গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে গরু চুরির অভিযোগে শামীম মিয়া (৩৬) নামে এক অটোভ্যান চালককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৯৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) নিহতের মা মেহেরুন্নেছা ওরফে পাচি বেগম বাদী হয়ে ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করে মুকসুদপুর থানায় একটি মামলা করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত শামীম মিয়া মুকসুদপুর উপজেলার পশারগাতি ইউনিয়নের বাহিরবাগ গ্রামের মৃত মুন্নু মিয়ার ছেলে। তিনি একজন অটোভ্যান চালক ছিলেন। সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে খাওয়া-দাওয়া শেষে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন শামীম। পরদিন সকালে তাকে বাড়িতে না পেয়ে পরিবার মনে করে তিনি কাজে বের হয়েছেন। কিন্তু দুপুরে খবর আসে, মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি মারা গেছেন।
পরিবার হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহের শরীরে বিভিন্ন স্থানে জখম দেখতে পায়। পরে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, শামীমকে তার পরিচিত কয়েকজন ফারুক শেখ, সুমন হাওলাদার, লিটন সরকার, সোহাগ, ইলিয়াস, মোজাহিদ ও বিপ্লব রাতে ডেকে নিয়ে যান। পরে তারা কৃষ্ণাদিয়া এলাকা থেকে একটি মিনি ট্রাকে করে গরু চুরির সময় ধরা পড়ে। এ সময় উত্তেজিত জনতা ধাওয়া দিলে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাজারিবাগ গ্রামে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এরপর গ্রামবাসী তাদের আটক করে পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীম মিয়া মারা যান। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহতের মা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, হাজিরবাগ, জানিবাগ, পশারগাতী ও কৃষ্ণাদিয়া গ্রামের ৪৩ জনসহ অজ্ঞাত আরও ১৫০ জন তার ছেলেকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, গরু চুরি সন্দেহে হত্যার ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় নামে ও বেনামে ১৯৩ জনকে আসামি করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বাদল সাহা/নাঈম