খুলনায় স্বাস্থ্য খাতে আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ঘুষ দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই বছরের পর বছর ধরে আউটসোর্সিং কাজ চালিয়ে নেন নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার। কোনো ধরনের মনিটরিং না থাকায় কর্মচারী নিয়োগে অনৈতিক অর্থ আদায়, খেয়ালখুশিমতো চাকরিচ্যুত ও বেতনের লাখ লাখ টাকা বঞ্চিত করার অভিযোগ রয়েছে।
আউটসোর্সিং কর্মীরা অভিযোগ করেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটসোর্সিং কাজের ঠিকাদার তাকবির এন্টারপ্রাইজ তার কর্মচারীদের আট মাস ধরে বেতন দেয়নি। এখন নতুন টেন্ডার কাজে অংশ নিতে পুরোনো কর্মীদের বাদ দিয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে নতুন কর্মী নিয়োগের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
ফলে সোমবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের টেন্ডার নিয়ে দফায় দফায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের মিলনায়তনের সামনে আগে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের সঙ্গে নতুন কর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সম্প্রতি হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডারে অংশ নেওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাছরাঙা সিকিউরিটি সার্ভিস প্রা. লি. ও তাকবির এন্টারপ্রাইজের পক্ষে হাসপাতালে কাজ করতে আগ্রহী কর্মীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। এটা জানাজানি হলে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
তাদের দাবি, তাকবির এন্টারপ্রাইজ বিভিন্ন উপজেলা ও বাইরের লোকজন এনে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের সেবা দিয়ে আসা কর্মীরা নিজেদের বঞ্চিত ও অনিরাপদ মনে করছেন। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে পুরোনো কর্মীদের সরিয়ে নতুন লোক বসানোর চেষ্টা চলছে।
পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা অভিযোগ করেন, তারা গত আট মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। হাসপাতালে আউটসোর্সিং কাজে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেলে পুরোনো কর্মীদের পুনর্বহাল রাখার শর্ত থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। আন্দোলনরত কর্মীরা বলেন, ‘আমাদের ৮ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। আগে পাওনা পরিশোধ করতে হবে, তারপর নতুন নিয়োগ দেওয়া হোক। আমাদের অন্যায়ভাবে বাদ দিয়ে বাইরের লোক এনে পরীক্ষা নেওয়া অন্যায়।’
একাধিক সূত্রের দাবি, তাকবির এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে আগেও আউটসোর্সিং কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ইখতিয়ার উদ্দিন অতীতে একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন।
তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে চিঠি দিয়েছে। আমি নিয়ম মেনেই প্রার্থীদের নিয়ে এসেছি। আমার প্রার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধা দিয়ে তারা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই, এটা মিথ্যা অপবাদ। ঘটনার সময় নিয়োগ-প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চাপে পড়েন। দুই পক্ষের হট্টগোলের মধ্যে স্থানীয় দুই সাংবাদিক লাঞ্ছিত হন। একজন ঠিকাদারের পক্ষ নেওয়ায় আউটসোর্সিং কর্মীরা তাদের নানাভাবে কটূক্তি করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।