মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সানি (২০), স্বাধীন (২২), রুবেল (২৫) ও সুমন (২৫) নামের চার যুবককে দায়ী করেছে ভুক্তভোগী।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মিজান মাহমুদ সানি ও নাফিস আহমেদ স্বাধীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহম্মদপুর উপজেলা কমিটির সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। এ ঘটনায় এই দুই যুবককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, মাগুরার মহম্মদপুর থানাধীন ৫ নং বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী ব্যক্তির স্ত্রী ফরিদপুরের বোয়ালমারীর জনতা জুট মিল-এ কর্মরত। প্রতিদিনের মতো ডিউটি শেষে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গাড়িযোগে বাড়ি ফেরার পথে তিনি মহম্মদপুর থানাধীন গোপালপুর গ্রামের মেসবার ইটভাটার মোড়ে গাড়ি থেকে নামেন।
অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় গোপালপুর গ্রামের সানি (২০), স্বাধীন (২২), রুবেল (২৫) ও সুমন (২৫) নামের চার যুবক জোর করে ভুক্তভোগী ওই নারীকে পাশের একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরদিন দুপুরে তিনি মহম্মদপুর থানায় উপস্থিত হয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামানের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ওসি সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে মিজান মাহমুদ সানি ও নাফিস আহমেদ স্বাধীনকে থানায় নিয়ে আসেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী ও দুই যুবক থানা হেফাজতে রয়েছেন।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দুইজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি না, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগী নারীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের সত্যতা ও কতজন জড়িত ছিল তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তালিকায় দেখা যায়, পুলিশের হেফাজতে থাকা দুই যুবক- মিজান মাহমুদ সানি ও নাফিস আহমেদ স্বাধীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহম্মদপুর উপজেলা কমিটির সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মাগুরা জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার সেলিম বলেন, যে কমিটিতে তাদের নাম এসেছিল সেই কমিটি ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মাথায় বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই কমিটির কোনো বৈধতা নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা চলছে।
কাশেমুর রহমান/সুমন/