ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গোপালগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২ ৬ ঘণ্টা পরে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে আসছে ত্রৈমাসিক ব্যবস্থা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন ইসলামী ব্যাংকের অধিকাংশ শাখায় কলমবিরতি হয়নি বেলকুচিতে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত বন্ধ শিল্প ও প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ১০ দিলারার রেকর্ড গড়া ইনিংসে বাংলাদেশের জয় কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জরি ৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল তৃণমূলে বিদ্রোহের নেপথ্যে ‘ভাইপোবিরোধী’ হাওয়া বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ ৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
Nagad desktop

মুকসুদপুরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহতের ঘটনায় ১৯৩ জনের নামে মামলা

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৮ পিএম
আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০২৫, ১০:০৮ পিএম
মুকসুদপুরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহতের ঘটনায় ১৯৩ জনের নামে মামলা
ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে গরু চুরির অভিযোগে শামীম মিয়া (৩৬) নামে এক অটোভ্যান চালককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৯৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) নিহতের মা মেহেরুন্নেছা ওরফে পাচি বেগম বাদী হয়ে ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করে মুকসুদপুর থানায় একটি মামলা করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত শামীম মিয়া মুকসুদপুর উপজেলার পশারগাতি ইউনিয়নের বাহিরবাগ গ্রামের মৃত মুন্নু মিয়ার ছেলে। তিনি একজন অটোভ্যান চালক ছিলেন। সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে খাওয়া-দাওয়া শেষে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন শামীম। পরদিন সকালে তাকে বাড়িতে না পেয়ে পরিবার মনে করে তিনি কাজে বের হয়েছেন। কিন্তু দুপুরে খবর আসে, মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি মারা গেছেন।

পরিবার হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহের শরীরে বিভিন্ন স্থানে জখম দেখতে পায়। পরে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, শামীমকে তার পরিচিত কয়েকজন ফারুক শেখ, সুমন হাওলাদার, লিটন সরকার, সোহাগ, ইলিয়াস, মোজাহিদ ও বিপ্লব রাতে ডেকে নিয়ে যান। পরে তারা কৃষ্ণাদিয়া এলাকা থেকে একটি মিনি ট্রাকে করে গরু চুরির সময় ধরা পড়ে। এ সময় উত্তেজিত জনতা ধাওয়া দিলে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাজারিবাগ গ্রামে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এরপর গ্রামবাসী তাদের আটক করে পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীম মিয়া মারা যান। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের মা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, হাজিরবাগ, জানিবাগ, পশারগাতী ও কৃষ্ণাদিয়া গ্রামের ৪৩ জনসহ অজ্ঞাত আরও ১৫০ জন তার ছেলেকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, গরু চুরি সন্দেহে হত্যার ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলায় নামে ও বেনামে ১৯৩ জনকে আসামি করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাদল সাহা/নাঈম

গোপালগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
গোপালগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২
দুঘর্টনাকবলিত বাস দুইটি। ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে দুইটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৩টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ঢাকাগামী বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাগদি ব্রিজে ধাক্কা দেয়। এ সময় পেছন থেকে আসা হিমেল সীমান্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিআরটিসি বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি বাসের অন্তত ২৭ জন আহত হয়।

দুর্ঘটনার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দুইজনকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল খাঁন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার আমিরবাদ গ্রামের অমিতাভ হাওলাদার (৪২) ও শেরপুর জেলার কালাম (৩০)।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিয়ে দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে বেশ কিছু যানবাহন আটকা পড়ে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সড়িয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়ায় পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

বাদল সাহা/আমান

বেলকুচিতে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
বেলকুচিতে বাসচাপায় অটোভ্যানের ৩ যাত্রী নিহত
ছবি: খবরের কাগজ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় মেঘুল্লা এলাকায় বাসচাপায় একটি অটোভ্যানের তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও এক যাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাম জাফর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকা এক্সপ্রেস বাস একটি অটোভ্যানকে চাপা দিলে ভ্যানের তিন যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও এক যাত্রী। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

ওসি আবু জাফর আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। বর্তমানে দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি সড়ক থেকে সরানোর কাজ চলছে। 

সিরাজুল ইসলাম/নাঈম

বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ১০

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
বজ্রপাতে চার জেলায় নিহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

