ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক বাউফলে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাপাহারে মতবিনিময় সভা বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রুমিন ফারহানার উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স অ্যানালিটিক্স সফটওয়্যার উদ্বোধন শাওমি নিয়ে এল ৯.৭ ইঞ্চির নতুন রেডমি প্যাড ২ ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ঈদের আগে বেতন না পাওয়ায় সংসদে ক্ষোভ চীন-মঙ্গোলিয়া যৌথ মহড়ায় নজর কাড়লো রোবটিক উলফ চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী গৃহকর্মী রোবট! দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন বাজি রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রামিসার মৃত্যু, অপরাধীর শাস্তি এবং সমাজের দায় বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন
Nagad desktop

চট্টগ্রামে নির্দেশ উপেক্ষা করে মার্কেটে বাড়তি আলোকসজ্জা

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
চট্টগ্রামে নির্দেশ উপেক্ষা করে মার্কেটে বাড়তি আলোকসজ্জা
চট্টগ্রামের নাসিরাবাদের মিমি সুপার মার্কেটে নির্দেশ উপেক্ষা করে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ছবি: মোহাম্মদ হানিফ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য জ্বালানিসংকটের আশঙ্কায় রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা পরিহারের জন্য স্পষ্ট নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। তবে সেই নির্দেশনা মানার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না চট্টগ্রামের বহু মার্কেট ও শপিং সেন্টারে। সন্ধ্যা হলেই জ্বলে উঠছে রঙিন বাতি, ঝলমলে লাইট ও নান্দনিক আলোকসজ্জা। কোথাও মার্কেটের পুরো ভবন, কোথাও পার্কিং এলাকা ও খোলা জায়গা পর্যন্ত সাজানো হয়েছে রঙিন আলোয়। এতে একদিকে বাড়ছে জ্বালানি খরচ, অন্যদিকে ঘটছে বিদ্যুতের অপচয়, যা সংকটের আশঙ্কার সময়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন শহরের মার্কেট ও শপিং সেন্টারগুলোতে প্রতি বছরই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর রঙিন লাইট, এলইডি স্ট্রিং, নকশা করা আলোকসজ্জা ও গেট ডেকোরেশনের মাধ্যমে মার্কেট এলাকা জমজমাট হয়ে ওঠে। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো চট্টগ্রামের বড় বড় মার্কেটেও ঈদ সামনে রেখে দোকানের সামনে রঙিন বাতি ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে। এতে রাতের বেলায় বাজার এলাকায় তৈরি হয়েছে আলাদা উৎসবের আমেজ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। শুধু দোকান বা ভবনই নয়, মার্কেটের সামনে পার্কিং এলাকা, খোলা জায়গা এমনকি আশপাশের সড়কও বাদ যাচ্ছে না লাইটিং থেকে।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক মার্কেটে ব্যাপক আলোকসজ্জা করা হয়েছে। জিইসি মোড়ের সানমার শপিং সেন্টারের পুরো ভবনজুড়ে লাইটিং রয়েছে। ভবনের সামনের পার্কিং এলাকাতেও অতিরিক্ত লাইটিং লাগানো হয়েছে। প্রবর্তক মোড়ে মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা এবং লালখান বাজারের আমিন সেন্টারেও দেখা গেছে একই চিত্র। আগ্রাবাদের সিংগাপুর মার্কেট ও আগ্রাবাদ সেন্টার রঙিন বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে।

সন্ধ্যার পর নগরীর নিউ মার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, জিইসি মোড় ও চকবাজারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় ঘুরে দেখা যায়- অধিকাংশ দোকান ও মার্কেটে ঈদ উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ আলোকসজ্জা করা হয়েছে। অনেক দোকানের সামনে বৈদ্যুতিক সাজসজ্জা করে ক্রেতাদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ী।

অন্যদিকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘রমজান ও ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা থেকে বিরত থাকতে হবে।’ তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গেও যুক্ত। তাই সংকটের সময়ে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো হবে।’

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রও একাধিকবার জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন। 

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতা আকর্ষণে আলোকসজ্জা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পুরোপুরি আলো বন্ধ করা তাদের পক্ষে কঠিন। অনেকেই দাবি করছেন, ব্যবসার স্বার্থে কিছুটা আলোকসজ্জা রাখতে হচ্ছে, যদিও তারা বিদ্যুৎ অপচয় কমানোর চেষ্টা করছেন।

চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এমরান বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনাকে আমরা সম্মান করি। যতটা সম্ভব বিদ্যুৎ কম ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসাও চালিয়ে যেতে হবে। মার্কেট সুন্দরভাবে সাজানো না থাকলে অনেক সময় ক্রেতারা আগ্রহ দেখান না।’

মিমি সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন কাঞ্চন বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে কিছুটা সাজসজ্জা না থাকলে আকর্ষণ কমে যায়। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই আলোকসজ্জা করা হয়েছে। রমজান শেষ হলে এসব আলোকসজ্জা আর থাকবে না।’ তিনি বলেন, বছরের ব্যবসার বড় একটি অংশই হয় ঈদকে কেন্দ্র করে। অন্য সময় ব্যবসা তুলনামূলক কম থাকে। তাই রমজানের সময় কিছুটা ব্যবসা না হলে অনেক ব্যবসায়ী টিকে থাকতে পারবেন না।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার জ্বালানি তেলের ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমানোর ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে যানবাহনের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে রেশনিং পদ্ধতিতে কম তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রাথমিকভাবে এলাকাটিতে চারটি সড়ক নির্মাণ করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

সোমবার (৮ জুন) ব্রিগেডের অধীনস্থ একটি ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে।

কাজের শুরুতে জঙ্গলসলিমপুর আলিনগরের তিন কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ি এলাকায় নির্মাণাধীন সড়কের স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন লে. কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ, পিএসসি, (ইঞ্জি. অধিনায়ক, ২৬ ইসিবি)।

তিনি বলেন, ছিন্নমূল এলাকা থেকে আলীনগর হাইস্কুল পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া আলীনগর থেকে টেক্সটাইল এলাকা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত আরেকটি সড়ক নির্মিত হবে। আলীনগর থেকে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির পাশ দিয়ে একটি সড়ক চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর বাইরে জঙ্গল সলিমপুরে আরও একটি অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এখনও প্রকল্পের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বাজেট অনুমোদন হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্গম, পাহাড়ি ও চ্যালেঞ্জিং এলাকায় সড়ক নির্মাণে সেনাবাহিনীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা কাজ শুরু করেছি।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর একটি দুর্গম, পাহাড়ি ও বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকা। কয়েক দশক ধরে এটি দেশের অন্যতম অপরাধপ্রবণ ও দুর্ভেদ্য জনপদ হিসেবে পরিচিত। নব্বইয়ের দশকে আলী আক্কাস নামে এক সন্ত্রাসী প্রথম এ অঞ্চলে প্রবেশ করে পাহাড়ি খাসজমি দখল করে অবৈধ বসতি স্থাপন শুরু করেন। নিজের দখল বজায় রাখতে তিনি একটি সশস্ত্র বাহিনীও গড়ে তোলেন।

পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিম্নআয়ের বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে ‘ছিন্নমূল পুনর্বাসন’ প্রকল্পের নামে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে প্লট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ভূমি বাণিজ্য গড়ে ওঠে।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভুঁইয়া নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ মার্চ এলাকায় অপরাধীদের আস্তানা উচ্ছেদ এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নেন। পরে এলাকায় যৌথবাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

এদিকে, গত ২৪ মে গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরে স্থাপিত একটি যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। জবাবে পুলিশ ও র‍্যাব পাল্টা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পিছু হটে। তবে এর আগে তারা এলাকায় নির্মাণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে পুলিশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে একটি সড়কও কেটে ফেলে।

মুসলেহ উদ্দীন/নাঈম

ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে খাওয়ার সময় টেবিলের নিচে মাংস জমা করা নিয়ে কনে পক্ষ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। 

