ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রবিবার বন্ধ থাকবে রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট সিঙ্গাপুর, কানাডা নয়, বেটার বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে হত্যা মুন্সীগঞ্জে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা শেষ হলো ‘রুচি বিউটিগ্রাম সিজন সেভেন’ টিভিতে আজকের খেলা হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে স্কটল্যান্ড র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘টেস্ট অফ ল্যাটিন’– সুস্বাদু খাবার আর ফিফা বিশ্বকাপের দারুণ এক উৎসব ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির বাংলাদেশ নারী দলের টি-টোয়েন্টি অভিযান আজ শুরু বিশ্ববাজারে কেন কমছে সোনার দাম? হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার দুপুরের মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা কোন চিহ্ন দেখে নবিজিকে চিনেছিলেন সালমান (রা.) নিজের বিরুদ্ধেও অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের আহ্বান এমপি মুশফিকুর রহমানের মরক্কো-ব্রাজিল দ্বৈরথে কাঁপল মেটলাইফ, গ্যালারিতে ৮০ হাজারের মহাসমুদ্র! চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে যুবক আটক, বিএসএফের মারধরের অভিযোগ রংপুরে চিকিৎসককে মারধর: মায়ের মরদেহ পেতে কান ধরে উঠবস যুবকের সিলেট সিটি করপোরেশনে চলতি বছরে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে: সিসিক প্রশাসক চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু সুবর্ণচরে নারীকে পিটিয়ে পদ হারালেন যুবদল নেতা সেনবাগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের মধুখালীতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই ‘রোদে লিচু পোড়ায় ক্ষতির মুখে চাষি-ব্যবসায়ী’ প্রস্তাবিত বাজেটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা খুশি ‘ফেবারিট’ তুরস্কের সামনে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া পরিদর্শন নেই, অরক্ষিত রেলপথ বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
Nagad desktop

দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ
দুর্ঘটনায় আহত ইন্সপেক্টর ন্যুয়াবুর রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দিনাজপুর শহরের সিআইডি কার্যালয়ের পাশের বড়মাঠ জিমনেসিয়াম রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা হলেন সিআইডি কার্যালয়ে কর্মরত ইন্সপেক্টর ন্যুয়াবুর রহমান।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১১টার ইন্সপেক্টর ন্যুয়াবুর রহমান তার স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে কোচিং সেন্টারে পৌঁছে দিতে মোটরসাইকেলে করে বের হন। 

বড় মাঠ জিমনেসিয়ামের সামনের সড়কে মোটরসাইকেলে সড়ক পার হওয়ার সময় একটি অটোরিকশার সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তিনি ও তার ছেলে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন।

দুর্ঘটনায় ইন্সপেক্টর ন্যুয়াবুর রহমানের ডান হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। মোটরসাইকেলটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় স্থানীয় পথচারীরা এগিয়ে এসে আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে সড়ক থেকে তুলে সহায়তা করেন। তার ছেলে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলেও গুরুতর আহত হয়নি বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অটোরিকশা চালককে থানায় নেওয়ার কথা বলা হয়। এ সময় অটোরিকশা চালক স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদকে ফোন করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, আবু সাঈদ ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তিও পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে উপস্থিতরা জানান। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পরে আহত ইন্সপেক্টর ন্যুয়াবুর রহমানকে দ্রুত দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার ভাঙা হাতে চিকিৎসা প্রদান করেন।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও কিছু লোকজন উত্তেজনা সৃষ্টি করে। একজন পোশাকধারী পুলিশ সদস্য থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর চড়াও হওয়া দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুন্নবী বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা যদি আইনি পদক্ষেপ নিতে চান, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সুলতান/মাহফুজ

চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে হত্যা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
চট্টগ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে হত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৩৫)।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১১টার দিকে আনোয়ারার পারৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড চেনামতি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন, ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। নিহত প্রিয়ন্তী মাহাতা পাঠনিকোটা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুসন্তান পিয়াস বড়ুয়াকে (৫) উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরে সুজন বড়ুয়ার পরিবারে সুদের টাকাসহ অভ্যন্তরীণ ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই গতকাল রাত ১১টার দিকে বসতঘরে ঢুকে মা, মেয়ে ও শিশুর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৩৫)। তিনি ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করেন। এর মধ্যে এনি বড়ুয়া ও প্রিয়ন্তী বড়ুয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু পিয়াস বড়ুয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আনোয়ারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল আহমেদ জানান, 'হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ নিহত মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে জড়িত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।'

ইফতেখারুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ফের অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস রোড থেকে আবারও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার কেওয়াটখালী ব্রিজ-১ সংলগ্ন এলাকায়, মাওয়ামুখী লেনের সার্ভিস রোডে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, তাৎক্ষণিক মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

এর আগে গত ১২ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে একই এক্সপ্রেসওয়ের কামারখোলা এলাকায় সার্ভিস রোডে এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। পরে তাকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ উভয় ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে দেখছে।

সুমন/খাদিজা রুমি/

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:০৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার জয়নগর সীমান্ত দিয়ে ১১ জন বাংলাভাষী ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির তৎপরতা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই চেষ্টা ব্যর্থ হলে পরে তাদেরকে সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

