কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মায়ানমারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশুটি এখনো বেঁচে আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে সীমান্ত থেকে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫৩ সদস্যসহ ৫৪ জনকে আটক করেছে বিজিবি।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত আফনান (১২) ওই এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে উখিয়া কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাতভর গোলাগুলি চলছিল। রবিবার সকালে মায়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে শিশুটি আহত হয়। শিশুটি এখনো জীবিত রয়েছে, তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এর আগে, গুলিবিদ্ধ শিশুটি মারা যায় বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা টেকনাফ-কক্সবাজার সড়ক অবরোধ করেন।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান ওসি।
অন্যদিকে, বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘর্ষের সময় সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫৩ সদস্য ও এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। পরে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজিবি রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সকাল থেকে সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকা থেকে ৫৩ জন রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযান চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
শাহীন/এসজি/