চাঁপাইনবাবগঞ্জের শুক্রবার রাতভর বৃষ্টিতে ডুবে গেছে জমির পাকা, আধাপাকা ধান। বৃষ্টিতে জেলায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির আবাদি ফসল ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে পানিতে ভেসে গেছে অনেক পুকুর। এতে মৎস্য চাষীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কৃষি বিভাগ বলছে, গত ১০ বছরে একদিনে এমন বৃষ্টির রেকর্ড নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ২৬০ মি.মি. (মিলিমিটার), শিবগঞ্জ ১৭৫ মি.মি., গোমস্তাপুরে ১৮০ মি.মি., নাচোলে ১৭৫ মিমি. ও ভোলাহাটে ১৬৫ মি.মি. বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। গড়ে জেলায় মোট বৃষ্টিপাতর রেকর্ড ১৯১ মিলিমিটার।
জানা গেছে, লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবার সারাদিনই মেঘলা ছিল। সন্ধ্যার পরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এরপরেই রাত সাড়ে ৮টার পর জেলাজুড়ে ভারিবৃষ্টিপাত হতে থাকে।
বিদিরপুর এলাকার আমন ধান চাষী আমানউল্লাহ বলেন, আমার দুই বিঘা জমির ধান পুরোপুরি ডুবে গেছে। কয়েকদিন পরেই ধান কাটা শুরু হতো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুর্যোগের কবলে পড়ে অধিকাংশ ধান শেষ হয়ে গেছে। আরেক চাষী আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা কল্পনাও করিনি যে এই সময়ে এসে এত বৃষ্টি হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ভারী বৃষ্টিতে জেলায় ৪ হাজার ৪৫৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ২৩৫ হেক্টর রোপা আমন, ৩৭ হেক্টর আলু, ৯১৭ হেক্টর সরিষা, শাকসবজি ৩১৬ হেক্টর, ২৪৪ হেক্টর পেঁয়াজ, ২৫০ হেক্টর মাসকলাই, ৬৮ হেক্টর ভূট্টা, ১৩ হেক্টর স্ট্রবেরি, ৩৭৯ হেক্টর রসুন।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টিতে পাকা ধান হেলে পড়েছে সেগুলো কিছুটা ক্ষতি হবে। এর পাশাপাশি শাক সবজির কিছুটা ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে জমি থেকে পানি দ্রুত নেমে গেলে বা বৃষ্টি না হলে ফসলের বেশি ক্ষতি হবে না।
এছাড়াও ভারী বৃষ্টিতে জেলায় অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি পুকুর পানিতে ভেসে গেছে। এতে করে মৎস্য চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেনি।
এদিকে রাতভর চলা বৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর হাঁটুপানির নিচে তলিয়ে গেছে। পৌরবাসীর দাবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জলাশয় ও খালগুলো অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করা হয়েছে। যার ফলে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় এই জলাশয়গুলোই ছিল শহরের অতিরিক্ত পানি টেনে নেওয়ার প্রাকৃতিক আধার। বিশেষ করে শহরের মহানন্দা বাসস্ট্যাণ্ড এলাকার কয়েকটি খালটি ভরাট করা হয়েছে। যা দেখে বোঝায় উপায় নেই এখানে খাল ছিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরএলাকার বেলেপুকুর বাসিন্দা বাবর আলী রুমন বলেন, অতিবৃষ্টির কারনে বেলেপুকুর এলাকায় আমাদের বাড়িসহ ১০০টি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৫০ টির বেশি বাড়িতে পানি ডুকে পড়েছে।
শহরের গণপূর্ত বিভাগের আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, সারারাত বৃষ্টিতে আমাদের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বাড়ির সামনে হাটুপানি। সারা রাত পানির সঙ্গে থাকতে হয়েছে।
তাদের দাবি, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে। এক সঙ্গে অনেক ড্রেন হলেও কাজ শেষ না হওয়া দ্রুত পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এর ফলে রাস্তায় হাঁটু পানি জমে গেছে।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম জানান, শহরের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য কয়েকটি ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। কাজ শেষ হলে হঠাৎ বৃষ্টিতে প্লাবন হবে না এবং শহরবাসী আর দুর্ভোগের মুখে পড়বে না।
আসাদুল্লাহ/মাহফুজ