারণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এসব বই পাঠকদের জন্য প্রদর্শন বা বিতরণ করা হবে না। পাশাপাশি ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে, রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন বলেন, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে লেখা বই পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এসব বই পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব বই নিষিদ্ধ কি না, সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেবে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বই সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলেও রাজশাহীতে তা হয়নি। একই সঙ্গে এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির বলেন, '৫ আগস্টের পরও রাজশাহী কলেজে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে ফ্যাসিবাদের আমলের বই সংরক্ষিত থাকার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। সেখানে এমন অনেক বই ছিল, যেগুলো ফ্যাসিস্ট শাসনের সময়কার মিথ্যা বয়ান বহন করে। গ্রন্থাগারটির প্রায় ৮০ শতাংশ বই ওই সময়ের বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। অন্য জায়গা থেকে এসব বই সরিয়ে নেওয়া হলেও এখানে রাখা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের বিস্মিত করেছে।'

অন্যদিকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'বইগুলো আগে থেকেই ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে ছিল। প্রায় এক বছর প্রকল্পটি বন্ধ ছিল এবং গাড়িটি প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করছিল। ৫ আগস্টের পর বইগুলো আমরা ব্যবহার থেকে প্রত্যাহার করেছিলাম। তবে সংরক্ষণের জন্য আলাদা কোনো জায়গা না থাকায় সেগুলো গাড়ির ভেতরে আড়াল করে রাখা হয়েছিল, যাতে পাঠকেরা দেখতে না পান। পরে কিছু পাঠক খুঁজে বের করে বইগুলো এলোমেলো করে রাখেন।'

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিষয়টি তাদের নজরে এনেছেন এবং তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

এনায়েত করিম/এসএন

শেরপুরে ব্রাজিল সমর্থকদের মিলনমেলা ও আনন্দ র‍্যালি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
শেরপুরে ব্রাজিল সমর্থকদের মিলনমেলা ও আনন্দ র‍্যালি
ছবি: খবরের কাগজ

শেরপুরে ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থকদের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য মিলনমেলা ও আনন্দ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে জেলা ব্রাজিল ফ্রেন্ডস ক্লাবের আয়োজনে শেরপুর সরকারি কলেজ মাঠে এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।

মিলনমেলা শেষে সমর্থকদের অংশগ্রহণে একটি আনন্দ র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় ব্রাজিল সমর্থকরা ভুভুজেলা বাঁশি বাজিয়ে, রঙিন ফেস্টুন, ব্যানার এবং বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের পতাকা হাতে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

র‍্যালিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত শেরপুরের বাসিন্দা শিবুও অংশ নেন। আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক থেকে ব্রাজিলের সমর্থকে পরিণত হওয়ার ঘটনায় তিনি সম্প্রতি আলোচনায় আসেন। ব্রাজিল সমর্থকদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য জাকির হোসেন বলেন, আমরা ব্রাজিল ফুটবল দলের দীর্ঘদিনের সমর্থক। আমাদের বিশ্বাস, তারকা খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ ও নান্দনিক ফুটবল খেলার কারণে এবার ব্রাজিল বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার। সেই প্রত্যাশা থেকেই আমরা এই মিলনমেলা ও আনন্দ র‍্যালির আয়োজন করেছি। তিনি আরও জানান, ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আগামী দিনে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে ব্রাজিল দলের খেলা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

শাকিল/আমান

চুয়াডাঙ্গায় অপরিচ্ছন্নতা ও অবৈধ লোগো ব্যবহারে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
চুয়াডাঙ্গায় অপরিচ্ছন্নতা ও অবৈধ লোগো ব্যবহারে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠানকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেকারিপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং অবৈধভাবে বিএসটিআই লোগো ব্যবহার করায় ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সদর উপজেলার ফার্মপাড়া ও বেলগাছি রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব জরিমানা করা হয়।

অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেকারিপণ্য তৈরি ও সংরক্ষণ এবং অবৈধভাবে বিএসটিআই লোগো ব্যবহারের কারণে হারুন অর রশিদের প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর ফুড প্রোডাক্টসকে ২৫ হাজার টাকা এবং বিটু ইসলামের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাকিল চানাচুরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়াও দ্রুততম সময়ে সমস্যাগুলো সমাধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

অভিযানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর গোলাম ফারুক ও জেলা আনসার সদস্যরা।

মিজানুর রহমান/খাদিজা রুমি/