ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে টানা চার দিনের ছুটি ঘোষণা করায় শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ৫০ কিলোমিটার জুড়ে নজিরবিহীন যানজট দেখা দিয়েছে। এ সুযোগে তিনগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই দুই মহাসড়কে দেখা যায় এমন দীর্ঘ যানজটের চিত্র।
৫০০ টাকার ভাড়া ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ চাওয়া হচ্ছে। এতে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা ও মাওনা এলাকায় কিছু সময় সড়ক অবরোধ করে রাখেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে টঙ্গী কলেজ গেট থেকে মাওনা চৌরাস্তা ও গাজীপুরের ভোগড়া এলাকা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর বাইপাস পর্যন্ত যানজট রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেমে রয়েছে যানবাহন।
এর আগে গতকাল সোমবার বিকেল থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার চার শতাধিক শিল্পকারখানা ছুটি ঘোষণা করা হলে সন্ধ্যার পর থেকে ঘরমুখী মানুষের ঢল বাড়তে থাকে সড়কে। দেশের উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশপথ চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায় যাত্রীদের উপচে পড়ে ভিড় হয়। রাতভর যানবাহনে অপেক্ষায় থাকা লোকজন আজ সকাল থেকে বাস ট্রাক, পিকাপসহ বিভিন্ন বাহনে করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন।
যানজট নিরসনে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল, গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সজিব হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, গতকাল ছুটি পেয়ে রাতেই বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়েছি। কিন্তু প্রচুর জ্যামের কারনে গাড়ি চলছে না। পরে আজ সকালে এসে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছি। এখন আবার ৬০০ টাকার ভাড়া চাচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা।
যাত্রীরা জানান, রাস্তায় প্রচুর যানজট, কোনো গাড়িতে ন্যায্য ভাড়ায় উঠা যাচ্ছে না। যানবাহন সংশ্লিষ্টরা পুরা একটা সিন্ডিকেট বানিয়ে ফেলেছেন। এখানে প্রশাসনকে কোনো দায়িত্ব পালন করতেও দেখা যায়নি।
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী এনআর বাসের চালক আব্বাস উদ্দিন খবরের কাগজকে জানান, যাত্রী নিয়ে রাত ১টার দিকে সাভারে এসে পৌঁছেছি। এর পর থেকে সকাল হয়েছে চন্দ্রা বাস কাউন্টার পর্যন্ত আসতে।
তিনি বলেন, যাত্রীর চাপ অতিরিক্ত থাকায় পরিবহনের ভাড়া বেড়ে গেছে। অনেক গাড়ি যানজটে আটকে আছে।
গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাউগাতুল আলম বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে শিল্পকারখানা ছুটি হয়েছে। শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা বাড়িতে যাচ্ছেন। এতে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা মহাসড়ক স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন। তবে পরিবহনের ভাড়া বেশি থাকায় কোথাও কোথাও যাত্রীরা বিশৃঙ্খলা করেছে। আমরা ভাড়ার বিষয়টিও দেখছি। যারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করবে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পলাশ প্রধান/অমিয়/