ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিএনপির ১৩ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হবে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগ -যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২১ পুশইন ব্যর্থ, দুদিন পর হরিপুর সীমান্ত থেকে ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিল বিএসএফ বিশ্ব সমুদ্র দিবস আজ ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াল এনবিআর ময়মনসিংহে ধসে পড়া বেইলি ব্রিজটি ১০ বছর ধরে ছিল ঝুঁকিপূর্ণ সাদুল্লাপুরে কাভার্ডভ্যানে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১ লেবানন থেকে ড্রোন হামলায় ফিরল দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ মতিঝিলে ব্যাংকের সামনে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে দুর্ধর্ষ ছিনতাই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক কালজানি ও দুধকুমারের কালো রূপ: বর্ষার আগেই নদীগর্ভে শতাধিক বাড়ি চাকরি না পেয়ে ইউটিউব দেখে আম চাষ, লক্ষাধিক টাকা আয় মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ইরানের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত সন্তানের বাবা-মায়ের শেষ ঠিকানা কেন বৃদ্ধাশ্রম? সৌরবিদ্যুৎ খাতে বাড়তি কর চাপানো ঠিক হবে না ‘ঢলন’ প্রথায় শতকোটি টাকা হারাচ্ছেন রাজশাহীর আমচাষিরা ককরোচ পার্টির আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি, সরকারকে আলটিমেটাম হাসপাতালে ভর্তি সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মূল্যস্ফীতি বেড়েছে : চাপে সাধারণ মানুষ আনোয়ারা: দল বদলায়, রক্ষাকবচে অত্যাচার থামে না ৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প জয়ী হননি, বিশ্ব অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি ৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া জোটে’র বৈঠক আজ, বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ২৩ দল সবজির শত্রু কাঁঠালে পোকা আলোচিত না হলেই তদন্ত ও বিচারে ধীরগতি ৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
Nagad desktop

রূপগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
রূপগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের অভিযান চালিয়ে দেড় মণ গাঁজা, সাড়ে চার শতাধিক বোতল ফেনাড্রিল জব্দ করেছে পুলিশ।

রবিবার (১৫ মার্চ) ভোরে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ির টেক থেকে এসব মাদক জব্দ করা হয়।

এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে  প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা হলেন- রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক হুমায়ূন আহমেদ, সহকারী উপরিদর্শক আহসানুল্লাহ ও নাদিরুল ইসলাম।

প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সবজেল হোসেন।

রুবেল শিকদার/অমিয়/

পুশইন ব্যর্থ, দুদিন পর হরিপুর সীমান্ত থেকে ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিল বিএসএফ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
পুশইন ব্যর্থ, দুদিন পর হরিপুর সীমান্ত থেকে ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিল বিএসএফ
সীমান্তে প্রহরায় বিজিবি সদস্য। ছবি: খবরের কাগজ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর জিরো লাইনে অবস্থানরত ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মশালগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ১১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান ও তৎপরতার কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতে থাকেন।

জিরো লাইনে অবস্থানরতদের মধ্যে ৩জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং চারটি শিশু ছিল। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তারা রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে মানবিক দুর্ভোগের মুখে পড়ে। তাদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারীও ছিলেন বলে জানা গেছে।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)  খবরের কাগজকে জানায়, সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক ৩টার পর বিএসএফ ওই ১১ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছে না।

৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান খবরের কাগজকে জানান, সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা পুশইনের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এ দিকে দুদিন ধরে জিরো লাইনে অবস্থানের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নবীন হাসান/থিও/

ময়মনসিংহে ধসে পড়া বেইলি ব্রিজটি ১০ বছর ধরে ছিল ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
ময়মনসিংহে ধসে পড়া বেইলি ব্রিজটি ১০ বছর ধরে ছিল ঝুঁকিপূর্ণ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি বালুবাহী একটি ট্রাকসহ ধসে পড়েছে

অবশেষে যা হওয়ার ছিল, তাই হলো। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা এলাকার কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। গতকাল রবিববার ভোরে বালুবাহী একটি ট্রাকসহ সেতুটি নদীতে ধসে পড়ে। এতে শুধু একটি সেতুই নয়, ধোবাউড়াসহ আশপাশের এলাকার কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসাও মুহূর্তে ভেঙে পড়ে।

ভোর ৪টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ধোবাউড়ার সঙ্গে ময়মনসিংহ জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে আহত হয়েছেন ট্রাকের চালক ও হেলপার। স্থানীয়দের মতে, এটি কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা অবহেলা, উদাসীনতা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ব্যর্থতারই পরিণতি।

