উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে নারীর টানে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর থেকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে যানবাহনের চাপ বাড়লেও গাড়ীর যানযট ও ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়নি।
এবার আশার খবর হলো টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের চারলেন নির্মাণ কাজ প্রায় ৯০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। চারলেন চালু ও রাস্তা অনেকটা প্রসস্থ হওয়াতে এবার ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা নেই সিরাজগঞ্জের ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে। পাশাপাশি যমুনা সেতু পশ্চিমপাড় মহাসড়কে নির্মিত সবগুলো উড়াল সেতুর ও হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের কয়েকটি সার্ভিস সড়কও চালু রয়েছে। বিগত ঈদের সময়ে এই মহাসড়কে দুইলেনের রাস্তা থাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে থাকতে হয়েছে যাত্রী ও চালকের কিন্তু এবার ঘরমুখী যাত্রীরা ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রতিবারের মতো এবারও ঘরমুখো মানুষের গলার কাটা হয়ে দাঁড়াতে পারে যমুনা সেতুর দুইলেনের টোল প্লাজা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে যমুনা সেতু হয়ে প্রতিদিন উত্তরের ১৬টি ও দক্ষিণের পাঁচটি জেলার প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। কিন্তু ঈদ এলে এই সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ফলে বিপুল সংখ্যক গাড়ি একসঙ্গে সেতু পার হতে গিয়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। এতে ভোগান্তির শিকার হন ঈদে ঘরমুখী মানুষ।
সাসেক-২ প্রকল্পের পিডি ড. মো. ওয়ালিউর রহমান বলেন, যমুনা সেতুর একপাড়ে ছয় লেন এবং অন্যপাড়ে চার লেনে গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু গাড়িগুলো যখন সেতুতে ওঠে তখন লেন কমে যায়। ফলে পেছনদিকে গাড়ি সারি দীর্ঘ হতে থাকে এবং যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যমুনা সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের টোলপ্লাজায় টোল আদায় যানবাহনের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও ফিটনেসবিহীন এবং লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে যানজট আরও বেড়ে যায়। ফলে দুই পাড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। গত ঈদে যমুনা সেতুর উপরে প্রায় ৬৩টি দূর্ঘটনা ঘটেছিল ফলে চরম বিরম্বনায় পড়েছিল চালক ও যাত্রীরা। টোলপ্লাজায় লেন বাড়ানোর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এই ঈদের পরে কাজ শুরু হতে পারে।
ঈদ যাত্রায় যমুনা সেতুর উপরে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। যমুনা সেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ হাজার ৪৪০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টাকা।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন দ্রুত রেসকিউ করার জন্য অতিরিক্ত রেসকিউ গাড়ি রাখা হয়েছে। ঝামেলা এড়াতে অতিরিক্ত লোকবলও নিয়োজিত রয়েছে।
এদিকে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, সোমবার দুপুর থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়েছে। যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে। যেহেতু গার্মেন্টস ও কলকারখানা এখনো ছুটি হয়নি তবে ছুটি হলে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাবে। যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে এ জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঈদযাত্রায় সড়কের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাসেক-২ প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের চার লেনের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সবগুলো লেনই চালু। পাশাপাশি হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের সার্ভিস সড়কগুলো দিয়ে যানবহন চলাচল করছে। ইন্টারচেঞ্জের ঢাকা থেকে বগুড়াগামী যে সড়ক রয়েছে সেটি এখন বন্ধ। তবে সেটি দ্রুতই খুলে দেওয়া হবে।ফলে এবার যানজট বা ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরবে ঘরমুখো মানুষ।’
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, মহাসড়কের কোথাও যানবাহন দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। জেলা পুলিশের বিপুল সংখ্যক পুলিশ বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছে।মহাসড়কে কোনো যানবাহন বিকল হলে সেটি দ্রুত সরিয়ে মহাসড়ক সচল করা হবে। সেইসঙ্গে প্রস্তুত থাকবে উদ্ধারকারী টিমও। মহাসড়কে ডাকাতি-ছিনতাই যেন না হয় সেজন্যও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শিশির/রিফাত/