চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান রাখতে নিষেধ করায় মো. আজাদ উদ্দিন (৩৮) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মাথা ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে এক বিক্রয় প্রতিনিধির বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের কেরানীহাট হক টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ কনস্টেবল মো. আজাদ উদ্দিন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার বিবিরহাট গ্রামে। তিনি এক বছর ধরে কেরানীহাট ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত রয়েছেন।
অভিযুক্ত বিক্রয় প্রতিনিধির নাম আবু বক্কর (৩২)। তিনি উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের নাপিতের চর এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টার দিকে অভিযুক্ত আবু বক্কর মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান রেখে সেখান থেকে মাল নামিয়ে দোকানে সরবরাহ করছিলেন। এ সময় কনস্টেবল আজাদ উদ্দিন মহাসড়ক থেকে গাড়িটি সরিয়ে রাখতে বললে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সাতকানিয়া ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) নূরে আলম সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিক্রয় প্রতিনিধি আবু বক্কর পুলিশকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা ও কটাক্ষ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। তখন কনস্টবল আজাদ তাকে বাধা দিলে সে তাকে ধাক্কা দেন। একই সময় কনস্টবল আজাদও বিক্রয় প্রতিনিধি আবু বক্করকে তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনার একপর্যায়ে বক্কর পার্শ্ববর্তী একটি দোকান থেকে একটি স্টিলের টুল নিয়ে কনস্টবল আজাদের মাথায় আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায়। পরে তার সহকর্মীরা তাকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় আহত কনস্টেবল মো. আজাদ উদ্দিন বলেন, ওই বিক্রয় প্রতিনিধি মহাসড়কে গাড়ি রেখে একটি দোকানে মালামাল সরবারাহ করছিল। তখন তাকে আমি গাড়ি অন্যত্র সরিয়ে রাখতে বললে সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। তখন আমি এবং আমার টিআই স্যার সেখান থেকে সরে এসে বিষয়টি ওই মার্কেটের মালিককে জানায়। পরবর্তীতে তিনি ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হলে ওই বিক্রয় প্রতিনিধি পুনরায় আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। এ সময় আমি তাকে বাধা দিলে সে একটি স্টিলের টুল দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করেন। এতে আমার মাথা ফেটে যায়। পরে আমি সেখান থেকে দূরে চলে আসলে সে আমাকে লক্ষ্য করে একটি ইট নিক্ষেপ করেন।
সাতকানিয়া ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, সকালে একটি কাভার্ডভ্যান মহাসড়কে রেখে মালামাল নামাচ্ছিল। ফলে যানজটের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আমি কনস্টেবল আজাদকে গাড়িটি অন্যত্র সরিয়ে দিতে বলি। তখন তার সঙ্গে সেখানে থাকা একজন বিক্রয় প্রতিনিধির কথা কাটাকাটি হয়। পরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।
এর ঠিক আধা ঘণ্টা পর ওই বিক্রয় প্রতিনিধি পুলিশ উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে কনস্টেবল আজাদ তাকে বাধা দেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই বিক্রয় প্রতিনিধি একটি স্টিলের টুল দিয়ে কনস্টেবল আজাদের মাথায় আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায়। এ ঘটনাটি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।
বিক্রয় প্রতিনিধি আবু বক্করের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন থানায় এসেছি। পরবর্তীতে ফ্রি হয়ে এ বিষয়ে আপনাকে বিস্তারিত জানাব।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী খবরের কাগজকে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্ত বিক্রয় প্রতিনিধি ও আহত পুলিশ কনস্টেবলের বক্তব্য শুনে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরিফুল ইসলাম/অমিয়/