দেশের চার জেলায় বজ্রপাতের ঘটনায় গত বুধবার (৩ জুন) ও গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ১০ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ জন, গাইবান্ধা ও ময়মনসিংহে ২ জন করে এবং চুয়াডাঙ্গায় ১জন নিহত হয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: জেলার তিন উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সদর উপজেলার আতাহার এলাকার আব্দুল্লাহ (১৪), শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের মাহমুদা বেগম (১৯), একই ইউনিয়নের রানীবাগি বাজারপাড়ার সাহিদা খাতুন (১৬), মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণ পাড়ার মো. মেসবাউল এবং নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের লাহাপড়া গ্রামের সুমি আরা (৪০)।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন জানান, বিকেলে বাড়ির পাশে গরু আনার জন্য মাঠে গিয়েছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা জেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিবগঞ্জ থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, ঝড়-বৃষ্টির সময় বাগানে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে মাহমুদা বেগম, সাহিদা খাতুন ও মেসবাউলের মৃত্যু হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নিহত তিন পরিবারের প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, গতকাল বিকেলে মাঠ থেকে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সুমি আরার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী আব্দুর রাকিব আহত হয়েছেন।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় খড় তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে মা-ছেলে নিহত হয়েছেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা গ্রামের দাসপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন শৈলেন চন্দ্র দাসের স্ত্রী কল্পনা রানী (৫৫) ও ছেলে সোহাগ চন্দ্র দাস (৩২)।

এলাকাবাসী জানান, ঈদুল আজহার ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিলেন সোহাগ চন্দ্র দাস। সন্ধ্যায় ঝোড়ো বাতাস, হালকা বৃষ্টি ও ঘন ঘন বজ্রপাতের মধ্যে খড় তুলতে গেলে মা-ছেলে দুজনই বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।
সাঘাটা থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে শিক্ষকসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে মুক্তাগাছা উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের রৌহারচর গ্রাম ও গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন মধ্য লামকাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মুক্তাগাছা উপজেলার রৌহারচর গ্রামের খালেকুল আজাদ (৬০) এবং গফরগাঁও উপজেলার মধ্য লামকাইন গ্রামের সিয়াম খান (২৮)। খালেকুল আজাদ স্থানীয় গাবতলী ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের বাড়িতে অবস্থানকালে হাঁটাহাঁটির সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান খালেকুল আজাদ। অন্যদিকে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন সিয়াম খান। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. কামরুল হাসান এবং পাগলা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বজ্রপাতে শান্ত (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নাহিদ নামের আরও এক যুবক আহত হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলার নান্দবার গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার আগে ঝোড়ো হাওয়ার সময় শান্ত ও নাহিদ বাড়ির ছাদে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে কাছের একটি গাছে আগুন ধরে যায়, এতে একই সঙ্গে দুজনই আহত হন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শান্তকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নাহিদকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শহরেই বেশি হামের প্রকোপ

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
শহরেই বেশি হামের প্রকোপ
চমেক হাসপাতালের হাম ব্লকে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ছবি: খবরের কাগজ।

চট্টগ্রামে হাম আক্রান্তের হার কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। রোগটির উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই নগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশু।

দেখা দিচ্ছে নিউমোনিয়া সহ নানা জটিলতা। তবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার তুলনায় নগরে এই রোগের উপসর্গ বেশি দেখা দিচ্ছে।

এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ ও আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১২ জন।  

চিচিকৎসকরা বলছেন, চট্টগ্রামে হামের টিকা লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ দেওয়া হয়েছে। এই টিকা শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে কমপক্ষে চার সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগে। পাশাপাশি একটি রোগ যখন মহামারী আকার ধারণ করে সেটার প্রকোপ কমতে একটু সময় লাগে। হাম আক্রান্ত একজন শিশু থেকে ১৮ জনের শরীরে রোগটি ছড়ায়। তাই শিশুদের ভিটামিন ও প্রোটিনসম্বৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি সচেতনতাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম ব্লকে ১ নং ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে হাম উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের চিকিৎসা চলছে। ওয়ার্ডটিতে থাকা ৮০টি বেডের কোনটিই খালি নেই। সেখানে অবস্থানরত শিশুরা গায়ে র্যাশ ও জ্বরে ভুগছে। শ্বাসকষ্ট হলে শিশুদের দেওয়া হচ্ছে অক্সিজেন। হাসপাতালটিতে শিশুদের জন্য ২০টি আইসিইউ রয়েছে, এরমধ্যে ১৫টি হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য বরাদ্দ রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

