নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নে বেললতা খাল পুনর্খনন উদ্বোধন করা হলেও বন্ধ রয়েছে কাজ। বিভিন্ন কারণে খনন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। অভিযোগ, লোক দেখানো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
সোমবার (১৬ মার্চ) ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
যদিও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা নিয়ে ওইদিনই কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তাছাড়া ভবিষ্যতে এভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন না করার জন্য তিনি কড়া নির্দেশ দেন।
নওগাঁ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাসখানেক আগে বেললতা খালের বেলগাপুর থেকে জুলুপাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মিটার খাল পুনর্খনন কাজের অনুমোদন হয়। ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির সঙ্গে মিল রেখে বিললতা খাল পুনর্খনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু কোদাল দিয়ে মাটি কেটে উদ্বোধন করেন। কিন্তু সেই খাল খনন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন- বেললতা খাল খননের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বড় পরিসরে আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী অন্যান্য আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ‘সেই আয়োজন ছিল অন্য একটি খালের পাড়ে। ফটোসেশন, লোকদেখানো ও সাজানো মাত্র’।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘বেললতা খালসহ ওই মাঠে আরও বেশ কয়েকটি খাল রয়েছে। দীর্ঘদিন সংষ্কার না করায় সেগুলোর অস্তিত্ব বিলীন হতে বসেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে ফসল ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। খড়া মৌসুমে সেচের অভাবে গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে চাষাবাদ করতে হয়। খালগুলো পুনর্খনন তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগের প্রশংসা করেন চাষিরা। তবে উদ্বোধন করা হলেও বিলের খনন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ‘উদ্বোধনী দিনেই খাল খননের জন্য ডালি-কোদালসহ সব প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু সবই ছিলো ফটোসেশনের জন্য।’
তিনি আরও বলেন, আর কিছুদিন পরেই বর্ষা মৌসুম আসবে। তখন বিল পানিতে থৈ থৈ করবে। ফলে খনন করতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী বছরের জন্য।
এ বিষেয়ে নওগাঁ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বদরুদ্দোজা খবরের কাগজকে বলেন, ‘খালের পাশের জমিতে বোরো ধানের আবাদ থাকায় এবং মাটি রাখার জায়গা না থাকায় খনন করা যাচ্ছে না। জমির মালিকদের সঙ্গে অফিসিয়ালি কন্টাক্ট হয়েছে, ধান কাটার পর খাল খনন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় বাসিন্দাদের সমিতির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হবে। ৭০ ভাগ কাটা হবে ভেক্যু মেশিনে। সমিতির সদস্যদের অংশীদারত্ব থাকবে ৩০ ভাগ।’
বেললতা খালের পাড়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন না করে অন্য একটি জায়গায় আয়োজন করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বেললতা খালটি মাঠের মাঝখানে। ফলে মন্ত্রীর যাওয়ার সমস্যার কথা চিন্তা করে রাস্তার পাশে অন্য একটি খালের পাড়ে আয়োজন করা হয়েছে।’
আবার ‘রাস্তায় কাঁদা এবং জেলা প্রশাসনের তরফে যা সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে সেভাবেই আয়োজন করা হয়েছে’ বলেও দাবি করেন তিনি।
শফিক ছোটন/অমিয়/