কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তিস্তা নদীর অববাহিকায় রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন এবং উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে ওই তিন ইউনিয়নের বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উজানের হঠাৎ বন্যার খবরে অনেকে তিস্তার চর থেকে গৃহপালিত পশু ও ছোট শিশুদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
একই সঙ্গে জেলায় ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গাধর নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে কৃষকের আমন ধান ও শীতকালীন সবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ভারী বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৯টার দিকে তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তাই বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই, দ্রুতই পানি নেমে যাবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৬৬ সেন্টিমিটার নিচে এবং ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম সদর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।
ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ গ্রামের বাসিন্দা উকিল উদ্দিন বলেন, ‘এ বছর তিস্তায় সবচেয়ে বড় বন্যা শুরু হয়েছে। তিস্তার পাড় উপচে পানি বসতভিটায় প্রবেশ করেছে। চরাঞ্চলের অনেক বসতবাড়িতে চার ইঞ্চি থেকে হাঁটুসমান পানি উঠেছে। ধানের খেত তলিয়ে গিয়ে শিষ পর্যন্ত পানি হয়েছে। বন্যার পানি স্থায়ী হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।’
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান বলেন, ‘রবিবার তিস্তায় পানি বৃদ্ধি শুরু হলে স্থানীয় মেম্বারদের মাধ্যমে চরাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে উদ্ধারকর্মী ও নৌকা প্রস্তুত আছে। এছাড়াও আমরা পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রেখেছি।’
দুধকুমার নদে ভেসে আসছে লাখ লাখ গাছের গুড়ি। এসব গাছ ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। দুধকুমারের পাড়ে দেখা গেছে মানুষের কর্মযজ্ঞ। আজ সকালে জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের খেলারভিটা এলাকায় গাছ ধরতে গিয়ে মনসুর নামে একজন নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান চালাচ্ছে।
সিরাজ/রিফাত/