তারা বলছেন, প্রায় এক দশক আগে থেকেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। বিভিন্ন সময়ে বাঁশ, কাঠ ও অস্থায়ী উপকরণ দিয়ে মেরামত করে যান চলাচল সচল রাখা হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। নির্বাচনের আগে নতুন সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি মিলেছে বারবার। কিন্তু প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেয়নি। ফলে প্রতিদিন বহু মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ব্রিজটি ধসে পড়ায় ধোবাউড়া, গোয়াতলা, তারাকান্দা এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। কর্মজীবীরা সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনও বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি অনেকাংশে সড়ক যোগাযোগনির্ভর হওয়ায় দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে দীর্ঘদিন বহু মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করেছেন। ভোরে ময়মনসিংহগামী বালুভর্তি ট্রাকের চাপে সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এতে তারকান্দাসহ ময়মনসিংহ সদরের সঙ্গে ধোবাউড়ার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘এখন জানা যাচ্ছে এই স্থানে নতুন সেতু নির্মাণ হবে। অথচ সেতুটি প্রায় ১০ বছর ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তা হলে এই উদ্যোগ আগে নেওয়া হলো না কেন? ঝুঁকির সময়েই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজকের এই ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।’

আজিজুল ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, ‘ব্রিজটি ধসে যাওয়ার পর গাড়ি চলাচলের সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এখনো বহু পুরোনো বেইলি ব্রিজ ব্যবহৃত হচ্ছে। সাময়িক সমাধান হিসেবে নির্মিত এসব সেতুর অনেকটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। সেগুলোর পরিবর্তে স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ এগোয়নি। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিও রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। গোয়াতলার কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটির ধস সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের সমন্নয়কারী ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, ‘কোনো অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা হওয়ার পরও বছরের পর বছর সেটি ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া পরিকল্পনা ও নজরদারির দুর্বলতার পরিচায়ক। অস্থায়ী মেরামত নয়, কংস নদীর ওপর দ্রুত একটি আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করে জনদুর্ভোগ কমাতে হবে।’

তিনি বলেন, গোয়াতলা বেইলি ব্রিজের ধস আবারও মনে করিয়ে দিল, অবকাঠামোর ক্ষেত্রে অবহেলা শুধু উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে না, এক সময় জনজীবনকেও বিপর্যস্ত করে। এ ঘটনার পর কি সত্যিই স্থায়ী সমাধান হবে, নাকি মানুষকে আরেকটি দুর্ঘটনার অপেক্ষায় থাকতে হবে–সেটাই এখন প্রশ্ন। 

এ বিষয়ে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, সেতু ধসের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা চালু এবং সেতু মেরামত বা নতুন সেতু নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সাদুল্লাপুরে কাভার্ডভ্যানে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম
সাদুল্লাপুরে কাভার্ডভ্যানে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ১
ছবি: প্রতীকী

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় জাতীয় মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের পেছনে ট্রাকের ধাক্কায় রফিক (৩৮) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন।

রবিবার (৭ জুন) ভোরে উপজেলার ধাপেরহাট এলাকার একবারপুর গ্রামের হাজী মাল্টিমিডিয়া কোল্ড স্টোরেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত চালক রফিক মিয়া (৩৫) টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার তালিমা গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে।

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন রবিবার বিকেলে খবরের কাগজকে জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রাকটি রংপুরের দিকে যাচ্ছিল। একই দিকে একটি কাভার্ডভ্যানও যাচ্ছিল। পথে ধাপেরহাট এলাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ডভ্যানের পেছনে ধাক্কা দিলে ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।  

মিলন খন্দকার/তামান্না রুপা/

লেবানন থেকে ড্রোন হামলায় ফিরল দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
লেবানন থেকে ড্রোন হামলায় ফিরল দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ
নাহিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

লাশবাহী গাড়ির দরজাগুলো খোলার সঙ্গে সঙ্গেই স্তব্ধ হয়ে গেল সাতক্ষীরার দুটি গ্রাম। চিরচেনা উঠানে যখন দুটি কফিন নামানো হলো, তখন আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে শুরু হলো স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে সাতক্ষীরা থেকে হাজার মাইল দূরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কিন্তু গত ১১ মে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সেই দুই রেমিট্যান্সযোদ্ধা–শফিকুল ও নাহিদুলের নিথর দেহ অবশেষে কফিনবন্দি হয়ে ফিরল তাদের প্রিয় জন্মভিটায়।

গত শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কফিন দুটি এসে পৌঁছায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল রবিবার সকালে মরদেহ দুটি সাতক্ষীরায় আনা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ধারদেনা আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে চাওয়া দুই তরুণের কফিন ছুঁয়ে স্বজনদের এই অন্তহীন মাতম উপস্থিত যে কাউকেই স্থির করে দেয়।