সোমবার(৮ জুন) বিকেলে উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া নয়াকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন- মো. আরিফ মিয়া, সহিদ মাতুব্বর, ছোরাপ মাতুব্বর ও মমতাজ বেগমসহ বেশ কয়েকজন। তাদের কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার দেওড়া নয়াকান্দা গ্রামের লাভলু শেখের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বর পক্ষ,আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীদের দাওয়াত দেওয়া হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে গ্রামের কয়েকজন খাওয়ার সময় টেবিলের নিচে মাংস জমা করে এবং নষ্ট করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল মাতুব্বর বলেন, বিয়ে বাড়িতে মাংস খাওয়া নিয়ে পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে মাংস খাওয়া নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েক জন আহত হন। পরে স্থানীয় মুরব্বিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে। 

কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মিরহামজানি এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে মুক্তা (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মুক্তা ওই এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামী ও ৭ বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে রেললাইন ধরে বাবার বাড়ি যাওয়ার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে একই এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহে পচন ধরায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, কয়েকদিন আগে তাকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

উভয় মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টাঙ্গাইল কালিহাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জুয়েল/নাঈম

পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টায় আটকে থাকা শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষকে চার দিনের মাথায় অবশেষে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

রবিবার (৭ জুন) রাতে কয়েক দফায় ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে শিশুসহ ওই ১০ জনকে সরিয়ে ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ। পরে তাদের সরিয়ে নেওয়ার পর আবারও সীমান্তের লাইট চালু করে তারা।

এর আগে শুক্রবার ভোরে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এদিকে গত রবিবার দুপুর ১২টার দিকে আবারও ভারতের অংশের শূন্যরেখা থেকে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ভারতীয় সীমান্তরেখা থেকে পুশইনের চেষ্টায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের বিএসএফ ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেও বিজিবির টহল ও অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন সীমান্তে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় বড় লবাড়ি প্রধানপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোহাগ বলেন, ‘রবিবার রাত দেড়টার দিকে প্রথমে বিএসএফ ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে। পরে আবার চালু করে। এভাবে দুই-তিনবার লাইট বন্ধ করার পর তারা চলে যায়। আমরা এমন ঘটনা আর দেখতে চাই না।’

একই কথা বলেন আতাউর রহমান নামে আরেক স্থানীয় যুবক বলেন, ‘পুশইনের ঘটনা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। বিজিবির সঙ্গে আমরা সব সময় রয়েছি। বিএসএফ ওই ১০ জনকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে, এটি ভালো করেছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও মজবুত হোক এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সম্পর্কও ভালো থাকুক।’

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় আমরা কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার করেছি।  রবিবার রাতে বিএসএফ যে ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল, তাদের সবাইকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। বড়বাড়ি সীমান্তে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আমাদের টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’ 

রনি মিয়াজী/রিফাত/

চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি
ছবি: সংগৃহীত

ছয় দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মত কর্মবিরতি পালন করছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

সোমবার (৮ জুন) কর্মবিতরতির পাশাপাশি তারা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ নকর্মসূচিও পালন করেন।

এদিকে, তাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সোমবার সকাল থেকে বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকরাও কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক ইরফানুর রহমান বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

তবে দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। আলোচনার পর কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।

এদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে তারা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। স্বাভাবিক সময়ে তারা অন্তত ডিউটি ডকটরস রুমে গিয়ে চিকিৎসককে রোগীর তাৎক্ষণিক সমস্যার কথা বলতে পারতেন। তারা দ্রুত এসে সমাধান দিতেন কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই।

রোগীদের সেবায় বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে ইরফানুর রহমান বলেন, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ এবং ওয়ার্ডগুলোতে সেবা চালু আছে। যেহেতু আমরা কর্মবিরতিতে আছি তাই সেবায় বিঘ্ন ঘটাই স্বাভাবিক।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছয় দফাসমূহ হলো, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের গত ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো প্রণয়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর, ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিএমডিসি ও বাংলাদেশ
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা।

এসব দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

ইন্টার্ন ডাক্তারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
এতে বলা হয়, গত ১৯ মে মন্ত্রণালয় থেকে নীতিমালা জারির পর সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিসিপিএস কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনার ভিত্তিতে উপজেলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের শর্ত বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এফসিপিএস প্রথম পর্বে উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীরা এখন থেকে বিসিপিএস স্বীকৃত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নিলে প্রশিক্ষণ ভাতার আওতাভুক্ত হবেন। বাকি দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাঈম/