পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বাসডুবির ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানির রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস ডুবে গেছে। তবে এবার ফেরিতে ওঠার আগেই বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় ৭ নম্বর ফেরিঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের করবি-অক্সফ্যাম ফেরির র্যাম ভেঙে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই চালক ও সহযোগীকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা প্রায় আড়াই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় বাসটি নদী থেকে উদ্ধার করে।
বাসের যাত্রী আশিক খবরের কাগজকে জানান, বাসটি সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে এবং সকাল সাড়ে ৯টায় দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছায়। ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
আরেক যাত্রী মাইসা রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা ফেরিতে উঠে পড়েছিলাম। বাসটিতে তখন শুধু চালক ও সহযোগী ছিলেন। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।’
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা খবরের কাগজকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালক ও সহযোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে ডুবুরি দল ও উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় বাসটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সালাহউদ্দিন বলেন, ‘ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।’
উদ্ধার অভিযানে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল, নৌপুলিশ এবং স্থানীয়রা অংশ নেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ‘দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার মাধ্যমে বাসটি নদী থেকে তোলা হয়েছে। যাত্রীদের মালামালও উদ্ধার করে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাসে কোনো যাত্রী না থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।’
তিনি আরও জানান, এ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল একই নৌরুটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গেলে নারী ও শিশুসহ ২৬ জনের মৃত্যু হয়। সেই দুর্ঘটনার রেশ না কাটতেই আবারও বাসডুবির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বারবার এই ঘাটে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা এখন দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
সুমন বিশ্বাস/থিও