​সাতক্ষীরা সদরের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম একসময়ে থাকতেন সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হলেও অভাব পিছু ছাড়েনি। ধারদেনা শোধের অদম্য ইচ্ছা আর সন্তানদের একটু ভালো রাখার আশায় মাত্র কয়েক মাস আগে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি। লেবাননে গিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে প্রথম উপার্জনের টাকা পাঠিয়ে স্ত্রী রুমা খাতুন আর দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন বুনছিলেন। কিন্তু স্বামীর সেই নিথর কফিন আগলে রেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন রুমা। আর দুই অবুঝ শিশুকন্যা স্তব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল বাবার কফিনের দিকে, যেন তারা বুঝতেই পারছে না তাদের মাথার ওপর থেকে ছায়া চিরতরে সরে গেছে।

শফিকুলের বোন জাহানারা খাতুন ভাইয়ের কফিন ধরে বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ভাইটা তো কোনো পাপ করেনি। শুধু আমাদের মুখে একটু ডাল-ভাত তুলে দেওয়ার জন্য, ধারদেনার বোঝা থেকে মুক্তি পেতে সে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল। প্রথম মাসের টাকা পাঠিয়ে বলেছিল, আপা, এবার আমাদের দুঃখ ঘুচবে। সেই ভাই আজ লাশ হয়ে ফিরল! আমরা এখন কার দিকে তাকাব?’

ছেলের শোকে পাথর হয়ে গেছেন মা আজেয়া খাতুন। বিলাপ করার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। এক দৃষ্টিতে কফিনের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কলিজার টুকরো এভাবে কফিনে বন্ধ হয়ে ফিরবে, আমি কোনোদিন ভাবিনি। ও যাওয়ার সময় বলেছিল, মা আর কষ্ট করা লাগবে না। ওর সেই কথা কি এভাবেই সত্যি হলো? ও আল্লাহ, তুমি আমার ছেলের বদলে আমাকে কেন নিয়ে গেলে না!’

এদিকে এতিম দুই শিশুর দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন মিঠু বলেন, ‘পরিবারটি একেবারেই নিঃস্ব। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু ছাড়া আর কিছুই নেই। এই ছোট ছোট মেয়ে দুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরিবারটির কারও কর্মসংস্থান জরুরি। নইলে এই এতিম শিশুরা পথে বসে যাবে।’

একই দিন লাশের খাটিয়া পৌঁছেছে আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামের যুবক নাহিদুলের বাড়িতে। নোনা পানির এই অবহেলিত জনপদে নিজের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাহিদুল। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হওয়া সন্তানকে আজ কফিনবন্দি দেখে পাগলপ্রায় বৃদ্ধ বাবা-মা।

ছেলের কফিনে মাথা কুটে কাঁদছিলেন বৃদ্ধ বাবা আব্দুল কাদের। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘জমিজমা যা ছিল সব বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ও আমাদের এই বুড়ো বয়সের লাঠি হবে, সংসারের অভাব দূর করবে। কিন্তু যুদ্ধ আমার সব শেষ করে দিল।’

​এদিকে ছেলেকে হারিয়ে মা নুরুন্নাহার খাতুন এখন শয্যাশায়ী। ছেলের মৃত্যুর খবর আসার পর থেকেই তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। কফিন বাড়িতে আসার পর তাকে ধরে উঠানে আনা হলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। চেতনা ফিরতেই বিলাপ করে বলেন, ‘আমার নাহিদুল কই? ও তো আমাকে বলেছিল ভালো জায়গায় আছে, ভালো আছে। আমার সোনার টুকরো কেন কথা বলে না? তোমরা ওর কফিনটা খোলো, আমি একবার আমার বাছারে (সন্তানকে) বুকে জড়ায় (জড়িয়ে) ধরব।’

তবে এই চরম সংকটের মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটির পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। খুলনা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) খালেদুর রহমান জানান, দুই নিহতের পরিবারকে সহায়তার জন্য তাৎক্ষণিক কিছু দাপ্তরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে এই দুই রেমিট্যান্সযোদ্ধার পরিবার যাতে দ্রুত সব ধরনের আর্থিক সুরক্ষা ও অনুদান পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।

গতকাল রবিবার দুপুরের দিকে শফিকুল ও নাহিদুলের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়। দুই পরিবার অন্তত সন্তানের শেষ স্মৃতিটুকু ছুঁয়ে বিদায় জানানোর সুযোগ পেলেও একই দিনে পৃথক হামলায় নিহত জেলার কলারোয়া উপজেলার শুভ কুমার দাসের হতভাগ্য পরিবারের ভাগ্যে সেই সান্ত্বনাটুকুও জোটেনি। লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় ড্রোন হামলার সেই ভয়াবহ আঘাতে শুভর শরীরটি এতটাই ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে যে, তার মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

