পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয় ফারজানা আক্তার কলির (২২)। শ্বশুরবাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জের পরাগলপুর গ্রামে। স্বামী ওমর ফারুক ওমান প্রবাসী। সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরেন। এক দিন পর কলিকে তার শাশুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, কলিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার তার শাশুড়ি খুলে নিয়ে যান। কলির স্বজনদের দাবি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন করা পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লাশের গলায় পেছনে তিনি দাগ দেখতে পেয়েছেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের পর পাঁচ বছরেও সন্তান না হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন কলির ওপর নির্যাতন চালাত। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) তার স্বামী প্রবাস থেকে বাড়ি ফিরলে কলি বাবার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে কলির শাশুড়ি তাকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর কলির গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি চলে যান।
কলির মা আমেনা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তার শাশুড়ি স্বর্ণালংকার নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছে। আমি হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
নিহতের ফুফাতো বোন সাবিয়া খাতুন দাবি করেন, ‘বাচ্চা না হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন দুই বছর ধরে কলিকে নির্যাতন করত। মূলত তারাই ওকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে। ওর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কলিকে আমি ছোট থেকে চিনি, ও কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না। স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে খুন করেছে।’
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফাহিম ফেরদৌস বলেন, ‘সোমবার রাত ৯টার দিকে ফারজানা আক্তার কলি নামে এক গৃহবধূকে মৃত অবস্থায় তার শাশুড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ইসিজি করতে পরনে থাকা স্বর্ণালংকার খুলতে বললে তার শাশুড়ি সেগুলো নিয়ে চলে যান। পরে আমরা জোরারগঞ্জ থানা-পুলিশকে খবর দিই।’
এদিকে হাসপাতালের দেওয়া খবরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নোমান আহমেদ ও জোরারগঞ্জ থানার ওসি এম আবদুল হালিম।
জোরারগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হান্নান আল মামুন বলেন, ‘লাশ সুরতহালের সময় গলার পেছনে দাগ দেখা যায়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক। তবে নিহতের শ্বশুরকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’