চট্টগ্রামে মার্চের পর থেকেই হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের গত দুই মাসের (এপ্রিল ও মে) হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর হার যাচাই করেছে খবরের কাগজ। সেখানে দেখা গেছে, এপ্রিলে হামের উপসর্গ নিয়ে নগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭০০ শিশু, পাশাপাশি উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছে ১৯ জন। মাসটিতে গড়ে নগরে প্রতিদিন ২৩ জন শিশু হাম উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। 

তবে মে মাসে সবচেয়ে বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে নগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মে মাসে শিশুদের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার হার এপ্রিলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি। এপ্রিলে নগরের ৭০০ শিশুর শরীরে হামের উপাসর্গ দিখো দিয়েছে। আর মে মাসে নগরের ১ হাজার ৩৭৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া মাসটিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৬৬ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গহ দেখা দেয়। এই মাসে নগরে গড়ে প্রতিদিন ৪৪ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যায়। 

জুন মাসেও আক্রান্তের হার কম নয়। গত ১ জুন নগরে ৫৩ ও উপজেলায় ২ জন, ২ জুন নগরের ৪৩ জন ও ৩ জুন নগরের ৬০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ৩ জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৩৬৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে নগরের ২ হাজার ২৭৪ জন ও উপজেলার ৯১ জন। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে ২৭৬ জন। চট্টগ্রাম থেকে এখন পর্যন্ত নগর ও উপজেলা মিলিয়ে ১ হাজার ৪১৮ জন শিশুর নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে মারা গেছে নয় জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তিন জন। 

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম খবরের কাগজকে বলেন, চট্টগ্রামে নগর ও উপজেলা মিলে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে আমাদের হামের রোগী কমে গেছে। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, রাঙ্গমাটি, বান্দরবন থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীরা চমেক বা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে আসছে। এ কারণে নগরে বেশি দেখা যাচ্ছে। একটা রোগ মহামারী আকার ধারণ করলে সেটা কমে আসতে দুই-তিন মাস সময় লাগে। আশা করি হাম আক্রান্তের হার দ্রুত কমে যাবে। 

টিকা দেওয়ার পরেও কেউ হামে আক্রান্ত হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিকা দেওয়া হয়েছে, তবে এটার পুরো ফল পেতে আমাদের কয়েকমাস সময় লাগবে। যেহেতু এন্টিবডি তৈরি হতে কয়েক মাস সময় লাগে। তবে কিছু ফল পেতে শুরু করেছি। তবে বড়দের ক্ষেত্রে নিয়মিত মাস্ক পরিধান করা, হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করা জরুরি। আর বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ভীড় এড়িয়ে চলতে হবে, যেসব বাড়িতে হাম হচ্ছে সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর শিশুকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও প্রোটিনযুক্ত খাবার দিতে হবে। অন্তত দেড় মাস চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এই জায়গায় কোনভাবেই অবহেলা করা যাবে না।

তারেক মাহমুদ/এসএন

মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গ নিয়ে যমজ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

বুধবার (৩ জুন) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. নোমান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর প্রায় ১৫ দিন আগে তার যমজ ভাই মো. ফাহিম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মারা যাওয়া দুই শিশুর বয়স ছিল ১৩ মাস।

ফাহিম ও নোমান উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছড়া তাকিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা হারুন উর রশিদের সন্তান। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তাদের বাবা-মা।

শিশু দুটির বাবা হারুন উর রশিদ বলেন, ‘সরকারিভাবে যখন বিভিন্ন এলাকায় হামের টিকাদান কর্মসূচি চলছিল, তখন আমি আমার দুই শিশুকে টিকা দেওয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানান টিকা শেষ হয়ে গেছে। পরে আর টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিছুদিন পর আমার বড় ছেলে ফাহিম অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফাহিমের মৃত্যুর পর চিকিৎসকরা জানান নোমানের অবস্থাও ভালো নয়, তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও সিট না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ঢাকা শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করাই। সেখানে আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে নোমানও মারা যায়। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে আমার দুই সন্তানকে হারালাম। কোনোভাবেই নিজেকে শান্ত করতে পারছি না।’

স্থানীয় তাকিয়াপাড়া নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষক মো. কাউসার বলেন, ‘বড়তাকিয়া বাজারের ব্যবসায়ী হারুন উর রশিদের যমজ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে হামের টিকা সংরক্ষণ করা হয়।’

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাছির উদ্দিন বলেন, ‘হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলে রোগীর তথ্য সংরক্ষিত থাকে।’

টিকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইকবাল হোসেন/সালমান/