রবিবার (১৪ জুন) ভোরে দর্শনা আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট সংলগ্ন ৭৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ভোর প্রায় ৪টার দিকে সীমান্তের ভারতীয় অংশে ১১ জন বাংলাভাষী ব্যক্তিকে জড়ো করে বিএসএফ। তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা যায়। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরা। এ সময় স্থানীয় গ্রামবাসীরাও বিজিবির সঙ্গে অবস্থান নেন।

বিজিবির কঠোর অবস্থান ও স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে শেষ পর্যন্ত পুশইনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে বিএসএফ। পরে জড়ো করা ১১ জনকে শূন্যরেখা এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, বিএসএফের পক্ষ থেকে ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিজিবি তা প্রতিহত করেছে। পরবর্তীতে তাদেরকে সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মিজানুর রহমান/খাদিজা রুমি/ 

হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
হাতিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছে পরিবার
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে (১২) ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও তাদের পেষোয়াদের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগীর পরিবারটি। 

গত কয়েক মাস আগে এই ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি তারা। 

শনিবার (১৩ জুন) ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মায়ের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণসহ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলমকে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে রান্নাবান্নার কাজ করত। সে সুবাদে কিশোরীও সেখানে মাঝে মধ্যে যাতায়াত করতো। 

ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, সে যখন স্কুলে বা বিকালে দোকানে যেতো, তখন খোরশেদ আলম তদন্ত কেন্দ্রের পাশের রাস্তার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে প্রায়ই বাসার তিনতলার ব্যালকনি থেকে ডাকতেন। প্রথম দিকে ভুক্তভোগী ভয়ে যেতো না। পরবর্তীতে বাসার ঘর ঝাড়ু দেওয়া, কাপড় ধোয়া এবং বিছানা ঠিক করার অজুহাতে ডেকে নেওয়া হতো। বাসায় ডেকে নিয়ে খোরশেদ আলম তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। কিশোরী এতে বাধা দিলে তাকে ও মাকে একেবারে মেরে ফেলার হুমকি দেন। ধর্ষণের পর তাকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য ৫০০ বা ১০০০ টাকা দিয়ে বিদায় করা হতো এবং 'মোবাইল' কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হতো। 

লোকলজ্জা ও সামাজিক মানসম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগী প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি উল্লেখ করে বলেন, সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি বিকালে কিশোরীর মা খোরশেদ আলমের বাসার দরজার সামনে গিয়ে ভুক্তভোগীকে ডাকলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধমক দিয়ে বাথরুমে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করেন এবং তার মাকে মিথ্যা কথা বলে বিদায় করে দেন। পরবর্তীতে রাতে মা তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিশোরী সব সত্য ঘটনা খুলে বলেন। 

কিশোরীর মা বলেন, আমার মেয়েকে ধর্ষণের বিষয়টি আমরা পুলিশের হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে জানিয়েছিলাম। এ বিষয়ে তার কাছে লিখিত জবানবন্দিও দিয়েছি। কিন্তু তিনি টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছেন। স্থানীয় রাকিব ও স্বর্ণকার কবির নামে দুই জন পুলিশের পক্ষ নিয়ে আমাদের থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল। আমরা এখন ভয়ে বাড়িতে যেতে পারি না। গত চার মাস ধরে আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি। 

তবে অভিযোগের বিষয়ে আইসি খোরশেদ আলমের বক্তব্য জানা যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন,  অনেক আগে এ ধরনের একটি অভিযোগ উঠেছিল। তখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে হাতিয়া সার্কেল কর্মকর্তা একটি তদন্ত করেছিলেন। তদন্তে এর সত্যতা মেলেনি বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু রবিবার (১৪ জুন) আবার এই ধরনের একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বর্তমানে কোনও লিখিত কিংবা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী কিশোরী কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকেও আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।

নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনা সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সাকিব/খাদিজা রুমি

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে যুবক আটক, বিএসএফের মারধরের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে যুবক আটক, বিএসএফের মারধরের অভিযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে জুলফিকার (২২) নামে এক বাংলাদেশি যুবককে আটক করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যার আগে দর্শনা-গেদে আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক জুলফিকার দর্শনা জয়নগর গ্রামের কালু মৌলভীর ছেলে। তিনি দর্শনা পৌর এলাকার রামনগর বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, শনিবার বিকেলের দিকে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় লাকড়ি কুড়াতে যান জুলফিকার। এ সময় চেকপোস্টের মাঝামাঝি এলাকা থেকে বিএসএফ তাকে ধাওয়া করে আটক করে। 

তার সঙ্গে থাকা আরও দুই-তিনজন পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও জুলফিকারকে বিএসএফ সদস্যরা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, জুলফিকার দর্শনা-গেদে সীমান্তের রেললাইনের পাশে ভারতীয় অংশে থাকা নিরাপত্তা বেষ্টনী কাটার চেষ্টা করছিল। এ সময় বিএসএফ তাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে ভারতীয় পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভারতীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

মিজানুর রহমান/তামান্না রুপা/