ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগ থেকে চারজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তবে বিভাগীয় সদর খুলনা জেলা থেকে একজনকেও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। এতে বিএনটির তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে মাত্র ১১টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে চারটি আসনই খুলনা জেলার। বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় উপহার দেওয়ায় মন্ত্রিসভায় খুলনার নেতাদের উপস্থিতি প্রত্যাশা করেছিলেন দলের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খুলনা জেলার একজনও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি।
নাগরিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক দলের আঞ্চলিক নেতারা মন্ত্রী হলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। বিগত দিনে খুলনায় একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। আঞ্চলিক উন্নয়নে বারবার বঞ্চিত হয়েছে এ জনপদ। ফলে বিভাগীয় সদর হিসেবে খুলনায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী থাকলে বন্ধ কলকারখানা চালু ও অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখতে পারতেন।
খুলনা বিভাগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী চারজন হলেন মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান পেয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব। এ ছাড়া যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পেয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদুল ইসলামকে দেওয়া হয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, ‘বিভাগের মধ্যে খুলনা জেলা সবচেয়ে ভালো করায় নেতা-কর্মীরা খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল কিংবা খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলি আসগার লবীর মধ্যে অন্তত একজনকে মন্ত্রী দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। তবে পার্টির চেয়ারম্যানসহ সিনিয়র নেতারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটাই মঙ্গলজনক ধরে নিচ্ছি।’
নাগরিক নেতারা বলছেন, নব্বই-পরবর্তী বিএনপির তিনটি সরকারে খুলনা থেকে কেউ মন্ত্রী হননি। অথচ আওয়ামী লীগের পাঁচটি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রতিটিতেই খুলনা থেকে পূর্ণ মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় খুলনা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে দীর্ঘ বঞ্চনার অবসানের দাবি ছিল নাগরিক নেতা ও দলটির কর্মীদের। সেই আশা পূরণ হয়নি।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘আঞ্চলিক নেতারা মন্ত্রী হলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। সেই আশা থেকে বিভাগীয় সদর হিসেবে খুলনায় মন্ত্রী আশা করেছিলাম। কিন্তু কিছুটা হতাশ হতে হয়েছে।’
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, ‘খুলনার মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সম্মানিত করেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উচিত ছিল খুলনা থেকে মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে এই সম্মানের প্রতিদান দেওয়া।’