কালজানি ও দুধকুমারের কালো রূপ: বর্ষার আগেই নদীগর্ভে শতাধিক বাড়ি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
কালজানি ও দুধকুমারের কালো রূপ: বর্ষার আগেই নদীগর্ভে শতাধিক বাড়ি
কালজানি নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে পাড়ে বাস করা মানুষের ভিটেবাড়ি। তাদের কেউ ঘর বাঁচাতে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ নদীর নিষ্ঠুরতা দেখছেন। ছবিটি ভুরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ঢলডাঙ্গা এলাকা থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

বর্ষার আগেই কালজানি নদীর কালো রূপ দেখা দিয়েছে। নদীভাঙনে দিশেহারা কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর মানুষ। গত এক সপ্তাহে বিলীন হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ঢলডাঙ্গার শতাধিক বাড়ি। নদীগর্ভে যাচ্ছে আবাদি জমিও। হুমকিতে রয়েছে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা। নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদের পাড়ের এলাকার মানুষও একই আশঙ্কায় রয়েছেন। ভাঙন ঠেকাতে নদীপাড়ে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। তবে আতঙ্ক কাটছে না নদীপাড়ের বাসিন্দাদের।

জানা গেছে, উত্তর ধলডাঙ্গা এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন চলছে। এতে এলাকাটির প্রায় ৮০টি পরিবার ভিটে হারিয়েছে। দক্ষিণ ঢলডাঙ্গা এলাকায় ৩০টির বেশি বাড়ি নদীতে পড়ে গেছে। এই এলাকায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মিটার এলাকাজুড়ে নদী ভাঙছে। প্রতিদিন নতুন করে বাড়িঘর বিলীন হচ্ছে। 

স্থানীয়দের আবেদন পেয়ে গত শনিবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজীর রহমান ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ।

উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামের ময়েন উদ্দিন বলেন, ‘ভাঙনে জায়গা-জমি নদীতে গেছে। কেউ থাকার জন্য জায়গা দিতে চান না। তাই এখনো ঘর তুলতে পারি নাই।’ 

গোলজার হোসেন জানান, তারা তিনবার বাড়ি ভেঙেছেন। এবারও যেকোনো মুহূর্তে বাড়ি নদীত পড়ে যেতে পারে। নতুন করে ঘর তোলার জায়গা না থাকায় সরতে পারছেন না। 

একই এলাকার মনির হোসেন বলেন, ‘বাপ-দাদার ভিটে আগেই নদীত গেছে। অন্যের জমিতে এই বাড়িতে আছি। সেটিও চলে যাচ্ছে। আর উপায় নাই। কোথায় যাব?’

শিলখুড়ি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী বলেন, ‘বর্ষার আগেই নদী যেভাবে ভাঙছে, বর্ষা শুরু হলে এলাকাটি থাকবে না মনে হচ্ছে। গত এক বছরে ১০০ মিটারের বেশি ভেতরে এসেছে কালজানি নদী। এক হাজারের মতো পরিবার ভিটে হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডে বলেছি। তদন্ত করে গেছে। দ্রুত কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে। আশা করি কাজ শুরু হবে।’

বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী উত্তর ধলডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় ও এলাকার বউবাজারও নদীভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে বলে জানান সাবেক জনপ্রতিনিধি।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘নদীভাঙন প্রতিরোধে উত্তর ও দক্ষিণ ঢলডাঙ্গায় জরুরি কাজ শুরু হয়ে গেছে। অন্য ভাঙনকবলিত পয়েন্টগুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরপর বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।’

এদিকে বর্ষার আগেই দুধকুমার নদের পাড়ের অবস্থাও একই রকমের। নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের চরকাপনা এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও আবাদি জমি। ভাঙনের মুখে পড়েছে মাদ্রাসা, মসজিদ, বাজারসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে শনিবার বিকেলে নদী পাড়ে শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

চর আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহের মাস্টার বলেন, ‘বাড়িঘর যেভাবে ভাঙছে তাতে প্রাইমারি স্কুলটি এ বছরে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি না থাকলে এই এলাকার ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।’ 

এসব বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। আর যেন নতুন করে কেউ ভাঙনের শিকার না হন, সেই ব্যবস্থা করা হবে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হবে।’ 

প্রাথমিকভাবে দুই হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রয়োজনে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে।’